
নিজস্ব প্রতিবেদক:
একটা দৃশ্য কল্পনা করুন—
জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে, এক মা দাঁড়িয়ে। পাশে তার তিন সন্তান। হাতে কোনো ফুলের তোড়া নেই, বড় কোনো মিছিল নেই, নেই কোনো শক্তিশালী মঞ্চ। আছে শুধু কিছু বিশ্বাস, কিছু স্লোগান, আর নিজের মতো করে ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা।
তার নাম তাহমিনা আক্তার।
তিনি কোনো বড় নেতা নন, আলোচিত মুখও নন। নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন “তৃণমূল কর্মী” হিসেবে। আজ ২৬ মার্চ—একটা প্রতীকী দিন। সেই দিনেই তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে হাজির হয়েছেন স্মৃতিসৌধে, নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে শ্রদ্ধা জানাতে।
তারপর?
একটা স্লোগান—“জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।”
আর তার পরেই—পুলিশি হেফাজত।
প্রশ্নটা এখানেই।
একজন মা, তিনটি শিশু, আর কিছু স্লোগান—এটা কি আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি?
নাকি আমরা এমন এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে “কে কী বিশ্বাস করবে” সেটাও নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে?
রাজনীতি তো শুধু ক্ষমতার খেলা না, এটা মানুষের বিশ্বাস, আবেগ, ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্ক।
কিন্তু যখন সেই বিশ্বাস প্রকাশের জায়গাটাও সংকুচিত হয়ে যায়, তখন প্রশ্নটা ব্যক্তি না—সময়কে ঘিরেই ওঠে।
এই ঘটনার সবচেয়ে শক্তিশালী দিকটা কী জানেন?
তাহমিনা একা আসেননি। তিনি তার সন্তানদের সঙ্গে এনেছেন। হয়তো তিনি চেয়েছিলেন তাদের দেখাতে—ইতিহাস কী, শ্রদ্ধা কী, নিজের অবস্থান কীভাবে জানাতে হয়।
কিন্তু তারা কী দেখলো?
মায়ের স্লোগান, আর তারপর মাকে নিয়ে যাওয়া।
এই গল্পে রাজনীতি আছে, আইন আছে—
কিন্তু তার চেয়েও বেশি আছে এক ধরনের নীরব প্রশ্ন:
আমরা কি ভিন্ন মতের জায়গা রাখতে পারছি? নাকি আমরা ধীরে ধীরে শুধু “অনুমোদিত কণ্ঠ” শুনতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি?
আপনি কী ভাবছেন?
Leave a Reply