• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
Headline
খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ১০ মাসে ৭১ খুন, পেছনের কারণ কী ইসরায়েলে ভোট চলছে, কেন্দ্রে কেন আরব ভোটারদের ভিডিও করছে নেতানিয়াহুর দল দ্বিতীয়বার খোলা হলো লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স, কত টাকা পাওয়া গেল সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন কাঠামোয় বাড়তি বেতন রোববার, অনেকের বেতন নির্ধারণে জটিলতা পিএইচপি কী, এই ত্রুটিতে কী হয়? আয়ারল্যান্ডে ড্রাইভিং থিওরি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাংলা অ্যাপ ও বই অস্ট্রেলিয়ার ভিসানীতিতে কড়াকড়ি: বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের করণীয় কী পত্রিকা: 'প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসভবনের দায়িত্বে আ'লীগপন্থী কর্মকর্তারা' সকালেই পড়ুন আলোচিত ৫ খবর ছাত্র আন্দোলন কীভাবে সার্বিয়ার ভুচিচের ১৪ বছরের ক্ষমতার পতন ঘটাল

অস্ট্রেলিয়ার ভিসানীতিতে কড়াকড়ি: বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের করণীয় কী

Reporter Name / ৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যায় বার্ধক্য, দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিবাসন অপরিহার্যঅস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে অভিবাসন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অভিবাসন ও ভিসানীতিতে বিভিন্ন সংস্কার, বিশেষত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন, অভিবাসী জনগোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে অনিশ্চয়তা, হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এসব উদ্বেগ অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্নও সামনে আসে, অভিবাসীরা কি শুধু অস্ট্রেলিয়ায় প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেবেন, নাকি এসব সুযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে? অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যায় বার্ধক্য, দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিবাসন অপরিহার্য। তবে অভিবাসনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবদান স্বীকার করার অর্থ এই নয় যে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অভিবাসননীতি অপরিবর্তিত থাকতে হবে।অভিবাসননীতিতে সংস্কার কেন প্রয়োজন—অর্থনৈতিক, জনমিতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভিবাসননীতির সংস্কার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যেকোনো সরকারের দায়িত্ব হলো জাতীয় স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও অভিবাসনব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক সংস্কারগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার মান ও ভিসাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং অস্থায়ী অভিবাসনের সুযোগের অপব্যবহার প্রতিরোধ করা।২০২৪ সালের মার্চে ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ বা প্রকৃত শিক্ষার্থীসংক্রান্ত শর্ত চালুর পর শিক্ষার্থী ভিসার কিছু আবেদনপদ্ধতিতে আরও পরিবর্তন এসেছে। এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের আকাঙ্ক্ষাকে এমন প্রচেষ্টা থেকে পৃথক করা, যেখানে শিক্ষার্থী ভিসাকে মূলত কর্মসংস্থান বা দীর্ঘদিন অবস্থানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।এসব সংস্কারের ফলে কিছু প্রকৃত আবেদনকারীও অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন। তবে অভিবাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করা যায় না। কারণ, একটি গ্রহণযোগ্য অভিবাসনব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক সুনামের পাশাপাশি প্রকৃত শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখে।আন্তর্জাতিক শিক্ষা: জ্ঞানার্জন, নাকি অভিবাসনের মাধ্যম—অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতে কর্মরত শিক্ষক হিসেবে আমরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান প্রত্যক্ষ করি। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে সমৃদ্ধ করেন। অসংখ্য শিক্ষার্থী আন্তরিকতার সঙ্গে পড়াশোনা করেন, আর্থিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেন এবং পরবর্তী সময়ে দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন কিছু আচরণ নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেই ভর্তির ভিত্তিতে ভিসা পেলেন। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর তিনি অপেক্ষাকৃত কম খরচের অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হলেন।প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা কোনো অনৈতিক কাজ নয়। আর্থিক অসুবিধা, শিক্ষার উপযোগিতা কিংবা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে একজন শিক্ষার্থীর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে। কিন্তু নৈতিক প্রশ্ন দেখা দেয় তখনই, যখন প্রথম প্রতিষ্ঠানে প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনা করার কোনো ইচ্ছাই ছিল না; ভর্তি হওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কেবল অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা।এ ধরনের আচরণ প্রকৃত শিক্ষার্থীদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং দায়িত্বশীল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।