
সুমন খান:
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অবস্থিত আবাসিক হোটেল রংধনুকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, যেখানে মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কার্যকলাপ, নির্যাতন এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য চলছে প্রকাশ্যে।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন হোটেলটির মালিক শফিক, যিনি স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতার” বলয়ে থেকে বছরের পর বছর এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হোটেলের এক কর্মচারীকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সামান্য অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাকে হোটেলের ভেতরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়।ভিডিওতে দেখা যায়,একটি শাবল দিয়ে মাথা, পা ও বুকে আঘাত করা হচ্ছে অসহায় ওই কর্মচারীকে। জীবন বাঁচাতে বারবার ক্ষমা চাইলেও থামেনি নির্যাতন। তার আর্তচিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—
এ দেশে কি আইনের কোনো অস্তিত্ব নেই?সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা,ঘটনার অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হোটেল মালিক শফিক তার সহযোগী এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের নিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন।এতে স্পষ্ট হয়,ঘটনার সত্য প্রকাশ ঠেকাতে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের ‘নিরাপদ ঘাঁটি’স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেল রংধনু এখন কার্যত একটি ,অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু,যেখানে দিন-রাত চলছে মাদক লেনদেন, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা।একাধিক বাসিন্দা জানান,আমরা পরিবার নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারছি না। প্রতিদিন অচেনা লোকজন আসে, রাতে ভয়ঙ্কর পরিবেশ তৈরি হয়।সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ এই অপরাধচক্রের পেছনে রয়েছে প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের আশ্রয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য,নিয়মিত ‘মাসোহারা’ দিয়ে এই ব্যবসা চালানো হয়,বিভিন্ন সময় দায়িত্বে আসাকর্মকর্তাদেরও অর্থ প্রদান করা হয়েছে,কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নামও ঘুরে বেড়াচ্ছে,একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন,ওরা প্রকাশ্যেই বলে,এই থানায় কেউ কিছু করতে পারবে না, সব ম্যানেজ করা আছে!সংগঠিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত,আইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে,এই ঘটনায় যে বিষয়গুলো স্পষ্ট সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসা,কিশোর গ্যাংয়ের ব্যবহার,প্রকাশ্য নির্যাতন,মিডিয়াকে ভয় দেখানোর চেষ্টা,এসব মিলিয়ে এটি একটি সুপরিকল্পিত সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্কের চিত্র তুলে ধরে। স্থানীয়দের দাবিতে উত্তাল এলাকা এলাকাবাসী দ্রুত পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো,হোটেল রংধনুতে জরুরি অভিযান, মালিক শফিক ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, কিশোর গ্যাং নির্মূল,সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত,
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র উত্তরা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে এ ধরনের ভয়াবহ অভিযোগ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়,এটি পুরো নগরীর আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন। প্রশাসন কি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে এই ‘অপরাধ সাম্রাজ্য’ ভেঙে দিতে পারে, নাকি সবকিছু আগের মতোই অন্ধকারে ঢাকা পড়ে থাকবে?
Leave a Reply