• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন
Headline
নিরাপদ মিরপুর গড়ার স্বীকৃতি, ডিএমপির সেরা বিভাগের সম্মাননা…ওসি হাফিজুর রহমান আমার পুলিশ, আমার দেশ সবার আগে বাংলাদেশ” মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবায় মানবিক পুলিশিংয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত উত্তরার বিডিআর মার্কেটের পার্কিং স্থান নিয়ে বিরোধ: পুরো মার্কেটকে ঘিরে আদালতে তিন মামলা, উত্তেজনা বৃদ্ধি বরিশালে ভিডব্লিউবি কার্ডধারীরা পেলেন ৩০ কেজি চাল মিরপুরে প্রেসক্লাব নেতার ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে বরিশালে গড়ে তোলা হবে নতুন ইপিজেড দুই জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল বরিশালে নিখোঁজ অটোরিকশা চালকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার উত্তরায় ব্যবসায়ী অপহরণ, ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়..মাস্টারমাইন্ডসহ ৪ গ্রেফতার পিকআপ চাঁপা দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় আরিফকে, অতঃপর…….. বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন তথ্যমন্ত্রী

নিরাপদ মিরপুর গড়ার স্বীকৃতি, ডিএমপির সেরা বিভাগের সম্মাননা…ওসি হাফিজুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ২৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

রাজধানী ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মে-২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ৮টি ক্রাইম বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিভাগের মর্যাদা অর্জন করেছে মিরপুর বিভাগ। একইসঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান, চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী গ্রেফতার, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় মিরপুর মডেল থানা ডিএমপির শ্রেষ্ঠ দ্বিতীয় থানা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সম্মাননা ও পুরস্কার গ্রহণ করেন মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোঃ মোস্তাক সরকার এবং মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাফিজুর রহমান।
মিরপুরে অপরাধ দমনের বাস্তব চিত্র,মিরপুর দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর অন্যতম হিসেবে পরিচিত। মাদক কারবার, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং বিভিন্ন ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিরপুরে পুলিশের অভিযানের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মে মাসজুড়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানগুলোতে বিপুল সংখ্যক আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য এবং অবৈধ অস্ত্র। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।ওসি হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ‘জিরো টলারেন্স’স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাফিজুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ওছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। এর অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সন্দেহভাজন অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত এবং অপরাধপ্রবণ, এলাকাগুলোতে বিশেষ টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়।পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব বিবেচনা না করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার নীতিই মিরপুরের সাম্প্রতিক সফলতার অন্যতম কারণ। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পেয়েছে।শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত শামসুদ্দোহা,শুধু বিভাগ বা থানা নয়, ব্যক্তিগত কৃতিত্বের ক্ষেত্রেও মিরপুর বিভাগের সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। সর্বোচ্চ সংখ্যক আসামি গ্রেফতার, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং অপরাধ দমনে অসামান্য ভূমিকা রাখায় মিরপুর মডেল থানার এসআই মোঃ শামসুদ্দোহা ডিএমপির শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হয়েছেন।পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অভিযানের পরিকল্পনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যকর অভিযান পরিচালনায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।মিরপুরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বেড়েছে। রাতের টহল কার্যক্রম জোরদার হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন, নাগরিকদের মতে, নিয়মিত অভিযান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে ছিনতাই ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজির ঘটনা আগের তুলনায় কমেছে বলে অনেকেই দাবি করেন।চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র পুরস্কার অর্জনই শেষ লক্ষ্য নয়। মিরপুরের মতো জনবহুল এলাকায় অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার প্রতারণা, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, মাদক সিন্ডিকেট এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।আইন-শৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।পুলিশের প্রতিক্রিয়া,এ অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, “এই সম্মাননা শুধু পুলিশের নয়, বরং মিরপুরবাসীরও অর্জন। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ভবিষ্যতেও মানবিক পুলিশিং, জনসেবা বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হবে।তারা আরও বলেন, “মিরপুরকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত এলাকায় পরিণত করতে আমরা সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।মূল্যায়ন ডিএমপির সাম্প্রতিক মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মিরপুর বিভাগ বর্তমানে রাজধানীর অন্যতম কার্যকর পুলিশ ইউনিট হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে অভিযানের ধারাবাহিকতা, জনসম্পৃক্ততা এবং আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।বর্তমান অর্জন নিঃসন্দেহে মিরপুর বিভাগের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি, যা ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে নতুন প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা