
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় ক্রমবর্ধমান কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে পুলিশের আয়োজিত ‘ওপেন হাউজ ডে’-তে। স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণে এই আয়োজন একপ্রকার অনুসন্ধানমূলক জনমত জরিপে রূপ নেয়, যেখানে এলাকার বাস্তব সমস্যা সরাসরি তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ মোস্তাক সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সালেহ মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং দারুস সালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ইমদাদুল হক বিপুল। সভাপতিত্ব করেন শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।অভিযোগে উঠে এলো উদ্বেগজনক চিত্র,ওপেন হাউজে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, শাহ আলী থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। কিছু এলাকায় বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে আসে।বক্তারা বলেন, “অপরাধীরা অনেক সময় আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।প্রধান অতিথির বক্তব্য: কঠোর অবস্থানের ঘোষণা,প্রধান অতিথি মোঃ মোস্তাক সরকার তার বক্তব্যে বলেন,মিরপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। কিশোর গ্যাং, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আপনারা যে তথ্য ও অভিযোগ দিয়েছেন, সেগুলো আমরা গুরুত্বসহকারে যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।তিনি আরও বলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয় এটি সমাজের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে তাদের সন্তানরা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াবো এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবো।পুলিশ-জনগণ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব,বিশেষ অতিথিরাও বক্তব্যে পুলিশ ও জনগণের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। তারা জানান, অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের তথ্য ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সভাপতির বক্তব্যে ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, থানার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আরও জোরদার অভিযান চলবে।ওপেন হাউজ ডে-তে উঠে আসা অভিযোগগুলো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে, মিরপুরের কিছু এলাকায় সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এখন দেখার বিষয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতিশ্রুত পদক্ষেপ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তা কতটা কার্যকরভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
Leave a Reply