
মোঃ তারিকুল ইসলাম খান
নববর্ষ উপলক্ষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। তাঁর এই বক্তৃতা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বক্তৃতার শুরুতেই তিনি মহান নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর সংগ্রামী জীবন ও আদর্শের কথা স্মরণ করেন। এরপর তিনি গত দুই মাসে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন। বক্তৃতার শেষাংশে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে থাকা নানা গুজব ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যে “জুলাই সনদে” স্বাক্ষর করেছে, তা বাস্তবায়নে দল অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিচ্যুতি হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তির ভিত্তিতে মতামত গ্রহণ ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।
সংসদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদল নিজেদের মতামত চাপিয়ে দিতে চায়, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। তিনি স্পষ্ট করেন, সংস্কার কমিশনে বিএনপি তাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে এবং জনগণের কাছেও তা অবহিত করেছে।
এছাড়া “জুলাই সনদ” নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতেই বিএনপি এই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং এর প্রতিটি ধারা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, এক সময় বিএনপি সরকারকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বর্তমানে আবার কিছু গোষ্ঠী দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ব্যক্তি নয়, অপরাধের জন্য দল হিসেবেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সবসময় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
শেষে তিনি দেশবাসীকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
Leave a Reply