• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
Headline
বন্দিতালিকায় দুজনের নাম থাকলেও শাস্তির তথ্য কেন ঊহ্য রাখা হলো, প্রশ্ন ঢাকার উত্তাল ফ্রান্স, কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি জুনে সিএনএন ছাড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর সরকার পতন নয়, অবাধ নির্বাচন চাই: বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সঙ্গে তুলনার জবাবে শশী থারুর ৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, মব সহিংসতায় ১৮৭: এইচআরএসএস আফগানিস্তানের কাছে ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হারল জিম্বাবুয়ে আখড়াবাড়ি থেকে বোমা উদ্ধারে ‘জনশূন্য’ শেষ দিনের আয়োজন রাতে ‘গুজব’, সকালে ‘পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’, দুপুরে ‘স্বেচ্ছায় অব্যাহতি’: ইশরাকের যত বক্তব্য নিরাপত্তার জন্য দ্বিতীয় অস্ত্রটি সহকর্মীর কাছে রাখতে দিই: ইশরাক পিপিপিতে পরিচালিত হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইল, নীতিগত অনুমোদন

গ্রেপ্তার এড়াতে ভিন্ন সিম ও ফোন ব্যবহার করছিলেন প্রধান আসামি আমিনী

Reporter Name / ১০ Time View
Update : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।দেবহাটা সার্কেল, কালীগঞ্জ থানা, দেবহাটা থানা ও এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন)-৬-এর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে আমিনীকে গ্রেপ্তার করেন। গত মঙ্গলবার দেবহাটায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শামীমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি দেবহাটার সুবর্ণাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।সাতক্ষীরায় যুবককে পিটুনি, হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার মারধর, পরে মৃত্যুদেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন আজ রোববার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, গোপন সংবাদ ও প্রযুক্তির সহায়তায় আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর নিজস্ব মুঠোফোন সঙ্গে ছিল না। তিনি অন্য সিম ও মুঠোফোন ব্যবহার করছিলেন। ওই সিম ব্যবহার করে একজনের সঙ্গে নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলেন। যোগাযোগের সূত্র ধরেই তাঁকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এখনো উল্লেখযোগ্য তথ্য মেলেনি। আজ আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এতে আমিনীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত শুক্রবার ভোরে পুলিশ এজাহারভুক্ত ৫ ও ৬ নম্বর আসামি মোক্তার হোসেন খান (৫৩) ও আসাদুল ইসলাম মোল্যাকে (৪৬) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। ওসি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।শামীমের ছোট ভাই তাওসিফ রহমান বলেন, ‘প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের খবরে আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। এখন আমাদের একটাই চাওয়া, আমার ভাইয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, রাষ্ট্র যেন তার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে। প্রচলিত আইন ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হোক। পাশাপাশি আমার ভাইয়ের দুই এতিম সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকার যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়।’মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তাওসিফ বলেন, ২ ও ৩ নম্বর আসামি কামরুল গাজী ও সাদিকুলকে গ্রেপ্তার করা হলে এ ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন এবং কারা মূল ভূমিকা পালন করেছেন, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাঁর দাবি, কামরুল গাজী পুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তবে সাদিকুলের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত নন।দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইমদাদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, জামায়াত এ ধরনের সহিংসতা সমর্থন করে না।মামলায় ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি কামরুল গাজীর নাম আসার বিষয়ে জানতে চাইলে ইমদাদুল হক বলেন, তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁর দাবি, কামরুল গাজী ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাঁর নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলেও দাবি করেন ইমদাদুল হক।নিহত শামীমের পরিবার জানায়, শামীম দীর্ঘদিন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত সোমবার তাঁর ও স্ত্রীর বাগ্‌বিতণ্ডার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর তাঁর বাড়িতে হামলার চেষ্টা হয় এবং স্থানীয় একটি বাজারে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে তিনি বিষপান করেন বলে পরিবার জানিয়েছে। স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক মো. সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা চলাকালে পরদিন শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর করেন। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়।দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর শতাধিক লোক ওয়ার্ডে ঢুকে শামীমকে আবার মারধর করেন। আনসার সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মীরা থামাতে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালের কয়েকটি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সব ফুটেজ দেখা সম্ভব হয়নি। পুলিশ এখনো তাঁদের কাছে ফুটেজ চায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফুটেজ সংরক্ষণের চেষ্টা করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা