রাজধানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেট ‘সি’ ব্লক এবং সংলগ্ন সাততলা বস্তি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকের আড়ালে মাদক ও ‘ফিটিং’ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের তির মহাখালী সাততলা পুলিশ ফাঁড়ির বিট কর্মকর্তা এএসআই অসীম ও তার গঠিত ‘অসীম-গং’-এর দিকে। রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এই চক্রের কারণে পুরো এলাকার সাধারণ মানুষ এখন জিম্মি ও তীব্র আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মহাখালী সাততলা বস্তি যেন এখন অসীমের নিজের ঘরবাড়িতে পরিণত হয়েছে, অভিযোগ উঠেছে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিলের ভাগ বাঁটোয়ারাতেও রয়েছে তার হাত।
অনুসন্ধানে উঠে আসা অসীম-গংয়ের অপকর্মের চিত্র:
পকেট সোর্স শাকিল দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ: এএসআই অসীমের প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় মহাখালীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২১ মামলার আসামি শাকিল (বিদ্যুৎ দখলদারিত্বের গোলাগুলিতে নিহত রফিকের ছেলে)। শাকিলকে নিজের ‘পকেট সোর্স’ বানিয়ে অসীম পুরো এলাকার মাদকের কেনাবেচা ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন।
নির্দোষদের ফাঁসিয়ে ‘ফিটিং’ বাণিজ্য: এএসআই অসীম ও তার সহযোগীরা স্থানীয় নিরীহ মানুষকে ধরে এনে পকেটে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর (ফিটিং) ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছেন। দাবি করা টাকা না দিলে ভুয়া মামলায় চালান দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
মাসোয়ারা ও অসাধু সখ্য: সাবেক বিট ইনচার্জ আব্দুল্লাহর আমলে এলাকাছাড়া হওয়া চিহ্নিত মাদক কারবারি ‘সীমা’-কে পুনরায় এলাকায় পুনর্বাসিত করার নেপথ্যে রয়েছে অসীম-গং। নির্দিষ্ট হারে সাপ্তাহিক ও মাসিক মাসোয়ারার বিনিময়ে স্পটগুলোকে নির্বিঘ্নে চলার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
নাটকীয় ও আইওয়াশ অভিযান: পুলিশের পোশাক গায়ে জড়িয়ে মাঝেমধ্যে লোকদেখানো নাটকীয় অভিযান চালিয়ে দু-একজন খুচরা সেবীকে ধরা হলেও মূল হোতারা অসীম-গংয়ের সাথে দেনদরবার করে অধরাই থেকে যায়।
বক্তব্য জানতে চাইলে হুমকি ও ট্যাগিং:
এ এস আই অসীমের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) বার্তা পাঠালে তিনি উল্টো প্রতিবেদককে হুমকি দিয়ে বলেন, “আমার নামে [খবর প্রকাশ হলে] আমিও বসে থাকবো না।” শুধু তা-ই নয়, নিজের অপকর্ম ঢাকতে উল্টো প্রতিবেদককে ‘আওয়ামী লীগের ট্যাগ’ দেওয়ার চেষ্টা করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে কিছু ছবি পাঠিয়ে প্রতিবেদককে চায়ের নিমন্ত্রণ জানিয়ে বিষয়টির রফা করার প্রস্তাব দেন তিনি।
এলাকাবাসীর আকুল আবেদন:আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তার এমন বিতর্কিত ভূমিকা ও পোশাকের আড়ালে অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনার বিষয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে মহাখালীর সাধারণ জনগণ। এলাকাবাসীর জোর দাবি—অবিলম্বে এএসআই অসীম ও তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে এবং সাততলা ফাঁড়ির এই অপরাধ চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।(এএসআই অসীমের অর্থ লেনদেনের রসিদ, শাকিল-শিরিন চক্রের নেপথ্যের মদদদাতা এবং সাততলা ফাঁড়ির আরও অজানা তথ্য নিয়ে আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব আসছে…)