বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
Title :
নাগেশ্বরীর নাওডাঙ্গা বিলের উপর ব্রিজটির বেহাল দশা, দেখার যেন কেউ নাই ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজীব আহমেদ রানার তীব্র প্রতিবাদ নববর্ষের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় বার্তা—“জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবেই” আশুলিয়া থেকে ডাকাতি হওয়া বিপুল পরিমান চাল ও ট্রাক উদ্ধার সহ গ্রেফতার (০১) এক। বিআরটিএতে দুর্নীতির ছক উন্মোচন: আলোচনায় দুই কর্মকর্তা রুহুল আমীন ও সালে আহমেদ উজিরপুরে নিষিদ্ধ ‘শাপলা পাতা’ মাছ বিক্রি গৌরনদীতে প্রকাশ্যে পরিবেশ দূষণ, দেখার যেন কেউ নেই বানারীপাড়ায় নদীতে ভাসছিলো স্কুল শিক্ষার্থীর লাশ ছিনতাইকারীদের কবলে বিক্রয় প্রতিনিধি, সর্বস্ব লুট পুলিশ থেকে বাঁচতে ইয়াবা গিলে অচেতন মাদক কারবারি

দেশে তেল আছে, নেই শুধু সততা-কৃত্রিম সংকটে ক্ষুব্ধ জনতা

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৫ Time View

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী:

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের অভিযোগে সাধারণ মানুষ যখন ভোগান্তিতে পড়ছেন, ঠিক তখনই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন-দেশে জ্বালানি সংকটের চেয়ে বড় সংকট এখন সততা ও নৈতিকতার।
ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, অনেক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে “অকটেন নেই” বা “তেল শেষ” এমন কথা শুনে ফিরে যেতে হচ্ছে। কিন্তু একই স্টেশনের ভেতরে বা গোপন সংরক্ষণাগারে হাজার হাজার লিটার তেল মজুত থাকার ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা এখন যেন এক ধরনের নতুন কৌশলে পরিণত হয়েছে। চাহিদা বেশি দেখিয়ে সরবরাহ সীমিত রাখার মাধ্যমে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা-এমন অভিযোগ বহুদিনের। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ:
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে তেল গোপন করে রেখে বাজারে সংকটের আবহ তৈরি করেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়েন, তেমনি পরিবহন খাতেও অস্থিরতা তৈরি হয়।
একজন ভোক্তার ভাষায়, “পাম্পে গিয়ে বলা হয় তেল নেই, কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখা যায় অন্য গাড়িতে তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে মনে হয় কোথাও না কোথাও গোপন মজুত আছে।”
এই ধরনের পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি বাজার ব্যবস্থাপনার প্রতি মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান:
কিছু স্থানে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে গোপনে মজুত রাখা তেল উদ্ধার করেছে। অভিযানে কয়েকজনকে জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—এই অনিয়মের পেছনে কারা রয়েছে এবং পুরো নেটওয়ার্কটি কতটা বিস্তৃত।
অনেকেই মনে করছেন, শুধু মাঠপর্যায়ে কয়েকজন কর্মচারীকে শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংকট কি তেলের, নাকি নৈতিকতার?
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি না থাকলেও বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে সাধারণ মানুষকে তার মূল্য দিতে হয়।
তাদের মতে, সমস্যা তেলের অভাব নয়; বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফার মানসিকতা।

জনমনে প্রশ্ন:
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে—
ফিলিং স্টেশনগুলোতে গোপনে তেল মজুত রাখার সুযোগ কেন থাকে?
তদারকি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
কৃত্রিম সংকট তৈরির পেছনে বড় কোনো চক্র কাজ করছে কি না?

কঠোর নজরদারির দাবি:
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও সচেতন মহল বলছে, জ্বালানি খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এখানে নিয়মিত নজরদারি, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে এমন ঘটনা বন্ধ করা কঠিন।
তাদের মতে, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে শুধু জ্বালানি নয়, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম সংকটের প্রবণতা কমবে।

শেষ কথা:
জ্বালানি তেলের এই গোপন মজুতের ঘটনা অনেককে মনে করিয়ে দিচ্ছে-দেশে হয়তো জ্বালানি সংকট নেই, কিন্তু নৈতিকতার সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। আর এই সংকট দূর করতে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন কঠোর জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি আর তেলের দাম কমিয়ে দিলেই সিন্ডিকেট সমস্যা সমাধানের পথ উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

লেখক : প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের
সাংবাদিক, কলামিস্ট, বিশ্লেষক, কবি ও উপন্যাসিক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025
Design By Raytahost
dailydhakaralo