রাজধানীর মিরপুর পল্লবীতে মাদকদ্রব্য বিক্রির লেনদেনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ‘ল্যাংড়া রুবেল’সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, এক হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,হামিদ খান ওরফে মাখন, ল্যাংড়া রুবেল, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বী।ডিবি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩৫ মিনিটে পল্লবী থানার সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে মাদক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীর নামে এক ব্যক্তি পেটে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় পথচারী জোসনা নামে এক নারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।ঘটনার পর আহত আলমগীরের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পল্লবী থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে ডিবি মিরপুর বিভাগের একটি দল।ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত গাড়ি, সেখান থেকেই তদন্তের মোড়,ডিবির ছায়া তদন্তে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি শনাক্ত করা হয়। পরে গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ জানান, গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ল্যাংড়া রুবেল। একই সঙ্গে তিনি রুবেলের মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য এবং গোলাগুলির ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে ডিবি জানিয়েছে।কালশীতে অভিযান, মিলল ইয়াবা,হামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি সদস্যরা পল্লবী থানার কালশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ল্যাংড়া রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীকে গ্রেপ্তার করেন।এ সময় তাদের কাছ থেকে ল্যাংড়া রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের টয়োটা ভক্সি গাড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে পাওয়া যায় এক হাজার পিস ইয়াবা।বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান, অস্ত্রসহ রুবেল-বাপ্পা গ্রেপ্তার,পরবর্তী সময়ে পারভেজ ও রাব্বীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানাধীন ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবি। সেখান থেকে ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগী তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন।মাদক লেনদেন ঘিরেই গোলাগুলি,ডিবি সূত্রের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, মাদকদ্রব্য বিক্রির লেনদেনকে কেন্দ্র করেই ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীরা গোলাগুলির ঘটনায় জড়ায়।তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের ঘটনায় অস্ত্র আইন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গোলাগুলির ঘটনায় আরও যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পল্লবীর জনবহুল এলাকায় মাদক লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যের সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।