• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন
Headline
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী ..তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের অপচেষ্টা দমন করা হবে: এমরান সালেহ প্রিন্স উজিরপুরে আদালতের মাধ্যমে একমাত্র ছেলেকে ত্যাজ্য করলেন বাবা বিশেষ সংবাদ: রিমান্ডে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, আদালতকে জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা বিশেষ সংবাদ: স্যাটে ১৬০০–এর মধ্যে ১৫৯০ পাওয়া প্রত্যয় কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বিশেষ সংবাদ: বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা’ নিয়ে ময়মনসিংহ বন্ধুসভার পাঠচক্র বিশেষ সংবাদ: আশুলিয়ায় বিস্ফোরণ: অপরাধজনক নরহত্যার মামলা দায়ের রাজপথের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক একরাম চৌধুরী এবার মিরপুর থানা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক বিশেষ সংবাদ: 'সংক্ষিপ্ত অন্তর্বাস পরে অ্যাকশন দৃশ্য কেন করব?': খোলামেলা লুকে বোল্ড চরিত্রের জন্য পরিচিত অভিনেত্রীর প্রতিবাদী প্রশ্ন

মিথ্যা তথ্য ও স্ট্যাটাসকো অমান্য করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ: কালবেলার প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ

Reporter Name / ৬৪ Time View
Update : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া মৌজায় আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেটের জমি নিয়ে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে কালবেলায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, প্রতিবেদনে মামলার প্রকৃত অবস্থা ও আদালতের আদেশ যথাযথভাবে যাচাই না করে একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তাদের মতে মানহানিকর।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিলেট ডিভিশনে বিচারাধীন এবং সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আদালতের আদেশ ও স্ট্যাটাসকো বহাল রয়েছে। তাদের অভিযোগ, আদালতের নথি ও মামলার বর্তমান অবস্থান যথাযথভাবে যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে প্রতিবেদনের তথ্যের উৎস ও আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিভ টু আপিল নং ১৫২১/২০২১-সংক্রান্ত মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করেই সংবাদ প্রকাশ করা উচিত ছিল। আদালতের বিচারাধীন কোনো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য, মামলার নথি এবং সর্বশেষ আদেশ যাচাই না করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির সিএস, এসএ ও সিটি রেকর্ড আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেটের নামে রয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, ২০১৫ সালে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ার পরও বিভিন্ন দাগে ‘ক’ ও ‘খ’ ব্লক, দুয়ারীপাড়া মৌজায় কিছু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা তারা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন।
তাদের অভিযোগ, এ নিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভবনের প্ল্যান অনুমোদন বন্ধ করেছে এবং কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনকে নোটিশও দিয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও নথিপত্রের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ জমিতে দখল ও বরাদ্দের চেষ্টা চলছে। তারা দাবি করেন, কয়েকজন প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে নামে-বেনামে ডেভেলপারদের কাছে জমি বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া এবং সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে তারা জানান।
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগের একটি অংশে ‘সাংবাদিক ইমন’-এর নামও এসেছে। তাদের দাবি, প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তির বক্তব্য বা অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে ওই ব্যক্তির ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এবং জমি দেওয়ার কথা বলে প্রায় ২২ কাঠা জমি দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে উপযুক্ত দলিল বা প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, সাংবাদিক ইমনের কাছে একাধিকবার বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হলেও তাদের দাবি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক দলিল উপস্থাপন করা হয়নি। অন্যদিকে, যেসব প্লট নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো নিজেদের বৈধ প্লট বলে দাবি করছে আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেটের সংশ্লিষ্টরা।
তাদের প্রশ্ন, আদালতে বিচারাধীন এবং স্ট্যাটাসকো-সংক্রান্ত বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে সব পক্ষের বক্তব্য ও আদালতের সর্বশেষ আদেশ যাচাই না করে কোনো গণমাধ্যম কীভাবে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের বক্তব্যকে ভিত্তি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
এ ঘটনায় কালবেলার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকদের প্রতি ভুক্তভোগীদের আহ্বান—প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য, আদালতের নথি, সরকারি রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশ করা হোক।
তারা বলেন, সাংবাদিকতার মূলনীতি হলো সত্য, নিরপেক্ষতা ও তথ্যের যথাযথ যাচাই। কোনো বিচারাধীন মামলায় এক পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যদি সত্যিই ভুল, বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর তথ্য থেকে থাকে এবং তা সংশোধন করা না হয়, তাহলে তারা প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও প্রতিবেদকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
তবে এ বিষয়ে কালবেলা কর্তৃপক্ষ, প্রতিবেদক সানাউল্লাহ হক সানি, জাফর ইকবাল, সাংবাদিক ইমন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, জমির মালিকানা, বরাদ্দ, অধিগ্রহণ বাতিল, আদালতের স্ট্যাটাসকো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অভিযোগ—সবকিছুই আদালতের নথি ও সরকারি রেকর্ডের আলোকে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা