
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুর জোনে বেড়ে চলা যানজট, অবৈধ পার্কিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পরিচালিত হয়েছে একটি বিশেষ অভিযান, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।বিশেষ এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সেলিম রেজা। তার সঙ্গে ছিলেন মিরপুর-১ এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আল আমিন এবং টিআই আসাদ। তাদের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে পুরো মিরপুর জোনজুড়ে একযোগে তৎপরতা চালানো হয়।সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কগুলোতে নিয়ম না মেনে গাড়ি পার্কিং, ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের চলাচল এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে সময়োপযোগী ও জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।অভিযান চলাকালে যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে লাইসেন্সবিহীন চালক, ফিটনেসহীন যানবাহন এবং সড়ক দখল করে পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হয়।এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মোট ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক চালককে সতর্ক করে ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। ট্রাফিক কর্মকর্তারা জানান, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সচেতনতা বাড়ানোও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই অভিযানের ফলে এলাকায় যানজট কিছুটা কমেছে এবং সড়কে শৃঙ্খলার ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে তারা এ ধরনের অভিযান নিয়মিত ও আরও জোরদার করার দাবি জানান, যাতে এই সুফল স্থায়ী হয়।ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীর সড়ক ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলায় আনতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি চালক ও সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
Leave a Reply