রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন অঞ্চল-৪ এর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হরিরামপুর সার্বজনীন শ্মশানঘাটে আধুনিক বৈদ্যুতিক মানবদেহ দাহ চুল্লির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ দাহ চুল্লির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শ্মশানঘাটে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব দাহ ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রচলিত কাঠনির্ভর দাহ প্রক্রিয়ায় সময়, ব্যয় এবং পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে বৈদ্যুতিক দাহ চুল্লি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ ও বিদ্যুৎ সার্কেলের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, নাগরিক সেবাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈদ্যুতিক দাহ চুল্লি শুধু সময় সাশ্রয় করবে না, পরিবেশ দূষণও কমাবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর সানজিদা ইসলাম তুলি এবং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তাঁরা বলেন, নগরবাসীর ধর্মীয় ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনায় এই ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন , কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ। আরো বক্তব্য রাখছেন,দেন শ্রী তপন চন্দ্র মজুমদার, ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিষ্ণু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানান।সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী পরিমল কুমার কুরি, সমন্বয়ক, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, মিরপুর এবং ফনীন্দ্র চন্দ্র দাস, সভাপতি, হরিরামপুর সার্বজনীন শ্মশানঘাট কমিটি।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো নির্মাণ অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন বৈদ্যুতিক দাহ চুল্লি চালু হওয়ায় শ্মশানঘাটের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কম সময়ে, কম খরচে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজধানীতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয়ে এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।সেই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন , মিরপুর সম্মানিত সাংবাদিক জোটের সভাপতি, মিরপুর প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা, বি এক্সামপল পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মোল্লা, জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্ত পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সুমন খান প্রমূখ্য।