বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন
Title :
নাগেশ্বরীর নাওডাঙ্গা বিলের উপর ব্রিজটির বেহাল দশা, দেখার যেন কেউ নাই ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজীব আহমেদ রানার তীব্র প্রতিবাদ নববর্ষের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় বার্তা—“জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবেই” আশুলিয়া থেকে ডাকাতি হওয়া বিপুল পরিমান চাল ও ট্রাক উদ্ধার সহ গ্রেফতার (০১) এক। বিআরটিএতে দুর্নীতির ছক উন্মোচন: আলোচনায় দুই কর্মকর্তা রুহুল আমীন ও সালে আহমেদ উজিরপুরে নিষিদ্ধ ‘শাপলা পাতা’ মাছ বিক্রি গৌরনদীতে প্রকাশ্যে পরিবেশ দূষণ, দেখার যেন কেউ নেই বানারীপাড়ায় নদীতে ভাসছিলো স্কুল শিক্ষার্থীর লাশ ছিনতাইকারীদের কবলে বিক্রয় প্রতিনিধি, সর্বস্ব লুট পুলিশ থেকে বাঁচতে ইয়াবা গিলে অচেতন মাদক কারবারি

পিরোজপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর

  • Update Time : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৪ Time View

পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৪ নং চিড়াপাড়া ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় তানিয়া বেগম নামের এক প্রতিবন্ধী নারীর বসতঘর একই এলাকার হীরা ইউপি সদস্য আজিজুল ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর করে লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার(২৪ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী তানিয়া বেগম।

ভুক্তভোগী তানিয়া বেগম জানান, ২০১৬ সালে ভূমিহীন হিসেবে কাউখালী উপজেলার চিড়াপাড়া ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের কচা নদীর পাড়ে ২১ শতাংশ জমি সরকার থেকে তাকে বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০২৩ সালে তিনি সেখানে একটি বসতঘর গড়ে তোলেন। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরে এলাকার হীরা, আজিজুল(ইউপি সদস্য), হিরন সহ অন্যান্য বেশ কয়েকজন সরকার কর্তৃক বরাদ্দ দেয়া জায়গার মালিকানা দাবি করে আসছে এবং এ জায়গা থেকে চলে যাওয়ার জন্য প্রায়ই হুমকি দিয়ে আসছে তানিয়াকে। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার ভুক্তিভোগী তানিয়া বেগমের পরিবারের সদস্যদের মারধর করারও অভিযোগ রয়েছে। গত ২৪ মার্চ সোমবার বিকেলে তানিয়ার বসত ঘর ভাঙচুর করে সেখান থেকে স্বর্ণালংকার সহ অন্যান্য মালামাল লুটপাট করার অভিযোগ তুলেছেন হীরা আজিজুল সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী তানিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী তার বসতঘর ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে আছে। ভুক্তভোগী তানিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনাস্থলে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনা স্থলে গেলে ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছে, এ খবর শুনেই হীরা আজিজুল সহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তাদের কাছে ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির কথা বলেন তানিয়া বেগম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

উভয়পক্ষের সাথে কথা বলার পরে সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে কিছুক্ষণ পরে তানিয়ার ননদ নিলুফা বেগম ফোন করে সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ওই এলাকার সাইফুলের বাড়িতে তানিয়া এবং তার শ্বশুর শাশুড়িকে আটকে রাখে। এ খবর শুনা মাত্রই সাংবাদিকেরা ওই বাড়িতে গিয়ে সত্যটা যাচাই করতে গিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে এবং সাইফুলের বাড়ি থেকে দরজা খুলে তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে। সাইফুল এর বাড়িতে তখন হীরাও উপস্থিত ছিল, তার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাইফুলের সাথে তিনি জরুরি প্রয়োজনে কথা বলতে এসেছেন। এরপরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পরে ওই এলাকার অন্য একটি বাড়িতে তাদেরকে আবার অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে তানিয়ার ননদ নিলুফা বেগম ৯৯৯ ফোন করে কাউখালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদেরকে উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী তানিয়া কাউখালী উপজেলার ৪ নং চিড়াপাড়া ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের ফিরোজ খানের স্ত্রী
অভিযুক্ত হীরা একই এলাকার ফরিদ মিরের ছেলে এবং আজিজুল(ইউপি সদস্য) একই এলাকার আব্দুর রবের ছেলে।

ভুক্তভোগী তানিয়া বলেন, ২০২৩ সালে এই ঘরটি উঠাইছি কিন্তু এর আগে এখানে কাউকে দেখা যায়নি। এখন হঠাৎ করে এসে আমার ঘর ভাঙচুর করেছে। জরুরী প্রয়োজনে আমার শ্বশুরের সাথে কাউখালী গিয়েছিলাম আমি না আসলেও আমার শ্বশুর এখানে এসে দেখে তারা আমার বাড়ি ঘর ভাঙচুর করছে। ঘর ভাঙচুর করার আগের দিন আমার শ্বশুরকে তারা মারধর করেছে। ভাঙচুর করে আমার ঘর থেকে স্বর্ণ নিয়ে গিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। তারা এই জমির মালিকানা দাবি করে কিন্তু কি কারনে তা জানি না।

তানিয়ার শশুর মোফাজ্জেল খান বলেন, রবিবার আমাকে অনেক মারধর করেছে হিরা আজিজুল এবং তার লোকজন। পরের দিন আমি আমার ছেলের বউকে নিয়ে কাউখালীতে গিয়েছি সেখান থেকে আমি একা বাসায় এসে দেখি তারা ঘর দুয়ার ভাঙচুর করছে। আমি তাদের সাথে কোন কথা না বলে এখান থেকে চলে যাই। কারণ তাদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা আবার আমাকে মারধর করবে। তারা আমাদের এখানে থাকতে দেবেনা প্রায়ই মারধর করে এবং হুমকি দেয়। তারা এই জায়গা দাবি করে কিন্তু এতদিন তাদেরকে দেখিনি হঠাৎ করে এসে তাদের জায়গা দাবি করছে কিন্তু আমার কাছে এই জায়গার সকল কাগজপত্র আছে। সরকার থেকেই আমার ছেলের বউ ভূমিহীন হিসেবে পেয়েছে।

এ বিষয়ে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025
Design By Raytahost
dailydhakaralo