বরিশালের বানারীপাড়ার তালাপ্রসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোর্শেদের একের পর এক অনৈতিক ও বিতর্কিত কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। স্কুল ফাঁকি, পরকীয়া, আবাসিক হোটেলে নারীসহ আটক এবং পারিবারিক কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখন ফুঁসে উঠেছে এলাকা। ক্ষুব্ধ জনতা তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন পূর্বে পরকীয়া আসক্তির জেরে খুলনার একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক নারীসহ শিক্ষক মোর্শেদকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দেয় মোর্শেদের নিজ স্ত্রী। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) নারীসহ মোর্শেদের আটকের ভিডিওটি ব্যপকভাবে ভাইরাল হয়।জানা গেছে, মোর্শেদের স্ত্রীও একজন পেশাদার শিক্ষিকা। স্বামীর এমন চরম অনৈতিক কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানসিকভাবে হীনম্মন্যতায় ভুগছিলেন তিনি। বারবার বোঝানোর পরেও স্বামীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন না হওয়ায়, অবশেষে বাধ্য হয়ে মোর্শেদকে ডিভোর্স (তালাক) দেন তার স্ত্রী। সম্প্রতি শিক্ষক মোর্শেদের মায়ের সরকারি চাল (ভিজিডি/খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি) কালোবাজারে বিক্রি করার একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— “যার ছেলে সরকারি চাকরি করে স্বচ্ছল জীবন যাপন করছে, তার মা কীভাবে সরকারি চালের সুবিধাভোগী তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন?” যেহেতু প্রাপ্ত চাল তারা নিজেরা না খেয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন, সেহেতু এটি প্রমাণিত হয় যে তাদের এই চালের কোনো প্রয়োজন ছিল না। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ যোগ্য ও দুস্থদের বাদ দিয়ে পক্ষপাতমূলকভাবে এই শিক্ষক পরিবারকে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। সচেতন মহল এই চাল চুরির ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষক মোর্শেদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা ও স্কুল ফাঁকি দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠন নিয়ে মোর্শেদ নিজের স্বার্থে এলাকায় দুটি পক্ষের সৃষ্টি করেন। তার তৈরি এই কৃত্রিম বিভাজনের জেরে বিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই ঘটনায় মোর্শেদ কয়েকদিন নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল “যিনি নিজে একজন শিক্ষক, তার কাছ থেকে সমাজ ও কোমলমতি শিশুরা কী শিখবে? যার নিজের নৈতিকতার এই দশা, সে কীভাবে একটি স্কুলের শিক্ষক পদে বহাল থাকে? আমরা এই লম্পট ও দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের দ্রুত অপসারণ চাই।এই বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।