নিজস্ব প্রতিবেদক |
রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম থানা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ‘হোয়াইট ব্রিজ’ নামের ওই হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ জানিয়ে দারুস সালাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুলাল আহমেদকে ফোন করেন এক সাংবাদিক। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।সাংবাদিকদের দাবি অভিযোগ জানানোর প্রায় ১০ মিনিট পর তাঁরা হোটেলের লিফটসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানকালে বোরকা পরা সাত থেকে আটজন নারীকে একে একে নিচে নেমে আসতে দেখেন। এরপর হোটেলের মালিক, ম্যানেজারসহ আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন বলে তাঁদের ভাষ্য।ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে ,অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারল না কেন? অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে হোটেলের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেত কি না, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।দুই ঘণ্টা পর পুলিশের তল্লাশি
সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ জানানোর প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হোটেলে তল্লাশি চালায়। তবে তাঁদের দাবি, তল্লাশির সময় কোনো আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি।এখানেই দেখা দিয়েছে মূল প্রশ্ন,অভিযোগ জানানোর পর পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্বের কারণ কী ছিল? তল্লাশির আগে হোটেলের ভেতরের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।পুলিশের সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশের অভিযোগ?স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, ওই আবাসিক হোটেলের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে পুলিশের কিছু সদস্যের যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হোটেলটির কার্যক্রম, অতিথিদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়, সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর সময় ও পরবর্তী পদক্ষেপ খতিয়ে দেখা জরুরি।জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি
আবাসিক হোটেলে আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের সাড়া দিতে বিলম্ব হলে তার কারণও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করাই হওয়া উচিত তদন্তের লক্ষ্য।এ বিষয়ে দারুস সালাম থানার ওসি দুলাল আহমেদের বক্তব্য এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
প্রশ্ন একটাই অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নিল কেন? বিলম্বের পেছনে কী কারণ ছিল, নাকি পুরো ঘটনায় রয়েছে অন্য কোনো ব্যাখ্যা? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য।