সুমন খান:
রাজধানীর বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-২ সার্কেলকে ঘিরে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি গভীর চিত্র। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া যেন এখন নির্ভর করছে দক্ষতার উপর নয়, বরং টাকার উপর ,এমন অভিযোগ উঠেছে একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মোহাম্মদ রুহুল আমীন এবং মোটরযান পরিদর্শক সালে আহমেদ। তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।পরীক্ষায় পাস নয়, টাকাই নির্ধারণ করছে ফলাফল,অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রাকটিক্যাল, ভাইভা ও রিটার্ন পরীক্ষায় প্রকৃত দক্ষতার কোনো মূল্য নেই। অনেক প্রার্থী নিয়ম মেনে সব ধাপ সম্পন্ন করার পরও ফেল হচ্ছেন।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,পরীক্ষা ভালো দিয়েও ফেল করেছি। পরে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পর একই ব্যক্তি সহজেই পাস হয়ে যায়।অভিযোগ রয়েছে, দালালদের মাধ্যমে ‘প্যাকেজ’ আকারে সব কিছু সমাধান করা হয়—প্রাকটিক্যাল, ভাইভা, রিটার্ন এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইকরণ পর্যন্ত।দালাল সিন্ডিকেট মাধ্যমে অফিসের ভেতর-বাইরে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক,সরেজমিনে জানা গেছে, বিআরটিএ অফিসের আশপাশে সক্রিয় রয়েছে একটি সুসংগঠিত দালাল চক্র। তারা পরীক্ষার্থীদের ঘিরে ধরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখায় এবং ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে।একাধিক সূত্র জানায়, এই দালালরা শুধু বাইরে নয়, অফিসের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি হয়ে উঠেছে একটি ‘সিস্টেমেটিক দুর্নীতির চক্র’।ভয় ও নীরবতার সংস্কৃতি,অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ, অভিযোগ করলে ভবিষ্যতে সেবা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে তাদের মধ্যে।একজন পরীক্ষার্থী বলেন,আমরা প্রতিবাদ করতে পারি না। করলে পরবর্তীতে কোনো কাজই হবে না। তাই বাধ্য হয়েই অনেকেই টাকা দিচ্ছে।জননিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি , এই ধরনের অনিয়ম শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, এটি সরাসরি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। অযোগ্য চালকদের লাইসেন্স দেওয়া হলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যেতে পারে।সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে,যে ব্যক্তি সঠিকভাবে গাড়ি চালাতে জানে না, সে যদি লাইসেন্স পেয়ে যায় ,তাহলে তা শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যদের জন্যও বিপজ্জনক।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন,অভিযোগের এত বিস্তার থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এই অনিয়ম কি প্রশাসনের চোখের আড়ালে, নাকি নীরব সম্মতিতে চলছে?দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি,সচেতন নাগরিক, ভুক্তভোগী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন,একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে,অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে
দালালমুক্ত, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে লাইসেন্স প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।বিআরটিএ’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে যদি অনিয়ম ও দুর্নীতি এইভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, তবে তা রাষ্ট্রের সেবা ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করবে।এখন সময় এসেছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার,নইলে ‘টাকা দিলেই পাস। নয়তোবা রূপ অন্যদিকে নিতে পারে বলেই অনেকেই মনে করেন,
(পর্ব ১) বিস্তারিত দ্বিতীয় পর্ব দেখার জন্য ও পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।
Leave a Reply