• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন
Headline
৭৫ বছরের পুরোনো গাউন আর ৫৫.৮ ক্যারেটের হীরায় কিম কার্দাশিয়ানের ভিন্টেজ লুক 'সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারি না', আফগানিস্তানে ৫৮ সন্তানের বাবা মোহাম্মদ সাদিকের গল্প বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে অর্থের যোগানদাতা আ‍‍`লীগ নেতা এখন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী! বানারীপাড়ায় সেফটি ট্যাংকিতে কাজ করার সময় দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় অসুস্থ সংগীতশিল্পী রাসেল খানের মৃত্যু চুলা জ্বালাতেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, আইসিইউতে মেয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া কেন সব সময় খারাপ নয় বিশ্বব্যাপী অনেক ওয়েবসাইট কেন বন্ধ? নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ সায়েদাবাদে বিআরটিএর সচেতনতামূলক কর্মসূচি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শিশু চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে অর্থের যোগানদাতা আ‍‍`লীগ নেতা এখন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী!

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :

ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে অর্থের যোগানদাতা আ‍‍`লীগ নেতা ফাহাদ খন্দকার এখন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৯ নং কলসকাঠী ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী।
গত ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া আওয়ামী লীগ নেতা টিটু খন্দকারের ছোট ভাই ফাহাদ খন্দকার গ্রেপ্তার তো দূরের কথা এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

গত ৫ আগস্টের আগে দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দেখিয়ে আইটি ব্যবসার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া, বিরোধী দলের লোকজনকে হয়রানিসহ নানান ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার সাইন্সল্যাব এলাকায় তিনি তার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অন্তরালে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে উসকানি দেয়াসহ সরকার পতনের নানা ষড়যন্ত্রের ছক কষেছিলেন। এমনকি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এনিয়ে জনমনে জেগেছে নানা প্রশ্ন। এছাড়া তিনি কিছুদিন পূর্বে তিনি বাকেরগঞ্জ ৬ আসনের এমপি মহোদয়ের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। এই বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা টিটু খন্দকারের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে ফোন দিলে পরে তিনি আমাকে বলে আপনার পরিচয় দেন আমি বলছিলাম যে আমি একজন সাংবাদিক।আমি বলছিলাম যে আপনারা ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন এমনকি ১২ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময়ও আপনারা বিএনপিকে ভোট দেন নাই এখন আপনার ভাই বিএনপিতে যোগদান করেন এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই। তিনি আমাকে বলে আপনি আমাকে ফোন দিছেন এটা আপনার অপরাধ। আপনি ফাহাদ খন্দকারকে ফোন দেন। পরবর্তীতে আমি এ বিষয়ে ফাহাদ খন্দকার এর হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে ফোন দিলে পরে তার বক্তব্য জানতে চাই তিনি ফোন রিসিভ করে বলেন আমি এখন ব্যস্ত আছি এ বিষয়ে আপনার সাথে আমি পরে কথা বলব। পরবর্তীতে রাত দশটার পরে অজ্ঞাত একটি নাম্বার থেকে আমাকে ফোন দিয়ে বলে একটি বাল্যবিয়া আছে আপনি সেখানে আসতে পারেন কিনা। যে ব্যক্তি ফোন দিয়েছে আমি গোপন সূত্রে তার পরিচয় কনফার্ম হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করি যে আমার নাম্বার কে দিয়েছে তখন তিনি বলেন আমাকে একজনের নাম্বার দিয়েছে এ বিষয়ে আমি অনেক সোর্সিং এর মাধ্যমে জানতে পারি যে ব্যক্তি ফোন দিয়েছে তার নাম দুলাল গাজী খন্দকার বাড়ি থেকে আমার নাম্বার দিয়েছে আমার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য।

জানা যায়, উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের নারাঙ্গল গ্রামের আবুল বাশার খন্দকারের খন্দকারের দুই পুত্র ওয়াদুদ খন্দকার টিটু ও ফাহাদ খন্দকার দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০২১ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টিটু খন্দকার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের অভিযোগ, পতিত স্বৈরাচারী দল আওয়ামী লীগের দোসর, কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অর্থ সরবরাহকারী, শিক্ষার্থীদের প্রতিহতের ঘোষণাকারী ফাহাদ খন্দকার এখনো আধিপত্য বজায় রেখে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সে ঢাকার শাহবাগ ও সাইন্সল্যাব এলাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করার আন্দোলনে নেপথ্যে অর্থ সহায়তা দেন।

এমনকি তিনি ২০২৪ সালের ২ ও ৩ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিজ উদ্যোগে ঢাকায় নিয়ে তার অফিসে রেখে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাসহ ছাত্র জনতাকে হত্যার ছক এঁকেছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরেও আন্দোলনের বিরোধিতাকারী ছাত্রজনতার উপর হামলায় সহায়তাকারী অর্থের যোগানদাতা এই আওয়ামী লীগ নেতা শত শত শহীদের রক্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপটের সাথেই ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেই সাথে তিনি বিএনপিতে যোগদান করার নামে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য গোপনে কাজ করে চলেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র সমন্বয়ক রাতুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকার ৫ আগস্টের পর পালিয়ে গেছে। এই ফ্যাসিবাদ সরকারের অন্যতম দোসর বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করতে চাওয়া ও অর্থের যোগানদাতা নেতারা এখনো বহাল তবিয়তে প্রকাশ্যে তাদের ব্যবসা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক এবং ভয়ের কারণ। আমরা মনে করি কেউ কেউ বিএনপিতে যোগদান করে তাদের ছত্রছায়ায় ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিভাবে ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করা যাবে, কিভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করা যাবে তারা ঠান্ডা মাথায় সেটার পরিকল্পনা করে যাচ্ছে।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান বলেন, ফাহাদ খন্দকার সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তাকে চেয়ারম্যান পদে এখনো বিএনপির প্রার্থী ঘোষনা করা হয়নি। দল থেকে যাকে সিদ্ধান্ত দেবে সেই হবে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী। আওয়ামী লীগ নেতা ফাহাদ খন্দকার কিকরে বিএনপিতে যোগদান করলেন এ প্রশ্নের জবাবও তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা যে বিএনপিতে যোগদান করতে পারবে না এরকম কোন নির্দেশনা নেই। ফাহাদ খন্দকার বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলন দমনে অর্থের যোগানদাতা ছিলেন কিনা তাও তিনি জানেন না বলে জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা