• সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
Headline
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ ডেমরায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় অজ্ঞাত নারী নিহত সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে জানিনা বলে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ কতটা বাংলাদেশকে তাচ্ছিল্য দোকানির, জবাবে কী করলেন আইয়ুব বাচ্চু সেকেন্ডেই মোটরসাইকেলের লক ভেঙে চুরি, সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার ৬ সিআইডি পুলিশের স্ত্রীর মামলায় ৩ সাংবাদিকের জামিন করালো বিএমএসএফের আইনজীবীরা সরকারি বরিশাল কলেজের ছাত্রাবাস নির্মাণ করতে পুকুর ভরাট, বিসিসির বাধা সচিবালয় যাচ্ছে শেরেবাংলা নগরে ঢাকা থেকে ১১৮ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিতে ভোগান্তিতে ১৮ হাজার ৩৬২ যাত্রী গণিত ভাইয়ার প্রশ্ন: পর্ব ১৭

জনবল নিয়োগ হয়নি, প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার দর্শনার্থী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে জুলাই জাদুঘর

Reporter Name / ৭ Time View
Update : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে এখনো জনবল নিয়োগ হয়নি। এখন দর্শনার্থীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। যেকোনো মুহূর্তে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টিরও আশঙ্কা আছে।জাদুঘরের দেওয়া তথ্য বলছে, গত ১৭ আগস্ট থেকে ৬ অক্টোবর জাদুঘরে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭০ জন। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ হাজার দর্শনার্থী আসেন। তবে শুক্র ও শনিবার এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ৭ আগস্ট জাদুঘরটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর দর্শনার্থীরা মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ফলে ১৭ আগস্টের আগপর্যন্ত মোট কত দর্শনার্থী জাদুঘরে ঢুকেছেন সেই তথ্য নেই জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।তবে তথ্য বলছে, ৭ আগস্ট থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত জাদুঘরে প্রবেশের টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৯৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫১ টাকা। গাড়ি পার্কিং থেকে আয় হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৮২১ টাকা। সব মিলে আয় ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৭২ টাকা।প্রতীকী কবর, ভাস্কর্যসহ যা যা দেখা যাবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে৯ অক্টোবর শুক্রবার টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৫২০ টাকা। আর শনিবার আয় হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯০ টাকা। জাদুঘরটিতে প্রবেশের জন্য ফুটপাত দখল করে বানানো হয়েছে টিকিট কাউন্টার। বাংলাদেশি প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটের দাম ৫০ টাকা। ৩ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ২০ টাকা, সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা, অন্যান্য দেশের নাগরিকদের দুই হাজার টাকা লাগছে। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ছুটির দিন জাদুঘর বন্ধ থাকে।সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টানা দেড় দশকের আবাসস্থল ছিল ১৭ দশমিক ৬৮ একর আয়তনের গণভবন। বিশাল কমপ্লেক্স, উন্মুক্ত মাঠসহ ২৯ হাজার বর্গফুটের দ্বিতল ভবনটিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন শেখ হাসিনা। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও দাপ্তরিক কাজও হতো এ ভবনে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর গণভবনে ঢোকে জনতার স্রোত। বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ভাঙচুরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। সেই সঙ্গে চলে লুটপাট। সেদিন লোকজন গুরুত্বপূর্ণ নথি থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার ব্যবহৃত শাড়ি, তৈজসপত্র, পুকুরের মাছ, রান্না করা খাবার—সবই লুট করে নিয়ে যায়। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। সরকারি সিদ্ধান্তে গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তর করা হয়। গত ৫ আগস্ট এই জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাংবাদিক এহসান মাহমুদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, জাদুঘর পরিচালনায় জনবল নিয়োগ হয়নি এখনো। এই মুহূর্তে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দর্শনার্থীদের সামাল দেওয়া।ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার হওয়া চার হাজারের বেশি মানুষের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল বা প্রতীকী কবরস্থানের উদাহরণ দিয়ে মহাপরিচালক বলেন, কবরগুলোতে ঘাস বড় হয়ে গেছে, তা কাটার লোক নেই। এভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই সমস্যা হচ্ছে।রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এ জাদুঘরের কাঠামো অনুযায়ী ১০৭ জন জনবল থাকার কথা। বর্তমানে মহাপরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক নিয়োগ পেয়েছেন। এর বাইরে জাতীয় জাদুঘর থেকে ৩৫ জন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। আউটসোর্সিংয়ের ৪৪ জন, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কাউটের প্রায় ৪০ জন দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।ছুটির দিনে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে উপচে পড়া ভিড়, বিশৃঙ্খলা–ভোগান্তিমহাপরিচালক এহসান মাহমুদ বলেন, জাদুঘর পরিচালনায় দক্ষ জনবল থাকা জরুরি। আউটসোর্সিং বা স্বেচ্ছাসেবকদের দিয়ে বর্তমানে কাজ চালানো হচ্ছে। এই জনবলের সেই অর্থে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। ফলে মোট ১১টি শাখা নিয়ে গঠিত জুলাই জাদুঘরের মতো সংবেদনশীল একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি জানালেন, নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত শুরুর আশ্বাস দিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।গত ২৭ জুলাই প্রথম আলোতে ‘জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন ৫ আগস্ট, জনবল নিয়োগ হয়নি এখনো’ শিরোনামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা ২০২৫ অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ৬ থেকে ২০ গ্রেডের ৬২টি পদে ৯৬ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। আবেদনের সময় দেওয়া হয় মাত্র সাত দিন। গত ২৮ জানুয়ারি এ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু করার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি মৌখিক ও দক্ষতা পরীক্ষণের প্রক্রিয়াটি ‘প্রমার্জন’ (শিথিল) করেছেন বলেও তখন কর্তৃপক্ষ জানায়। পরে সমালোচনা শুরু হলে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়।জাদুঘরের বর্তমান মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ বলেন, আগেরবার করা ১৪ হাজার আবেদনের পাশাপাশি নতুন আবেদন সমন্বয় করে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।গত ৪ আগস্ট সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, জাদুঘরের জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।জাদুঘর নির্মাণে গণপূর্ত বিভাগ ও জাতীয় জাদুঘর মোট বরাদ্দ পেয়েছিল ১২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। খরচ হয়েছে ১১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অব্যয়িত ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। জাদুঘর নির্মাণের পাশাপাশি উদ্বোধনের আগে জাদুঘর পরিদর্শন করা অতিথিদের আপ্যায়ন বিলসহ অন্যান্য খাতেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।গত ৪ আগস্ট সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, জাদুঘরের উদ্বোধনের পর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হবে।জাদুঘর নির্মাণে আর্থিক অনিয়ম প্রসঙ্গে বর্তমান মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এখনো জাদুঘরটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেনি। মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। হস্তান্তরের পর অডিট করা হবে।জুলাই জাদুঘর পরিচালনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে বরাদ্দ পাওয়া যায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।জাদুঘরের সবুজ মাঠে শিশুদের ছোটাছুটি। ৯ অক্টোবর দুপুরেসরেজমিনে জাদুঘর৭ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত জাদুঘরে আসা একাধিক দর্শনার্থীর সঙ্গে কথা হয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন অনেকেই। কেউ কেউ কয়েক মাস বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি দর্শনার্থীরও দেখা মেলে।