রাজধানীর মিরপুর কাফরুলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দালাল চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের একজনকে এক মাস এবং অপরজনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে কাফরুল থানাধীন বিআরটিএ কার্যালয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।আনসার সূত্রে জানা যায়, বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দালাল চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছিলেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে অবৈধভাবে অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা। এ সময় তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের নজরে আসে।
বিষয়টি বুঝতে পেরে টহলরত আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হন। পিসি মো. মফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে দালাল চক্রের দুই সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটককৃতিরা হলেন—মো. মিলন (৪০), পিতা মো. আলমগীর, ঠিকানা ব্লক-৫, বারিধারা, ঢাকা এবং রাজীব (২৭), পিতা সুলতান খান, ঠিকানা ৩৮১, সেনপাড়া, পার্বত্যা, কাফরুল, ঢাকা।পরে আটক দুজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে হাজির করা হয়। আদালত-৩-এর মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মো. মিলনকে এক মাস এবং রাজীবকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।অভিযানে পিসি মো. মফিজ উদ্দিন এর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এপিসি মো. আল মিজান ,আনসার আব্দুল হাই, আনসার নয়ন চন্দ্র,আনসার মানিক মিয়া , ও আনসার নুরুজ্জামান।সংশ্লিষ্টরা জানান, বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যরা নিয়মিত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে প্রতারণা কিংবা সরকারি সেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে অবৈধ অর্থ আদায়ের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।আনসার সদস্যদের এমন তৎপরতার ফলে বিআরটিএ কার্যালয়ে দালাল চক্রের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।ঢাকা মহানগর আনসারের পশ্চিম জোনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো দালালের খপ্পরে না পড়েন এবং দালালচক্রের মাধ্যমে কেউ প্রতারিত না হন, সে বিষয়ে নজরদারি ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।