রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো:
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না চাইলে পদ ছেড়ে দেওয়াই উত্তম।
শনিবার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের প্রধান ফটক বন্ধ পাওয়া, একাধিক চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং উপস্থিতি রেজিস্টারে অসঙ্গতির অভিযোগ তার নজরে আসে। এসব বিষয় পর্যালোচনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চান।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার সময় প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উপস্থিতি যাচাই করেন। এ সময় কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। পরে হাজিরা খাতা পরীক্ষা করে উপস্থিতি সংক্রান্ত কিছু অসামঞ্জস্যও দেখতে পান তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে না পেয়ে প্রতিমন্ত্রী মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। কথোপকথনের সময় তিনি দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তাই দায়িত্বে অবহেলা বা প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষ যেন ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জরুরি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম, জনবল উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে একটি বিশেষ সভা আয়োজনের কথাও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে আসছিলেন। চিকিৎসকের সংকট, সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়া এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের ফলে এসব সমস্যা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্বাস্থ্য খাত বিশ্লেষকদের মতে, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো দেশের প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় জনগণ ও সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই পরিদর্শনের পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারণ প্রত্যন্ত এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই হাসপাতালের সেবার ওপর নির্ভর করে থাকেন।