গণভবনের নিচতলায় বর্তমান জাদুঘরটিতে গত ১৬ বছরের নানা ইতিহাস এবং দ্বিতীয় তলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মারক দিয়ে সাজানো হয়েছে। লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি বা স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্রের নানা চড়াই–উতরাইয়ের সংক্ষিপ্ত সফরের রাস্তা, রোড টু ফিউচার, প্রতীকী আয়নাঘর, ভাস্কর্য, জুলাই মঞ্চ, মনসুন থিয়েটার, হিলিং রুমসহ নানা আয়োজন দিয়ে পুরো জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে।গত বছরের ৮ আগস্ট প্রথম আলোতে ‘অভ্যুত্থানের পর যে রূপ নেয় গণভবনের অন্দরমহল’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখনকার গণভবনের অন্দরমহলের যে চিত্র ছিল তার অনেক কিছুই একইভাবে রাখা হয়েছে জাদুঘরটিতে।জাদুঘরটি ঘুরে দেখছিলেন আমীর হামজা। একটি হাত ব্যান্ডেজ করা। জানালেন, টিউমার অস্ত্রোপচার হয়েছিল। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) এসেছিলেন সেলাই কাটার জন্য। বাড়ি ফেরার আগে এসেছেন জাদুঘর দেখতে।নোয়াখালীর মো. সুমন চৌধুরী ঢাকায় এসেছিলেন ৯ মাস বয়সী মেয়েকে চিকিৎসক দেখানোর জন্য। সব কাজ শেষ করে স্ত্রী, দুই সন্তান, আত্মীয়সহ জাদুঘরটি দেখতে এসেছেন। বললেন, ‘শেখ হাসিনা মানুষের যে কী অবস্থা করছে, অত্যাচার করছে তার সবই আছে এইখানে। এইখানে অনেক কিছু শেখার আছে। আয়নাঘর নাড়া দিছে বেশি।’রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে হাবিবা খাতুন ছেলে, ছেলের বউসহ জাদুঘরটি দেখতে এসেছিলেন। নটর ডেম কলেজের সামির হোসেন, মুশফিকুর রহমান, হিমেল আহমেদ, ওয়ারিস রহমান জানান, লাল টেলিফোনে শেখ হাসিনার ফোন রেকর্ড শোনার অভিজ্ঞতা হয়েছে জাদুঘরে এসে।রাজধানীতে একটি পোশাকশিল্প কারখানার অপারেটর মো. কবির স্ত্রী সাদিয়া বেগমকে নিয়ে এসেছেন। স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কবির জানালেন, তিনি আগেও একবার জাদুঘর দেখতে এসেছিলেন। এসে ভালো লেগেছে। তাই এবার স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে নিয়ে এসেছেন। কবির খুব যত্ন করে স্ত্রীর ছবি তুলে দিচ্ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ক্রিস্টোফারও ঘুরে ঘুরে জাদুঘরটি দেখছিলেন।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় রিকশার ওপর দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের স্যালুট দেওয়া রিকশাচালক মো. সুজন খানের সেই মুহূর্তের ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা ছবি তুলছিলেন।৫২২ শহীদের স্মারক জমা আছে জাদুঘরটিতে। তবে মোট কতটি স্মারক আলাদা করে তার হিসাব নেই। স্মারকগুলো প্রদর্শনী করার ক্ষেত্রে কোনো কোনো শহীদের বেলায় পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা গেল, কোনো কোনো শহীদের স্মারকের জন্য হয়তো পুরো একটি কর্নার বরাদ্দ করা হয়েছে। আবার একটি জায়গায় কয়েকজন শহীদের স্মারক একসঙ্গে রাখা হয়েছে।মনসুন থিয়েটার সেলুলয়েডে গত ১৬ বছরের অত্যাচার–নির্যাতনের বিভিন্ন সিনেমা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হচ্ছে। বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, গুমের শিকার ব্যক্তিবর্গের স্মৃতিচিহ্ন ও পরিবারের স্মৃতিকথা, টর্চার সেলে নির্যাতনের সরঞ্জাম দিয়ে জাদুঘরের বিভিন্ন কক্ষ সাজানো হয়েছে।দর্শনার্থীরা লাল টেলিফোনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন কথোপকথনের অডিও শোনার পাশাপাশি নিজেরাও ওই টেলিফোনে ব্যঙ্গাত্মকভাবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। শেখ হাসিনার অফিসকক্ষের মেঝেতে শক্ত কাচের নিচে রাখা হয়েছে ৫ আগস্ট জনগণের ভেঙে ফেলা বিভিন্ন জিনিস।দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি ক্যানটিন আছে। এটি ইজারা দেওয়া। সেখানে পিৎজা, বার্গারের মতো খাবার ছাড়া অন্য কোনো খাবার পাওয়া যায় না। জাদুঘরের সুভ্যেনির দোকানটি এখনো চালু করা হয়নি।ছোট বাচ্চা নিয়ে আসা মায়েদের জন্য একটি দুগ্ধপান কর্নার থাকা জরুরি বলে উল্লেখ করলেন বর্তমান মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। গেজেট অনুযায়ী জুলাই শহীদদের ছবিসহ দালিলিক প্রমাণ হিসেবে প্রকাশনা বের করা, ১৫ বছরের নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করার পাশাপাশি জাদুঘরের মঞ্চে পালাগান, যাত্রা, বাউলগানসহ নানা আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।জাদুঘর থেকে বের হওয়ার আগে একটি দেয়ালে লেখা রয়েছে হাসান রোবায়েতের কবিতা ‘তোমরা হয়তো যাইবা ভুলে/খুনী হাসিনার ইতিহাস/সেই মায়ে রাখবো মনে/যে ছুঁইছে পোলার লাশ।’ দর্শনার্থীরা এ কবিতার লাইনটি পড়তে পড়তে বাড়ি ফেরেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা