দেশে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকট এবং বিদ্যুৎ বিলে অতিরিক্ত বা কথিত ‘হিডেন চার্জ’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে আবাসিক গ্রাহক—সব শ্রেণির ভোক্তাই বাড়তি ব্যয় ও অনিয়মিত সেবার কারণে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে গ্যাসের মূল্য কমানো না হলে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।সোমবার রাজধানীর উত্তরা রাজউক কলেজের সামনে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, গ্যাস সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জনদুর্ভোগের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।সেলিম উদ্দিন বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও গ্রাহকদের পূর্ণ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জ যোগ হওয়ায় জনগণের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অবিলম্বে গ্যাসের মূল্য হ্রাস, বিদ্যুতের দাম কমানো এবং সব ধরনের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জানান।তিনি আরও বলেন, জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সরকার যদি দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য পুনর্বিবেচনা না করে, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে পেট্রোবাংলা ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অপচয় এবং অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণকে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে জ্বালানি খাতের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে এবং এর সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন।
এ সময় তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়েও বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর পল্টনে অনুষ্ঠিতব্য দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।সমাবেশ শেষে উত্তরা রাজউক কলেজের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জসীমউদ্দীন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা গ্যাসের মূল্য কমানো, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।জ্বালানি খাত নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন,বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্বালানি খাতে একাধিকবার মূল্য সমন্বয় করা হলেও সেই অনুপাতে সেবার মানের উন্নতি সব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান নয়। অনেক এলাকায় দিনের পর দিন গ্যাসের চাপ কম থাকা, রান্নার সময় গ্যাস না পাওয়া এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলে বিভিন্ন সারচার্জ ও অতিরিক্ত ফি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্য নির্ধারণের যৌক্তিকতা, ব্যয় কাঠামো, আমদানি ব্যয়, বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা এবং বিল নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং অযাচিত বিতর্কও কমবে।প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ,জ্বালানি খাত দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। গ্যাসের মূল্য, সরবরাহ সংকট এবং বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও তথ্য প্রকাশ জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংগঠন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মতামত যুক্ত হলে বিষয়টির একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসবে।