• বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
Headline
ছাতকে-দোয়ারাবাজার সীমান্তে দিয়ে রাতভর ঢুকছে ভারতীয় গরু মহিষ। ক্ষতিগ্রস্থ খামারিরা নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করলেন নতুনধারার শান্তা ফারজানা রামিসাসহ সকল ধর্ষণ-খুন ও হামের টিকা সংকটে মৃত্যুর বিচারের দাবিতে কাফন মিছিল ও সমাবেশ হিজলায় নৌকাডুবি,বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিখোঁজ ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে আটক ৩, উদ্ধার কোরবানির পশুভর্তি পিকআপ বরিশালে মহাসড়কে পরিবহনের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন নিহত বরিশালের গোয়াল ঘরে বজ্রপাতে পাঁচটি গরুর মৃত্যু ঘুষ ও আটকের রমরমা বানিজ্যে আবার শিরোনাম হলেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই দেলোয়ার বানারীপাড়ায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৫ হাজার দরিদ্র পরিবারের মাঝে ব্যারিষ্টার সাইফের শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ বানারীপাড়ায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৫ হাজার দরিদ্র পরিবারের মাঝে ব্যারিষ্টার সাইফের শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ

ছাতকে-দোয়ারাবাজার সীমান্তে দিয়ে রাতভর ঢুকছে ভারতীয় গরু মহিষ। ক্ষতিগ্রস্থ খামারিরা

Reporter Name / ৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ছাতক দোয়ারাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দোয়ারাবাজার সীমান্ত পেরিয়ে আসা এসব পশু ছাতকের সুরমা সেতু হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত নামলেই সীমান্তজুড়ে শুরু হয় গরু-মহিষের চালান আনার উৎসব, যা এখন অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’-এ পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এসব পশু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পরে বোগলাবাজার, নরসিংপুর বাজার সহ এই উপজেলার একাধিক বাজারের রশিদ সংগ্রহ করে ভারতীয় পশুকে দেশীয় গরু হিসেবে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এরপর সেগুলো দেশের বিভিন্ন পশুরহাটে ছড়িয়ে পড়ছে।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া, পেঁকপাড়া, ঝুমগাঁও, মোকামছড়া, ভোগলা ইউনিয়নের বাগানবাড়ি, গাছগড়া, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া ও মাঠগাঁও, বাশতলা সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত একাধিক দলে ভাগ হয়ে গরু-মহিষ সীমান্ত পেরিয়ে আনা হয়। পরে ট্রাকযোগে সেগুলো ছাতকের সুরমা সেতু পার হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর কম দামে বিক্রি হওয়া এসব গরুর জন্য বাজার থেকে রশিদ সংগ্রহ করা হয়। রশিদ দেখালেই গরুগুলো বৈধ হয়ে যায়। এর পেছনে বড় ধরনের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

একাধিক খামারি বলেন, ভারতীয় গরুর অবাধ প্রবেশে স্থানীয় খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এভাবে ভারতীয় পশু প্রবেশ অব্যাহত থাকলে দেশীয় পশু খামার শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সীমান্ত থেকে গরু আনা হয়। ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রতি গরু প্রতি ৫০০ টাকা দিয়ে ভারতীয় গরু দেশের অভ্যন্তরে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, অনেক সময় পুলিশের চেকপোস্টের সামন দিয়েই গরুভর্তি ট্রাক চলাচল করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

চোরাই সিন্ডিকেটের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার কারণেই সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছাতকের সুরমা সেতু দিয়ে ভারতীয় গরু মহিষ ভর্তি ট্রাক যাওয়ার ভিডিও দিতেছে অনেকেই। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “ভারতীয় গরু যেন দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। গরু চেক করে আমরা দিচ্ছি সবকটি গরুর রশিদ আছে বাংলাবাজার বোগলাবাজার, নরসিংপুর বাজার
কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) শেখ মুহাম্মদ মুরসালিন বলেন, “ছাতক ও দোয়ারাবাজার থানাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো বাজারে চোরাই গরু প্রবেশ করতে না পারে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তিন দিন ধরে অভিযান পরিচালনা করছি।
সীমান্তের বিষয় বিজিবি এখতিয়ার ভুক্ত কিন্তু তাদের সাথে যোগাযোগ করে কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা