
গোলাম মোস্তফা:
পিরোজপুর নেছারাবাদ স্বরূপকাঠির রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব ছাড়া বর্তমান সংগঠনকে কল্পনা করাই কঠিন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই যেন সেই স্মৃতিগুলোকে আড়াল করে ফেলছেন। এমন বাস্তবতারই এক জীবন্ত উদাহরণ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ পিরোজপুর-২ আসনসহ নেছারাবাদের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই নেতা। যার প্রমাণ মিলেছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। মানুষের ভালোবাসা থেকে তিনি এক চুলও পিছিয়ে যাননি—তার অসুস্থতার খবরে হাজারো মানুষের দোয়া ও উদ্বেগ তারই প্রমাণ নেছারাবাদের রাজনীতিতে ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ কেবল একজন নেতা নন, তিনি মাটি ও মানুষের নেতা, সাধারণ মানুষের নয়নের মণি। তবে তার পাশাপাশি প্রয়াত অধ্যক্ষ এম এ হাকিম, আকরামুল ইসলাম বাবুল, ইসমাইল হোসেন মোল্লা সহ আরও বহু ত্যাগী নেতার অবদানও সমানভাবে স্মরণীয়। যারা এই রাজনৈতিক সংগঠনকে দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।প্রায় তিন দশক ধরে প্রতিকূলতার মধ্যেও নেছারাবাদে বিএনপির রাজনীতির হাল ধরে রেখেছেন ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ। ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে তার উজ্জ্বল নেতৃত্ব, পরবর্তীতে যুবদলের সভাপতি, টানা তিনবার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন—সব মিলিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন এক সংগ্রামী অধ্যায়ের প্রতিচ্ছবি।শুধু নেতৃত্ব নয়, তার হাত ধরেই গড়ে উঠেছে হাজার হাজার নেতা-কর্মী, যারা আজ বিভিন্ন পর্যায়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুঃসময়ে, দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি পিছিয়ে যাননি। এমনকি শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও সংগঠনকে সুসংগঠিত রেখে পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপিকে একটি সংসদ সদস্য উপহার দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।তবে বর্তমানে তার অসুস্থতার সময়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। যাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত তার হাত ধরে গড়ে উঠেছে, তাদের অনেকেই আজ নীরব। এই নীরবতা শুধু ব্যক্তিগত অকৃতজ্ঞতা নয়, বরং এটি একটি অমানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।রাজনীতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মূল্যবোধ, কৃতজ্ঞতা ও মানবিকতা। একজন নেতা যখন ক্ষমতায় থাকেন, তখন তাকে ঘিরে ভিড় করা সহজ; কিন্তু দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনৈতিক চরিত্রের পরিচয়। ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদের বর্তমান অবস্থা সেই প্রশ্নই সামনে নিয়ে এসেছে,আমরা কি সত্যিই একটি মূল্যবোধসম্পন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পেরেছি?এই পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে তাদের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে—সুসময়েই নয়, দুঃসময়েও। কারণ ইতিহাস সাক্ষী যে সংগঠন তার প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের সম্মান দিতে জানে না, সে সংগঠন দীর্ঘমেয়াদে তার ভিত্তি হারায়।নেছারাবাদের রাজনীতিতে ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদের অবদান শুধুমাত্র একটি নাম নয়, এটি একটি ইতিহাস, একটি অধ্যায়। সেই অধ্যায়কে ভুলে যাওয়া মানে নিজের শিকড়কে অস্বীকার করা। এখনই সময়,অতীতের প্রতি সম্মান জানিয়ে মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার।পুরোনো ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতাকর্মীরা আজ বিভিন্ন পদে রয়েছেন তারা সবই জানেন, কঠিন সময়ের প্রকৃত সৈনিক কারা ছিলেন। তাই ইতিহাসকে অস্বীকার করার চেষ্টা না করে, বাস্তবতাকে স্বীকার করাই হবে প্রজ্ঞার পরিচয়।
Leave a Reply