• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন
Headline
ক্যান্সার, অকাল মেনোপজ ও কয়েক দশকের লড়াই: যেভাবে হিমায়িত ডিম্বাশয় টিস্যু থেকে জন্ম নিল এক সুস্থ শিশু দান–সদকা কোথায় করবেন, কোথায় করবেন না পেট্রলপাম্প থেকে তেল নিয়ে পালাচ্ছিলেন দুজন, পাঁচ কিলোমিটার ধাওয়া করে আটক গণিতের অমীমাংসিত সমস্যা: তিনটি ঘনসংখ্যার যোগফল গ্যাস না থাকা ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার শিল্পায়নে বাধা রসে ভরপুর আখের নাম 'ব্ল্যাক রুবি', এর বৈশিষ্ট্য কী সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি উত্তরা দিয়াবাড়ীতে পর্যটনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা দখলের অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি বাংলাদেশ ব্যাংক, ভূমিসেবা ও ৬ ব্যাংকের ওয়েবসাইট এখনো বন্ধ উজিরপুরে যুবদল কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা

গ্যাস না থাকা ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার শিল্পায়নে বাধা

Reporter Name / ০ Time View
Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আম, কৃষি ও সীমান্ত বাণিজ্যের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও ঋণের উচ্চ সুদহার, গ্যাস-সংকট ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব নিয়ে কথা বলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন।চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কী? কোন কোন খাত এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?আবদুল ওয়াহেদ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতিতে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রবাসী আয় ও সীমান্ত বাণিজ্যের বড় ভূমিকা রয়েছে। এই জেলায় স্থলবন্দর ও রেলবন্দর আছে। মৌসুমি ফল আমের জন্যও সুখ্যাতি রয়েছে। এই জেলা থেকে বছরে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকার আম বিভিন্ন জায়গায় যায়। ধান–চালসহ সব মিলিয়ে কৃষি উৎপাদনে আমরা উদ্বৃত্ত অবস্থায় আছি। পাশাপাশি এখানকার প্রায় ৯০ হাজার মানুষ বিদেশে কাজ করেন। তাঁদের পাঠানো প্রবাসী আয়ও এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।এত কিছু থাকার পরও এ জেলায় শিল্পায়ন সেভাবে হচ্ছে না কেন?আবদুল ওয়াহেদ: এ ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হলো ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার এবং গ্যাস না থাকা। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণে বড় কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে তা যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, সেভাবে হচ্ছে না। এখানে আমসহ পেয়ারা, ড্রাগন, কলা—এসব ফলও প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এসব ফল প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।আমাদের সীমান্ত ও রেল যোগাযোগের বড় সুবিধা আছে। এই সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও সীমান্ত বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।এখানকার ছোট ব্যবসায়ীদের প্রধান সমস্যা হলো ব্যাংকঋণের সুদের হার বেশি। ফলে সুদের চাপে ছোট ব্যবসায়ীরা খেলাপি হয়ে পড়ছেন। তাই সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনা উচিত।বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে নতুন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ কোথায় দেখছেন?আবদুল ওয়াহেদ: আমরা আমনুরায় কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছি। এখানে রেলওয়ের জংশন আছে। ফলে এখানে কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার ভালো সুযোগ আছে। রেলপথে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে সাশ্রয়ী খরচে কাঁচামাল আনা যাবে এবং উৎপাদিত পণ্য এসব দেশে পাঠানো সম্ভব। এ ছাড়া রেলপথ ব্যবহার করে মোংলা বন্দর দিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করা যায়। আমনুরায় কৃষিভিত্তিক ইপিজেড হলে ৩০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষিত ও বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হতে পারে।রহনপুর রেলবন্দরের কী অবস্থা? সেখানে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন?আবদুল ওয়াহেদ: রহনপুরকে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হলে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাড়বে।সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কী করা দরকার?আবদুল ওয়াহেদ: সোনামসজিদ স্থলবন্দরের উন্নয়নে প্রায় ৩২০ কোটি টাকার সাসেক প্রকল্প সরকারের বিবেচনায় আছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের সক্ষমতা অনেক বাড়বে। একই সঙ্গে সোনামসজিদ থেকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ করতে হবে। এতে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে।চাঁপাইনবাবগঞ্জে তরুণ ও নারীরা কী ধরনের উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন?আবদুল ওয়াহেদ: তরুণদের মধ্যে ব্যবসা–বাণিজ্য ও ছোটখাটো কৃষি উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তাঁরা অটোমোবাইল ওয়ার্কশপও গড়ে তুলছেন। এই জেলায় প্রায় এক হাজার নারী উদ্যোক্তা আছেন। তাঁদের মধ্যে ৬০–৭০ জন নারী উদ্যোক্তা বেশ ভালো করছেন।চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতিতে গতি আনতে কী করা যেতে পারে?আবদুল ওয়াহেদ: আমরা চাই, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের উন্নয়ন, রহনপুর রেলবন্দরের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার, আমনুরায় কৃষিভিত্তিক ইপিজেড স্থাপন এবং সোনামসজিদ–হাটিকুমরুল চার লেন সড়ক নির্মাণসহ বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো হোক। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা