জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর উত্তরার মুগ্ধ মঞ্চে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম বলেছেন, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া দেশের প্রত্যাশিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন,আমি শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা। প্রায় ১,৪০০ শহীদের স্মরণে আজ এখানে এসেছি। জুলাই আমাদের জীবনকে বদলে দিয়েছে। আমরা আর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি না। আমরা রাজপথে নেমেছিলাম একটি পরিবর্তনের আশায়। কিন্তু সেই পরিবর্তন এখনও অধরাই রয়ে গেছে। আমাদের সন্তানরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে জীবন দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন,আমি সবার কাছে জুলাইয়ের শহীদ ও বীরদের জন্য দোয়া চাই। আল্লাহ যেন তাঁদের জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন। আজ আপনারা সন্তানদের নিয়ে এখানে এসেছেন বীরদের স্মরণ করতে। আমি আশা করব, আপনারা ইসলামের শহীদ, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, পিলখানার শহীদ, শাপলা চত্বরের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করবেন, তাঁদের সম্পর্কে জানবেন এবং তাঁদের জন্য দোয়া করবেন। তাঁদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটি, উত্তরা-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কমিটির সদস্য সচিব কামরুল হাসান।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শেখ ফাহমিন জাফরের মা কাজী লুলুন মাখমিন, শহীদ জাবির ইব্রাহিমের পিতা কবির হোসেন, শহীদ আব্দুন নূরের বাবা মাওলানা বাশার, শহীদ আসাদুল্লাহর স্ত্রী ফারজানা আক্তার, শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভিনের মা বিলকিস জামান, শহীদ নাইমা সুলতানার মা আইনুন নাহার, শহীদ রিদয়ান শরীফ রিয়াদ জয়ের মা রুপালি আক্তার, বিশিষ্ট আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল, উত্তরা ইউনাইটেড ক্লাবের চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, তারিক হাসান, তাহমিদ হুজাইফা, তালহা জোবায়ের সজিব, ইমরান হোসাইন ইমু, আহমেদ সামরান, আতিক হাসান রুবেলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল জুলাই চিত্র প্রদর্শনী, শহীদ পরিবার ও আহতদের জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী, ‘বিদ্রোহের উত্তরা’ শীর্ষক পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে কাশিদার কাওয়ালি সন্ধ্যা।অনুষ্ঠানে উত্তরার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।