• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
Headline
বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম জনগণের পুলিশ হতে চাই, নিপীড়ক নয়: সিএমপি কমিশনার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন, নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো গৌরনদীতে ঢালাইয়ের পরই ধ্বসে পড়লো ব্রীজের পাটাতন দালালমুক্ত বিআরটিএ গড়তে কঠোর অভিযান, মিরপুরে ৫ জনের জেল বিচারাধীন ওয়াকফ সম্পত্তিতে নির্মাণের অভিযোগ, ড্যাফোডিল মান্নানের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি যানজটমুক্ত রাজধানী গড়তে ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই—সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধান চায় দশমিনা থানা পুলিশ কুটিনাওডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির গঠন সম্পন্ন

জনগণের পুলিশ হতে চাই, নিপীড়ক নয়: সিএমপি কমিশনার

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ঃ

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেছেন, পুলিশ জনগণের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়। নিপীড়ক নয়, জনগণের পুলিশ হিসেবে সেবা দেওয়াই সিএমপির লক্ষ্য। পুলিশের ভালো কাজের প্রধান মাপকাঠি হলো নাগরিক সন্তুষ্টি। সাধারণ মানুষ যদি পুলিশের সেবা ও আচরণে সন্তুষ্ট থাকে, তবেই বুঝতে হবে পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম. এ. মালেক। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাহবুব মাওলা রিপন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কার্যকর পুলিশিং নিশ্চিত করতে কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা তত সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশের আচরণই মানুষের কাছে পুলিশের পরিচয় বহন করে। শুধু পুলিশ নিজেকে আলাদা বা ভালো মনে করলেই হবে না; সাধারণ মানুষকে পুলিশের সেবার মাধ্যমে সেটি অনুভব করতে হবে।

জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে হাসান মো. শওকত আলী বলেন, আমরা নিপীড়নের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের আস্থাভাজন পুলিশ হিসেবে কাজ করতে চাই। জনগণের নিরাপত্তা, সেবা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। পুলিশের কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সেটিকে নেতিবাচকভাবে না দেখে গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা উচিত। গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা পুলিশকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হতে সহায়তা করে।

দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম. এ. মালেক বলেন, সাংবাদিক ও পুলিশ একে অপরের পরিপূরক। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ এবং সঠিক তথ্যের আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ নয়। তাই জনগণ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে পুলিশের কাজ আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে পুলিশ ও সাংবাদিক একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এই দুই পেশার মানুষ জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। পারস্পরিক আস্থা ও সুসম্পর্ক আরও জোরদার হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশ ও সাংবাদিকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রেস ক্লাবের পক্ষে বক্তব্য দেন কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত ও কাজী আবুল মনসুর, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সালেহ নোমান, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, কার্যনির্বাহী সদস্য ওয়াহিদ জামান ও সাইফুল ইসলাম শিল্পী, এটিএন নিউজের প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম পারভেজ, কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার ফারুক মুনির এবং সকালবেলার ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ আলী। এছাড়া প্রেস ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম সেলিম উপস্থিত ছিলেন।সিএমপির পক্ষে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুইয়া, ডিসি (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান এবং কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ নূর।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ডিসি (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দীন আহমেদ, ডিসি (ট্রাফিক-পশ্চিম) নিষ্কৃতি চাকমা, ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান, ডিসি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. রইছ উদ্দিন, ডিসি (ট্রাফিক-বন্দর) কবীর আহম্মেদ, ডিসি (সিএসবি) মো. গোলাম রুহুল কুদ্দুস, ডিসি (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন, ডিসি (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম, ডিসি (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন, এডিসি মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী, এডিসি মোহাম্মদ বদিউজ্জামান, এডিসি (সদর) শ্রীমা চাকমা এবং এসি (সদর) আমিনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা