সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজধানীর কুড়িল-বিশ্বরোড গোলচত্বরে সচেতনতামূলক রোড-শো করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেল।আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ রোড-শোর নেতৃত্ব দেন বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেলের উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এ টি এম মইনুল হাসান। এ সময় সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরাপদে চলাচল, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।এ বছরের প্রতিপাদ্য‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতন করার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা তুলে ধরা হয়।সচেতনতামূলক প্রচারণায় গুরুত্ব নিরাপদ পারাপার ও ট্রাফিক আইন,রোড-শো চলাকালে নিরাপদে রাস্তা পারাপার, ফুটপাতের যথাযথ ব্যবহার, জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়া এবং গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় যাত্রীদের করণীয় সম্পর্কে প্রচারণা চালানো হয়। পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য তুলে ধরে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়।প্রচারণায় বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু চালকদের দায়িত্ব নয়; যাত্রী ও পথচারীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়া, চলন্ত যানবাহনে ওঠানামা না করা, ফুটপাত ব্যবহার করা এবং সড়কে অসতর্ক আচরণ পরিহার করা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সচেতনতা বাড়লেও বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করে নিয়মিত অনুশীলন, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর। শুধু দিবসভিত্তিক প্রচারণা নয়, প্রতিদিনের সড়ক ব্যবহারে আইন মানার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পথচারীদের নিরাপদ পারাপার, ফুটপাতের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক সংকেত মেনে চলার বিষয়গুলো, ধারাবাহিক ভাবে তদারক করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ, যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামা এবং পথচারীদের সচেতনতা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।কুড়িল-বিশ্বরোডের মতো ব্যস্ত এলাকায় এ ধরনের প্রচারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির একটি উদ্যোগ। তবে কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চালক ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সম্মিলিত দায়িত্ববোধ,সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের পাশাপাশি যাত্রী ও পথচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়টি রোড-শোর অন্যতম প্রধান বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত পারাপারের স্থান ব্যবহার এবং অন্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বিআরটিএর মাসব্যাপী কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ চলাচলের অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা।
এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে নিরাপদ সড়কের লক্ষ্য অর্জনে প্রচারণার পাশাপাশি কার্যকর তদারকি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সবার দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও জরুরি।