• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
Headline
রামলীলা ময়দানের সমাবেশে মমতা ব্যানার্জীর উপস্থিতি রাজনীতিতে কী বার্তা দিচ্ছে? জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রাক্তন ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রদল দলীয় নেতার সমর্থন হারানোর দিনই আল–সাইয়েদের তহবিলে রেকর্ড অর্থ বিক্ষোভ-সংঘর্ষ চলছেই, পোশাক কারখানার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কবে? মধ্যবর্তী নির্বাচন : হেরে গেলে বাকি দুবছর কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের শ্রমিক আন্দোলনে বহিরাগত ইন্ধন নিয়ে সতর্ক সরকার হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ এইচএসসিতে এমন ভয়াবহ ফল বিপর্যয় কেন অশনিসংকেত নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা

উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কি না, সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন

Reporter Name / ৫ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এসব উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই বা সমীক্ষা এবং ক্রয় নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, এই প্রশ্ন সংসদীয় কমিটিতে তুলেছেন একজন সদস্য। রোববার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই প্রশ্ন তোলা হয়।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও ৫টি ড্যাশ-৮। চলতি বছর দুই দফায় যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। এ ছাড়া ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে।সংসদীয় কমিটির বৈঠকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বৈঠকে তোলেন কমিটির সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামরুল হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না, এত উড়োজাহাজ প্রয়োজন আছে কি না বা এত যাত্রীর চাহিদা আছে কি না, ক্রয় নীতিমালা মেনে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় তিনি জানতে চেয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখনই কোনো উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে না। এগুলো আসবে ৫–১০ বছর পর। এখন বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছে। উড়োজাহাজ কেনার টাকা রাজস্ব থেকে ব্যয় হবে না, বিমানের পরিচালনা থেকে এই অর্থ আসবে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ আছে। সব উড়োজাহাজ দেশে আসতে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। উড়োজাহাজ কেনার ব্যয় ‘সফট লোনের মাধ্যমে’ পরিশোধের পরিকল্পনা আছে। উড়োজাহাজ পরিচালনা থেকে যে আয় হবে, তা দিয়েই ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সদস্যদের কেউ কেউ। অতীতে বিমানের কেনাকাটা ও তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান সদস্যদের কেউ কেউ। তবে এখন পর্যন্ত এ–সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। বিমানবন্দরের ট্রলিসংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে ট্রলির সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে।কমিটির সদস্য কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, বিমানের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বাইরে তিনি বিমানবন্দরে ট্রলিসংকটের কথা তুলে ধরেছেন। থার্ড টার্মিনালের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ব্যয় কত বেড়েছে, তা জানতে চেয়েছেন। মন্ত্রণালয় বলেছে, পরবর্তী বৈঠকে এসব বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে গত আট মাসে সিভিল এভিয়েশনের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং কেনাকাটার প্রতিবেদন দেওয়ার সুপারিশ করে। বৈঠকে জানানো হয়, বিদেশের সঙ্গে কোন চুক্তি হলে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।কমিটি সিভিল এভিয়েশন, বিমান ও পর্যটনের কেনাকাটা, বদলি, নিয়োগ এবং বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকির লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সাব-কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে। কমিটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরিপূরক হয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে। কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী মন্ত্রণালয়ের স্বার্থে যোগ্যতাসম্পন্ন জনবলকে সঠিক জায়গায় পদায়নের সুপারিশ করেন।কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, মো. কামরুল হাসান ও  মো. আবু তালিব। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা