• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
Headline
যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে নতুন আরও ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ দৌড়ে বর্ণবাদের জবাব দিয়েছিলেন জেসি ওয়েন্স ভারতের সবেচয়ে ধনী অভিনেতা শাহরুখ, তাঁর সম্পদের পরিমাণ কত ফাইভআরে বিটোপিয়ার অ্যাকাউন্ট কারসাজিতে সংকটে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত দৈনন্দিন লেনদেনে ইসলামের ৬ নির্দেশনা মেনে চলুন ‘আব্বু, আমাদের জাহাজে মিসাইল অ্যাটাক হইছে’ কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬২৪ সুনেরাহ্ লিখেছেন, ‘তোমার জন্য সুন্দর একটা পাত্রী খুঁজে পেয়েছি’, বাসারের মন্তব্য, ‘বড় বাঁচান বাঁচাইলা গো’ যুক্তরাষ্ট্রে বোমারু বিমানসহ চীনের প্রেসিডেন্ট সিকে বিরল অভ্যর্থনা ট্রাম্পের ২৩ সপ্তাহ ধরে বিলবোর্ডের শীর্ষে, বিরল রেকর্ড গড়লেন মার্কিন গায়িকা

ফাইভআরে বিটোপিয়ার অ্যাকাউন্ট কারসাজিতে সংকটে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত

Reporter Name / ০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা বা স্ক্যামিংয়ের অভিযোগে আলোচিত হচ্ছে বিটোপিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস (ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ দেওয়া-নেওয়ার ওয়েবসাইট) ফাইভআরকে ঘিরে সংঘবদ্ধ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা ও মার্কেটপ্লেস কারসাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের আড়ালে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের তথ্য ব্যবহার করে ফাইভআরে অ্যাকাউন্ট খোলা, সেসব অ্যাকাউন্ট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা, ভুয়া অর্ডার ও রিভিউয়ের মাধ্যমে মার্কেটপ্লেসের র‍্যাংকিং প্রভাবিত করা এবং প্রতিযোগী ফ্রিল্যান্সারদের ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে।বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ফ্রিল্যান্সারের কাছ থেকে এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে বিটোপিয়া-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০০টি ফাইভআর অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েক হাজার অ্যাকাউন্ট নজরদারি ও তদন্তের আওতায় এসেছে বলেও জানা গেছে।এরপর ৪ আগস্ট ২০২৬ ফাইভআরের কমিউনিটি ফোরামের বাংলাদেশ অংশে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে ফাইভআরের একজন কমিউনিটি সমন্বয়কারী জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে, যেখানে অন্যদের হয়ে ফ্রিল্যান্সার অ্যাকাউন্ট তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করা এবং মার্কেটপ্লেসের সুনাম ও অবস্থান প্রভাবিত করতে ভুয়া রিভিউ ও অর্ডার ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে ফাইভআর জানায়, প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ও অর্ডার শনাক্ত করা হয়েছে। নীতিমালা লঙ্ঘনকারী অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মার্কেটপ্লেসে তাদের অবস্থান নিচে নামিয়ে দেওয়ার কথাও জানানো হয়। একই সঙ্গে তদন্ত অব্যাহত রাখার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘবদ্ধ কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করতে অভ্যন্তরীণ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করার কথা জানায় ফাইভআর।গুলশানে বিডি কলিং আইটি লিমিটেডের নামে ৯ তলা এই ভবন কিনেছে বিটোপিয়া গ্রুপ ঘটনাটি বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং অঙ্গনেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। খাত–সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ কারসাজির অভিযোগের প্রভাব যদি বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং বাজারের ওপর সামগ্রিকভাবে পড়ে, তাহলে এর মাশুল দিতে হতে পারে অসংখ্য প্রকৃত ফ্রিল্যান্সারকে।২০১৭ সালে শুরু হয়েছিল প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান বিডিকলিং আইটির যাত্রা, বর্তমানে সেখান থেকে নাম হয়েছে বিটোপিয়া গ্রুপ। এই গ্রুপ বেশ কিছু স্থাবর সম্পত্তিও কিনেছে। রাজধানীর লোটাস কামাল টাওয়ার-২, লেভেল ৬, (৫৯ ও ৬১), সাউথ অ্যাভিনিউ, গুলশান অ্যাভিনিউ ঠিকানায় তাদের প্রধান কার্যালয়। এ ছাড়া রাজধানীর বনশ্রী, মহাখালিতেও তাদের কার্যালয় আছে। গুলশানে বিডি কলিং আইটি লিমিটেডের নামে কিছুদিন আগেই তারা কিনেছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ জমিতে একটি ৯ তলা ভবন (বাড়ি ৮/সি, রোড ২৯, গুলশান ১, ঢাকা)। ভবেন বাইরে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘এই সম্পত্তি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, কেরানীগঞ্জ শাখা, ঢাকা এর নিকট দায়বদ্ধ।’ ওয়েবসাইটে জানা যায় দেশের বাইরেও ৫টি প্রতিষ্ঠান আছে বিটোপিয়া গ্রুপের। তবে বাংলাদেশ থেকে কীভাবে পরিচালিত হয় তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ফাইভআর৩০০ অ্যাকাউন্ট স্থগিত, তদন্তে আরও হাজার হাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিটোপিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে ফাইভআর বিটোপিয়া-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০০টি অ্যাকাউন্ট সরাসরি স্থগিত করে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধভাবে মার্কেটপ্লেস কারসাজির অভিযোগে বিটোপিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও হাজার হাজার অ্যাকাউন্ট তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।তবে গত ৪ আগস্ট ফাইভআরের কমিউনিটি ফোরামে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট করে ৩০০টি অ্যাকাউন্ট কিংবা বিটোপিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, বিটোপিয়ার নামে সরাসরি কোনো অ্যাকাউন্ট না করে এসব অ্যাকাউন্ট বিটোপিয়ায় কর্মরত ব্যক্তিদের পরিচয় ও পাসপোর্টের তথ্য ব্যবহার করে খোলা হয়েছিল। তদন্তে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ধরন ও পরিচয় ব্যবহারের বিষয়গুলো উঠে আসার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ফাইভআরের বাংলাদেশ অংশের কমিউনিটি ফোরামে সংঘবদ্ধ অ্যাকাউন্ট কারসাজি নিয়ে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।এদিকে বিটোপিয়া-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের কাজ বাতিল করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।৪ আগস্টের ফাইভার বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে?৪ আগস্ট ২০২৬ ফাইভআরের বাংলাদেশ অংশের কমিউনিটি ফোরামে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ফাইভআরে সংঘবদ্ধ অ্যাকাউন্ট কারসাজি নিয়ে বিস্তারিত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ফাইভআর জানায়, তারা এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছে, যারা অন্য ব্যক্তিদের হয়ে ফ্রিল্যান্সার অ্যাকাউন্ট তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করছে। একই সঙ্গে মার্কেটপ্লেসের সুনাম প্রভাবিত করতে ভুয়া রিভিউ ও অর্ডার তৈরির অভিযোগও পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।ফাইভআর জানায়, প্রাথমিক তদন্তের পর এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ও অর্ডার শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তে নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া অ্যাকাউন্টগুলোকে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং সেগুলোর মার্কেটপ্লেসে অবস্থান নিচে নামিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কারসাজির মাধ্যমে অর্জিত সুবিধার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।থার্ড পার্টি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা নিষিদ্ধবিটোপিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে ফাইভআরের নিজস্ব নীতিমালার একাধিক বিধানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফাইভআরের নীতিমালা অনুযায়ী, একজন ব্যবহারকারী কোনো সেবা কেনাবেচার উদ্দেশ্যে একটি অ্যাকাউন্ট রাখতে পারবেন। একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে মার্কেটপ্লেসের কার্যক্রম বা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা গুরুতর নীতিমালা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে স্থগিত করার মতো কঠোর ব্যবস্থাও নিতে পারে ফাইভআর। এ ছাড়া অন্য ব্যবহারকারীদের তুলনায় অন্যায্য সুবিধা নেওয়া, মেসেজ আদান-প্রদান বা অর্ডার ব্যবস্থার অপব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারও ফাইভআরের নীতিমালায় নিষিদ্ধ।তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ফেক আইডেন্টিটি’ বা ভুয়া পরিচয়। ফাইভআরের নীতিমালা অনুযায়ী, অন্য কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তার নামে অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও সেটির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ যদি অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে, তাহলে তা ফাইভআরের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই বিধানের কারণেই বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে ফাইভআরের ‘ফেক আইডেন্টিটি’ নীতিমালার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।ভুয়া অর্ডার দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর র‍্যাংক নামানোর অভিযোগপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রিল্যান্সারদের গিগ বা অ্যাকাউন্টের র‍্যাংকিং ক্ষতিগ্রস্ত করতে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্ডার দেওয়া এবং পরে পরিকল্পিতভাবে অর্ডার বাতিল বা রিফান্ড করার অভিযোগ উঠেছে বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ফেসবুকে ফ্রিল্যান্সার এম এন নাহিদের অভিযোগ ঘিরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাঁর দাবি, বিটোপিয়া-সংশ্লিষ্ট একটি অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর ফাইভার গিগে অর্ডার দেওয়া হয় এবং পরে সেটি বাতিল করা হয়। তিনি এ-সংক্রান্ত প্রমাণ হিসেবে যে ফিগমা ফাইলের তথ্য দেখান, সেখানে বিটোপিয়ার একজন কর্মীর সম্পৃক্ততার দাবি ওঠে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিটোপিয়া বিষয়টি অস্বীকার করে এবং নাহিদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তাঁকে হেনস্তা করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসলে ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।পরবর্তী সময়ে বিটোপিয়ার এক সাবেক কর্মীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিতর্ক আরও জোরালো হয়। ওই কর্মীর দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নিজেদের গিগের র‍্যাংকিং বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভুয়া অর্ডারের কৌশল ব্যবহার করা হতো।কর্মীদের নামে ফাইভআর অ্যাকাউন্ট, নিয়ন্ত্রণ কোম্পানির হাতেবিটোপিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ হাজারের বেশি কর্মীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের তথ্য ব্যবহার করে কর্মীদের ব্যক্তিগত নামে ফাইভআর অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হতো। তবে এসব অ্যাকাউন্ট তাঁরা নিজেরা পরিচালনা করতেন না, বরং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার অধীনই অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালিত হতো।সাবেক কর্মীদের অভিযোগ, চাকরি ছাড়ার পরও অনেকে নিজেদের নামে খোলা কিংবা ব্যবহৃত ফাইভআর প্রোফাইলের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাননি। ফলে তাদের ব্যক্তিগত পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি অনলাইন প্রোফাইলের ওপরও তারা কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারান। এসব কারণে ফাইভআর বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।অভিযোগ শুধু ফাইভআরেই সীমাবদ্ধ নয়ফাইভআরকে ঘিরে অভিযোগের পাশাপাশি বিটোপিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে কর্মীদের পাসপোর্ট আটকে রাখা, চাকরি ছাড়তে চাইলে মামলা কিংবা হয়রানির ভয় দেখানো এবং কর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।সাবেক কর্মীদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিনা মূল্যে কিংবা স্বল্প পারিশ্রমিকে কাজ করানো, অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক ছাঁটাই, অনিয়মিত বেতন এবং অতিরিক্ত সময় কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক সফটওয়্যার প্রকৌশলীর দাবি, শিক্ষানবিশির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং ভালো পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও একটি ব্যাচের অধিকাংশ সদস্যকে মাত্র এক মাস পর ‘মূল্যায়ন স্কোর’-এর অজুহাতে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়।এ ছাড়া বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে বেতনকাঠামো নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, স্বাস্থ্যবিমা ও উৎসব ভাতার মতো কর্মিসুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই।বিডি কলিং আইটি থেকে বিটোপিয়ানেতিবাচক ভাবমূর্তি এড়াতে বিটোপিয়া বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিংবা ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করত বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক কর্মীরা। এ ক্ষেত্রে ফায়ারএআই, জেভিএআই, স্পার্কটেক, সফটভেন্স ও এসএমটেকের মতো প্রতিষ্ঠানের নাম সামনে এসেছে। বিটোপিয়ার নিজস্ব ওয়েবসাইটে (betopiagroup.com) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপটির অধীনে ২২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।শঙ্কায় বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতবাংলাদেশ থেকে হাজারো তরুণ ফাইভআর, আপওয়ার্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বৈধভাবে কাজ করছেন। নিজেদের পরিচয়ে কাজ করে তারা নিয়মিত বৈদেশিক আয় দেশে আনছেন। তবে একই দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক সংঘবদ্ধ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় বিটোপিয়াকে ঘিরে নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বাংলাদেশের প্রকৃত ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সম্প্রতি বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর বাংলাদেশের প্রকৃত ফ্রিল্যান্সারদের অনেক অ্যাকাউন্টও অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে পড়ছে। ফলে পরিচয় যাচাই, রিভিউ পরীক্ষা, অ্যাকাউন্টে বিধিনিষেধ কিংবা বাড়তি নজরদারির কারণে প্রকৃত ফ্রিল্যান্সারদের কাজের পরিবেশ কঠিন হয়ে উঠেছে।সরকারের রেমিট্যান্সেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কাবিটোপিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনির হোসেন আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশি অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনায় সংঘবদ্ধ অনিয়ম বা কারসাজির অভিযোগ ওঠায় দেশের বৈধ ফ্রিল্যান্সারদের ওপর প্ল্যাটফর্মগুলোর নজরদারি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে বৈদেশিক আয় কমতে পারে।গত ১৮ আগস্ট বিটোপিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনির হোসেন সকালে এই প্রতিবেদককে ফোন দেন এবং বলেন, আপনার সঙ্গে যে যোগাযোগ করে তথ্য দিত তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আপনি আসেন বিকেলে আপনার সঙ্গে কথা বলব।’ তিনি তখন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসলে আমি এই ব্যবসা থেকে বের হতে চায়ছি, আমার অনেক আইডি এখন ক্ষতিগ্রস্ত ফাইভআরে। এখান থেকে বের হব। অন্য ব্যবসা করব। ফ্রিল্যান্সিংয়ের এই কাজগুলো ঝামেলা।’সংশ্লিষ্টরা যা বলছেনবাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্কো) সাধারণ সম্পাদক ফায়সাল আলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সারদের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় ফ্রিল্যান্সাররা রয়েছেন এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে যারা তরুণদের এই সম্ভাবনাময় খাতকে বাধাগ্রস্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পেলে আমাদের ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের জন্য রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।’বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সার এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিটোপিয়া গ্রুপ যা করছে, তা কেবল অনৈতিকই নয়, এটি পুরোপুরি একটি পরিকল্পিত ডিজিটাল স্ক্যাম।ফাইভআরে একটি গিগ প্রথম পেজে নিয়ে আসাটা রীতিমতো যুদ্ধ জয়ের মতো কঠিন। একজন ফ্রিল্যান্সারের তিল তিল করে গড়ে তোলা ৫-৭ বছরের পেশা, হাজার হাজার ইতিবাচক রিভিউ—সবকিছু কয়েকটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ক্যানসেলেশনের কারণে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। হারানো র‍্যাংক পুনরুদ্ধার করতে মাসের পর মাস সময় লেগে যায়, যা একজন ফ্রিল্যান্সারের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার ওপর চরম আঘাত হানে। মেধা ও যোগ্যতার প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে তারা অন্য ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষতি করার যে নোংরা খেলায় মেতেছে, তা স্রেফ একটি মাফিয়া চক্রের মতো আচরণ। আইনি ভয় দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে তারা এই অন্যায়কে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।তারা শুধু ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সারদেরই পথে বসাচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের সামগ্রিক ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে নষ্ট করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা