• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন
Headline
সীতাকুণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা, উচ্ছেদ না করেই ফিরে গেলেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকরা কী ধরনের অভিযোগ করছেন? কাউকে ভয় পেতে আসিনি—আসিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ নিয়ে হামজা ‘আমাদের জন্য প্রীতি ম্যাচ বলে কিছু নেই’: ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আনচেলত্তি মন খুশিতে ভরে গেছে মাহমুদের, সাফল্য ধরে রাখতে চায় রুমানা আপনার শিশু নিখোঁজ হলে বা হারিয়ে গেলে কী করবেন? ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে দিনরাত ব্যস্ততা, নরসিংহপুর এলাকায় চলছে কর্মযজ্ঞ ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার নির্মাণকাজ চলছে,নিশ্চিন্তপুর এলাকায় দিনরাত চলছে নির্মাণকাজ নদী ভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন মিয়ারচরের বাসিন্দারা :ধ্বসে পড়ার শঙ্কায় স্কুলে যাতায়াতের পথ এই ছোট্ট ৭ অভ্যাসই পারে দাম্পত্য জীবনে সুখ এনে দিতে

সীতাকুণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা, উচ্ছেদ না করেই ফিরে গেলেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা

Reporter Name / ১ Time View
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জোড়আমতল এলাকায় রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দাদের বাধার মুখে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ সময় উচ্ছেদে যাওয়া রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে বাসিন্দাদের আরও এক মাস সময় দিয়ে অভিযান না চালিয়েই ফিরে যান রেলওয়ের কর্মকর্তারা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেললাইনের পুরোনো সেতু ইয়ার্ড এলাকায় এ অভিযান চালাতে যায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে তাঁদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও বসবাসের জায়গা হারানোর পর তাঁরা রেলওয়ে কলোনি এলাকায় বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর সেখানে বসবাস করলেও সরকার তাঁদের জায়গা বন্দোবস্ত দেয়নি। কয়েক দিন আগে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও এ ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁরা এবার গুরুত্ব দেননি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এলাকায় মাইকিং করা হয়। আজ সকালে বিপুলসংখ্যক পুলিশ নিয়ে উচ্ছেদে আসা হয়।আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, তাঁদের নিজস্ব জায়গা-সম্পদ নেই। উচ্ছেদ করা হলে তাঁরা কোথায় যাবেন, তা জানেন না। ক্ষতিপূরণ না দিলে তাঁরা জায়গা ছাড়বেন না।সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ সদস্যরা জোড়আমতল বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। এরপর বেলা ১১টার দিকে রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী অন্যান্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। তিনি স্থানীয়দের এলাকাটি খালি করার নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তিনি স্থানীয় ১০ জন প্রতিনিধি ডেকে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে বৈঠক করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন ক্ষতিপূরণসহ তিন মাস সময় চান। তিনি এক মাস সময় দিয়ে অভিযান শেষ করেন।বৈঠতে থাকা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইফতেখার আহম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, রেলওয়ে কলোনিতে প্রায় ৩০০ ভূমিহীন পরিবার বসবাস করে। তাঁদের মধ্যে কেউ রেলের সাবেক কর্মচারী এবং কেউ ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি হারানো মানুষ। গতকাল রাতে মাইকিং করে আজ সকালে উচ্ছেদে আসা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। পরে তাঁরা রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়া রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ঘিরে ধরে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন বাসিন্দারাইফতেখার আহম্মদ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ছিল, উচ্ছেদ করতে হলে তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং অন্তত ছয় মাস সময় দিতে হবে। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁদের এক মাস সময় দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করে ফিরে যায়।রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরীর সই করা ৭ সেপ্টেম্বরের একটি উচ্ছেদ নোটিশে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের রেলওয়ের জমি থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়।এ বিষয়ে জানতে মো. খোরশেদ আলম চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে পুলিশ সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযানে গিয়েছিলেন। পরে অভিযান স্থগিত করা হয়। বাসিন্দারা উচ্ছেদের আগে ক্ষতিপূরণসহ তিন মাস সময় চেয়েছিলেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁদের এক মাস সময় দিয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই বলে উচ্ছেদে আসা রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা