মোঃ রাসেল সরকার:
রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আওয়ামীপন্থী অংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকে আটক করেছে পুলিশ। আজ ২৬/০৯/২০২৬ দুপুরের দিকে জাসদের একটি নিষিদ্ধ লীগের সভা চলাকালে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার সাথে আরও অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়ার সময় আবু জাফর সূর্য নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন যে তিনি পেশাগত কাজেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই দাবি নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি প্রভাবশালী সাংবাদিক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তখন পত্রিকা ও টেলিভিশনের লাইসেন্স বাণিজ্যের সাথে তার জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তাকে মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে বা পেশাগত কার্যক্রমে সক্রিয় দেখা যায়নি। এমতাবস্থায়, হঠাৎ করে ইনুর দলের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত রাজনৈতিক সভায় তার উপস্থিতি কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালন ছিল—নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গোপন রাজনৈতিক অভিসন্ধি ছিল, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রাজনীতি বর্তমানে নিষিদ্ধ। হাসানুল হক ইনুর দল জাসদ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতার অংশীদার ছিল। ফলে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইনুসহ ১৪ দলের শরিক দলগুলোর ভূমিকা ও তাদের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়েও দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে এ ধরনের গোপন বা রুদ্ধদ্বার সভা করার প্রচেষ্টাকে অনেকেই আইনের বরখেলাপ হিসেবে দেখছেন।
আজকের এই ঘটনায় সরাসরি মাঠে এসে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তৎপরতা প্রতিহত করতে এবং জাসদ কার্যালয়ে তাদের গুপ্ত সভা থেকে আটকাতে যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও পল্টন থানা যুবদল নেতাকর্মীদের সাহসী ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। সাধারণ জনগণের মতে, ফ্যাসিবাদী শক্তির যেকোনো ধরনের গোপন পুনরুত্থান রুখে দিতে এ ধরনের সতর্ক অবস্থান অত্যন্ত জরুরি।
গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, আবু জাফর সূর্যের মতো সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা নতুন কিছু নয়। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে যারা অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং স্বৈরাচারী দোসর হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা অত্যন্ত আবশ্যক। একই সাথে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের রাজনৈতিক অপতৎপরতা কঠোরহস্তে দমন করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সচেতন নাগরিক সমাজের তৎপরতা অব্যাহত রাখা উচিত।