একইভাবে কিছু শিক্ষার্থী পড়াশোনার তুলনায় কর্মসংস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় বিবেচনায় পড়াশোনার পাশাপাশি অনুমোদিত সীমার মধ্যে কাজ করা সম্পূর্ণ বোধগম্য। কিন্তু যখন কাজ করাই প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় এবং শিক্ষা গ্রহণ কেবল অবস্থানের একটি আনুষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন শিক্ষার্থী ভিসার মৌলিক উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়।শিক্ষার্থী ভিসার প্রধান উদ্দেশ্য শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া; বিকল্প কর্মসংস্থান ভিসা হিসেবে কাজ করা নয়। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা এজেন্ট—সবারই দায়িত্ব রয়েছে।ভিসা আবেদন, আপিল ও আইনি ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা—অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা প্রত্যাখ্যান বা বাতিলের কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আইনি সুযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বৈধ আপিলের অধিকার প্রয়োগ এবং কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি ভিত্তি ছাড়া কেবল অবস্থানের সময় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রক্রিয়াগত সুযোগের অপব্যবহার এক বিষয় নয়।ভিসার নতুন আবেদন, ব্রিজিং ভিসা কিংবা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অধিকার নির্দিষ্ট আইনগত শর্তের অধীন। তাই এসব প্রক্রিয়া ব্যবহার করলেই অনির্দিষ্টকাল অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়।সমাধান হলো প্রকৃত আবেদনকারীদের আপিলের অধিকার সংকুচিত করা নয়; বরং ন্যায়সংগত, দ্রুত ও ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইচ্ছাকৃত অপব্যবহার নিরুৎসাহিত করা।একটি বিশ্বাসযোগ্য অভিবাসনব্যবস্থায় আবেদনকারীর অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা—উভয়ই সুরক্ষিত থাকা প্রয়োজন।স্বাগতিক দেশের আইন ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধা—অভিবাসন বিষয়ে একটি সহজ নীতির কথা মনে রাখা প্রয়োজন। আমরা যখন কারও বাড়িতে অতিথি হিসেবে যাই, তখন সেই বাড়ির নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার প্রত্যাশা থাকে। আতিথেয়তা গ্রহণের পাশাপাশি নিজেদের সুবিধামতো সব নিয়ম পরিবর্তনের দাবি করা যুক্তিসংগত নয়।আন্তর্জাতিক অভিবাসনের ক্ষেত্রেও কিছুটা একই নীতি প্রযোজ্য, যদিও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যক্তিগত বাড়ির তুলনার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব আইন ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার আওতায় কে দেশটিতে প্রবেশ, পড়াশোনা, কাজ কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন, তা নির্ধারণ করার সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। যাঁরা স্বেচ্ছায় এসব সুযোগ গ্রহণ করেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট শর্তগুলোও মেনে চলা উচিত।তবে আইন মেনে চলার অর্থ সরকারি নীতির সমালোচনা করার অধিকার ত্যাগ করা নয়। অস্ট্রেলিয়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, গঠনমূলক সমালোচনা এবং আইনসম্মতভাবে নীতি পরিবর্তনের দাবি জানানো নাগরিক ও সামাজিক অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দিক।সুতরাং ন্যায়সংগত নীতির পক্ষে কথা বলা এবং ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য প্রচলিত আইন অমান্যের প্রত্যাশা করা—এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।অভিবাসী সমাজ, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব—অভিবাসননীতির পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার এবং নতুন অভিবাসীদের সচেতন করার ক্ষেত্রে প্রবাসী সংগঠন, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা এজেন্ট ও প্রতিষ্ঠিত অভিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।অভিবাসনসংক্রান্ত আলোচনায় কখনো কখনো হতাশা, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অবাস্তব প্রত্যাশা প্রাধান্য পায়। প্রতিটি নীতিগত পরিবর্তনকে অভিবাসীবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন না করে প্রবাসী নেতৃত্বের উচিত সঠিক তথ্য প্রদান, আইন মেনে চলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা এবং গঠনমূলক আলোচনায় উৎসাহ দেওয়া।আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তাঁদের ভিসার শিক্ষাগত উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। অস্থায়ী কর্মীদের কর্মসংস্থান ও ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। একইভাবে সম্ভাব্য অভিবাসীদেরও বাস্তবসম্মত যোগ্যতা ও আইনি সুযোগ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। ভিসানীতির পরিবর্তন সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান, প্রকৃত আবেদনকারীদের প্রতারণা থেকে সুরক্ষা এবং যথাসময়ে স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কেমন শিক্ষাব্যবস্থা চাই? ভিসা আবেদনের সিদ্ধান্তে দীর্ঘসূত্রতা প্রকৃত শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। এর ফলে তাঁরা বিকল্প গন্তব্য হিসেবে অন্য দেশকে বেছে নিতে পারেন। একইভাবে নীতির স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা প্রচলিত নিয়মের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও শিক্ষাগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য যুক্তিসংগত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত।বাংলাদেশ সরকারেরও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়ন ও দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষায় দুই দেশের সরকারের মধ্যে নিয়মিত ও গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে ভিসানীতির পরিবর্তন, আবেদনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সমস্যা এবং দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসনের সম্ভাবনা তুলে ধরতে পারে।এ ধরনের আলোচনার উদ্দেশ্য অস্ট্রেলিয়ার সার্বভৌম অভিবাসননীতিতে হস্তক্ষেপ করা নয়; বরং পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যায্যতা ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশ হাইকমিশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।২০২৪ সালের মার্চে ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ বা প্রকৃত শিক্ষার্থীসংক্রান্ত শর্ত চালুর পর শিক্ষার্থী ভিসার কিছু আবেদনপদ্ধতিতে আরও পরিবর্তন এসেছে। এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের আকাঙ্ক্ষাকে এমন প্রচেষ্টা থেকে পৃথক করা, যেখানে শিক্ষার্থী ভিসাকে মূলত কর্মসংস্থান বা দীর্ঘদিন অবস্থানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অননুমোদিত ও প্রতারণামূলক অভিবাসন এবং শিক্ষা পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কিছু অসাধু মধ্যস্থতাকারী বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা স্থায়ী বসবাসের অবাস্তব নিশ্চয়তা দিয়ে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে। কেউ কেউ ভিসার শর্ত, প্রকৃত ব্যয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা অভিবাসনের বাস্তব সম্ভাবনা সম্পর্কে অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য প্রদান করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে।এর ফলে শুধু আবেদনকারীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না; আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রকৃত শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীদের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।এ সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় অননুমোদিত কার্যক্রম শনাক্ত করা, প্রতারণার অভিযোগ কার্যকরভাবে তদন্ত করা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে শিক্ষা ও অভিবাসনসংক্রান্ত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।একই সঙ্গে সরকারি উদ্যোগে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তির ব্যবস্থা, অনুমোদিত সেবাদাতাদের পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ এবং সম্ভাব্য শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। বৈধ শিক্ষা পরামর্শ ও প্রতারণামূলক অভিবাসনসেবার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করাও জরুরি।এভাবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহযোগিতা, দায়িত্বশীল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সচেতন আবেদনকারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা একটি অধিকতর স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।টেকসই অভিবাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ—অস্ট্রেলিয়াকে মেধাবী শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী, গবেষক ও পরিবারগুলোর জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে ধরে রাখতে হবে। অতিরিক্ত কঠোর কিংবা অনিশ্চিত নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত, দক্ষ অভিবাসন এবং দেশটির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।অভিবাসন সংস্কারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা; প্রকৃত আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করা নয়।বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক এলাকাগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নর্দার্ন টেরিটরির মতো অঞ্চলে দক্ষ কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়। চার্লস ডারউইন ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি স্থানীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অবদান রাখে। তাই জাতীয় ভিসাব্যবস্থার মান বজায় রেখেও আঞ্চলিক চাহিদাগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে যে ১০ বিদেশি ভাষা শিক্ষা এগিয়ে রাখবে আপনাকে পরিশেষে অভিবাসনব্যবস্থার স্থায়িত্ব নির্ভর করে পারস্পরিক আস্থার ওপর। অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক সহযোগিতা জোরদার এবং প্রতারণামূলক মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে অভিবাসীদেরও সংশ্লিষ্ট আইন, শর্ত ও দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসী প্রয়োজন, আর অভিবাসীদের প্রয়োজন সুযোগ। এই পারস্পরিক সম্পর্ক টেকসই করতে সংঘাত কিংবা শর্তহীন আনুগত্য নয়; প্রয়োজন জবাবদিহি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায়সংগত নীতি এবং সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা।লেখক: শিক্ষক ও গবেষক। বর্তমান কর্মস্থল: চার্লস ডারউইন ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া। সাবেক অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর, বাংলাদেশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা