রাজধানীর মিরপুর দারুসসালাম থানা এলাকায় লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর অভিযোগকারী বিপ্লব হোসেনের বিরুদ্ধেই লেগুনা স্ট্যান্ডগুলো এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।সম্প্রতি দারুসসালাম থানায় বিপ্লব হোসেনের দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়, কয়েকজন ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের সমিতির নিবন্ধিত লেগুনা থেকে গাড়িপ্রতি প্রতিদিন ৩৫০ টাকা করে অবৈধভাবে আদায় করছিলেন। একই সঙ্গে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।তবে স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনার ভিন্ন একটি চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও সমিতির নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।স্থানীয় কয়েকজন পরিবহন শ্রমিকের ভাষ্য, দারুসসালাম মাজারের অপর পাশের স্ট্যান্ডসহ আশপাশের কয়েকটি লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।সিসিটিভি ফুটেজে হাতাহাতির দৃশ্য,ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন ব্যক্তিকে একটি স্থানে দাঁড়িয়ে কথা কাটাকাটি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার দৃশ্যও ফুটেজে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনায় নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়।তবে সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি অভিযোগ পাল্টা,অভিযোগ,অভিযোগের বিপরীতে প্রতিপক্ষের লোকজনের দাবি, বিপ্লব হোসেনের স্থায়ী ঠিকানা গোপালগঞ্জে এবং তিনি বর্তমানে সাভারের রাজাশন এলাকায় বসবাস করেন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির সহযোগিতা নিয়ে তিনি দারুসসালাম ও মিরপুর এলাকার বিভিন্ন লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।তাদের আরও দাবি, নিজেদের লোকজনকে রক্ষা করতে বিপ্লব হোসেন ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অন্যদিকে বিপ্লব হোসেনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তাদের সমিতির নিবন্ধিত লেগুনা থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করে আসছিল এবং সমিতির কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছিল। তিনি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।পুলিশের বক্তব্য,ঘটনার বিষয়ে দারুসসালাম থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানায়, এলাকায় এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছে। তবে লিখিত অভিযোগ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত ঘটনা,পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ, সমিতির নেতৃত্ব এবং অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ দ্রুত নিরসন না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। অভিযোগগুলো কতটা সত্য এবং কারা প্রকৃতপক্ষে চাঁদাবাজি বা স্ট্যান্ড দখলের সঙ্গে জড়িত তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।এদিকে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।