
সুমন খান:
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের ফুটপাত দখল সমস্যার বিরুদ্ধে আবারও মাঠে নেমেছে ট্রাফিক বিভাগ। জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর-১৪ ভাষানটেক এলাকায় পরিচালিত হয় বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান।ডিসি ট্রাফিক মিরপুর জনাব মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, পিপিএম-বার মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
উচ্ছেদে ফের স্বস্তি ফুটপাতে অভিযানের সময় ফুটপাত জুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, দোকানের বর্ধিতাংশ ও বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়। এতে দীর্ঘদিন পর কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পান পথচারীরা।
এছাড়া, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ৬টি দোকানকে মোট ৬৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এডিসি ট্রাফিক মিরপুর,এসি ট্রাফিক পল্লবী,এসি পেট্রোল পল্লবীসহ ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দখল যেন এক চক্র,স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিরপুরের অধিকাংশ ফুটপাতই দিনের বিভিন্ন সময়ে দখল হয়ে থাকে।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হকারদের দখলে থাকে ফুটপাত দোকানিরা দোকানের সামনে অতিরিক্ত জায়গা দখল করে রাখে,রাতে নতুন করে বসে অস্থায়ী দোকান ফলে, অভিযান শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও দখল হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় হাঁটছেন,যানজট বাড়ছে কয়েকগুণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছেপ্রতিনিয়ত,বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বড় ঝুঁকির কারণ।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,অভিযান হলে ভালো লাগে, কিন্তু কয়েকদিন পর আবার আগের মতো হয়ে যায়। স্থায়ীভাবে কিছু করা দরকার।আরেকজন পথচারীর ভাষ্য,ফুটপাত যদি দখলমুক্ত না থাকে, তাহলে আমাদের চলাচলই সবচেয়ে কষ্টকর হয়ে যায়।কেন থামছে না দখল?উঠে এসেছে কয়েকটি কারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প স্থানের অভাব,নিয়মিত তদারকির ঘাটতি স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া দীর্ঘদিনের অনিয়মের সংস্কৃতি প্রশাসনের অবস্থান,সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অবস্থাতেই অবৈধ দখল সহ্য করা হবে না। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে,হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জোন তৈরি করা জরুরি,নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে,কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে,জনসচেতনতা বাড়াতে হবে,মিরপুরে এই অভিযান পথচারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এলেও, বাস্তবতা বলছে,শুধু অভিযান নয়, দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কঠোর বাস্তবায়ন।নগরবাসীর প্রত্যাশা,ফুটপাত ফিরুক তার প্রকৃত মালিকের কাছে,আর রাজধানী হোক চলাচলবান্ধব, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ।
Leave a Reply