রাজধানীর পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় বসতবাড়ির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৭) নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর সাবেক স্বামীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গত ১৩ আগস্ট দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে পল্লবী থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন রবিউল।অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করলে তার শরীরে চুলায় থাকা গরম ডাল ঢেলে দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
আহত রবিউলকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্রও থানায় দেওয়া অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।কী নিয়ে বিরোধ?রবিউল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন জয় ওরফে ‘শুটার সাদ্দাম’ তার স্ত্রীর সাবেক স্বামী। প্রায় ছয় মাস আগে আদালতের মাধ্যমে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে প্রায় এক মাস আগে রবিউলের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়।অভিযোগকারীর দাবি, তার স্ত্রী পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি, রোড-২২-এর একটি বাড়ির মালিক। ওই বাড়ির দখলকে কেন্দ্র করেই মূল বিরোধের সূত্রপাত। বাড়িটি দখলে নেওয়ার জন্য অভিযুক্তরা তাকে ও তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রবিউল আরও দাবি করেন, ঘটনার আগে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া এবং ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ আগস্ট দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।যেভাবে হামলার অভিযোগ
পল্লবী থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে রবিউল বলেন, অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে ঘিরে ফেলেন। এরপর ছুরি, চাপাতি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।একপর্যায়ে হামলাকারীদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন রবিউল। এরপর চুলায় থাকা গরম ডাল তার শরীরে ঢেলে দেওয়া হয়।এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধ ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে যাদের নাম রবিউলের লিখিত অভিযোগে সাদ্দাম হোসেন জয় ওরফে ‘শুটার সাদ্দাম’, ফারুক, রাজিব, লোকমান, জুয়েল, মুজিবর, রানু, শিমু ও শিরিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে সাদ্দাম হোসেন জয়ের সঙ্গে উল্লেখিত কয়েকজনের পারিবারিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন বাদী।
তদন্তেই বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ঘটনা
ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন রবিউল ইসলাম।তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে তাকে ও তার স্ত্রীকে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। এ কারণে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।তবে লিখিত অভিযোগে আনা এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ। অভিযুক্তদের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং বাড়িটির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।এ ঘটনায় পল্লবী থানা পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।