• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন
Headline
বিক্ষোভ-সংঘর্ষ চলছেই, পোশাক কারখানার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কবে? মধ্যবর্তী নির্বাচন : হেরে গেলে বাকি দুবছর কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের শ্রমিক আন্দোলনে বহিরাগত ইন্ধন নিয়ে সতর্ক সরকার হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ এইচএসসিতে এমন ভয়াবহ ফল বিপর্যয় কেন অশনিসংকেত নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা ক্ষমতার দন্ধে পিষ্ট রাষ্ট্র …. ইলিয়াস হোসেন মাঝি মিল্টনকে আহ্বায়ক, জাহাঙ্গীরকে সদস্য সচিব করায় বিএনপির আনন্দ মিছিল ফেসবুকে “গোপনে নয় ওপেনে ঢাকা দখলের’ ঘোষণা: বরিশালে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ক্ষমতার দন্ধে পিষ্ট রাষ্ট্র …. ইলিয়াস হোসেন মাঝি

Reporter Name / ৭ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

রাজনীতি কোন লুটপাটের বা ক্ষমতা দখলের উৎসব নয়। এটি মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাস অর্জনের এক দীর্ঘ ও পবিত্র দায়িত্ব। রাজনীতিকে যখন আমরা জনসেবার আসনে বসাতে পারব, কেবল তখনই রাষ্ট্র শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক এবং মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল হয়ে উঠবে। অন্যথায় ক্ষমতা দখলের এই অন্ধ খেলা চলতে থাকলে তা ধীরে ধীরে পুরো রাষ্ট্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।

রাজনীতি মূলত মানুষের কল্যাণ, অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার এক সুশৃংখল ও আদর্শিক মাধ্যম। এর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনসেবা ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বর্তমান সময়ে রাজনীতি যখন কেবল ক্ষমতা দখল, আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন তা রাষ্ট্রের ভিত্তিকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। একটি সুস্থ রাজনীতির উপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব ও উন্নয়ন। আর তা যখন বিকৃত হয়, তখন পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রই সংকটের মুখে পড়ে।

রাজনীতির যখন আদর্শ ও দর্শন ভিত্তিক না হয়ে কেবল সিংহাসন আর পদ পদবী দখলের খেলায় পর্যবসিত হয়, তখন রাজনীতিবিদেরা দেশ ও দশের কথা ভুলে যান। তখন নীতিমালার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে কোন্দল, হানাহানি আর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার কৌশল। ক্ষমতার পালাবদল ঘটে বটে কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না। এতে রাজনীতি জনকল্যাণ থেকে ছিটকে পড়ে এক ধরনের ব্যক্তিগত বা দলীয় ব্যবসায় পরিণত হয়।

রাজনীতির যখন কেবল ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়, তখন রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী ও বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবের শিকার হয়। প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে সাধারণ মানুষ আইনের সমান আশ্রয় থেকে বঞ্চিত হয় এবং রাষ্ট্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে জেঁকে বসে। যখন প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে কেবল বল প্রয়োগ করা হয়, তখন রাষ্ট্রটি অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং সামান্য আঘাতেই পুরো শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।

ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতির কুফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করে সাধারণ জনগণ। রাজনৈতিক আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে সিন্ডিকেট তৈরি, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও সম্পদের পাহাড় গড়ার প্রবনতা বৃদ্ধি পায়। বাজারের নিয়ন্ত্রণ কিংবা রাষ্ট্রীয় সুযোগ – সুবিধা বন্টন তখন মেধা বা প্রয়োজনের ভিত্তিতে না হয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের মাপকাঠিতে নির্ধারিত হয়। এতে ধনী- দরিদ্রদের বৈষম্য বাড়ে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরি হয়।

যে রাষ্ট্রে রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই, সেখানে দীর্ঘমেয়াদী বা টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এক সরকার এসে আগের সরকারের ভালো উদ্যোগগুলো ও রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে বাতিল করে দেয় বা উপেক্ষা করে। ফলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ও সময় নষ্ট হয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মত মৌলিক খাতগুলো অবহেলিত থাকে। জনগণের বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার সংকুচিত হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে।

এই দুর্বলতা থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হলে রাজনীতির সংজ্ঞা ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে হলে ব্যক্তির চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও নিরপেক্ষতাকে বড় করে দেখতে হবে। আইনের শাসন এমন হতে হবে, যেখানে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি পর্যন্ত সবাই একই আইনের অধীনে থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতার লোভ সংবরণ করে জনকল্যাণ মুখী আদর্শ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

লেখক –
মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি
কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ইমেইল : eleyasbd3@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা