বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
Title :
মেলেনি প্যারোলে মুক্তি, ছাত্রলীগ নেতা শাহরুখের সাথে জেলগেটে দেখা করতে গেলো মৃত বাবা বানারীপাড়ায় রাজুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের অভিযোগ, হামলার শিকার বাবা ছেলে। উজিরপুরে এসএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি: যুবককে এক বছরের কারাদন্ড নিপীড়ন বিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের কমিটি গঠন নারায়ণগঞ্জের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আসামি ইউসুফ (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ কালিয়াকৈর পৌর সভা নির্বাচনে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র পদপ্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ, প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি মিরপুরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ: শাহ আলী থানার ওপেন হাউজে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বরিশালে এবার ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের অর্থ কেলেংকারি ফাঁস! শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজধানীর উত্তরায় মদের বারে নারী পুরুষসহ আটক ১৪০ জন

কুমিল্লা ইশ্বর পাঠশালা ছাত্রাবাস: অপরাধের অভয়ারণ্য

  • Update Time : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৯৭ Time View

অনুসন্ধনী প্রতিবেদক, জুয়েল খন্দকার :-

কুমিল্লা শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইশ্বর পাঠশালা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসলেও এর ছাত্রাবাসকে ঘিরে উঠেছে উদ্বেগজনক নানা অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন মহল এবং অবিভাবকদের দাবি—এই ছাত্রাবাস এখন আর কেবল শিক্ষার্থীদের আবাসস্থল নয়; বরং এটি ধীরে ধীরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই ছাত্রাবাস থেকেই কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন কিশোর গ্যাং পরিচালিত হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় কিশোর অপরাধী চক্রগুলোর নেতৃত্ব এবং পরিকল্পনা এই ছাত্রাবাস থেকেই নির্ধারণ করা হয়। এতে করে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়মিত মাদক বেচাকেনার অভিযোগও উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থী পরিচয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি এখানে অবস্থান করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

তাছাড়াও ইশ্বর পাঠশালা ছাত্রাবাস এর ভেতরে একটি জিমনেসিয়াম রয়েছে, সেখান ব্যায়ামের উছিলায় বিভিন্ন বড় বড় মাদক ব্যবসায়ি ও কিশোর গ্যাং লিডাররা এখানে নিয়মিত আসা যাওয়া করে তাদের মাদক ব্যবসা ও কিশোর অপরাধের গ্রুপ গুলো নির্বিঘ্নে পরিচালনা করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, কুমিল্লা শহরে সংঘটিত বিভিন্ন ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা এই ছাত্রাবাস থেকেই করা হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিভিন্ন অপরাধী দল এখানে জড়ো হয়ে পরিকল্পনা করে এবং পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষে দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র মজুদ থাকার অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষ বা কোনো ধরনের হাঙ্গামার সময় এসব অস্ত্র বের করে ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিভাবকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে তাদের সন্তানদের ওই ছাত্রাবাসে রাখা নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন অভিযোগ কেবল কুমিল্লা নয়, পুরো দেশের জন্যই উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025
Design By Raytahost
dailydhakaralo