
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ এরশাদ হালিম (৫০)–এর বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি, প্রতারণা, পরীক্ষায় সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে অস্বাভাবিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মিরপুর মডেল থানায় মামলা রুজু হয়েছে।এফআইআর নং-২৫; তারিখ—১৪ নভেম্বর ২০২৫; জি আর নং—৫৯৩/২০২৫।
ভুক্তভোগী বাঁধন দাস (২১)—রসায়ন বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি অভিযোগে জানান, একটি ল্যাব পরীক্ষায় সমস্যার কথা জানালে অধ্যাপক তাকে নিজের বাসায় আসতে বলেন। সরল বিশ্বাসে ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসায় গেলে অধ্যাপক দরজা-জানালা বন্ধ করে তাকে ম্যাসাজ করাতে বাধ্য করেন এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতে শুরু করেন। বাধা দিলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান।
১৪ অক্টোবরের রাত: নির্যাতনের চরম রূপ,ইং-১৪ অক্টোবর ২০২৫, রাত ১২:৩০,অধ্যাপক ফোনে আবারও ডেকে নিলে বাঁধন পরীক্ষার বিষয় পরিবার জানবে এই ভয়ে যেতে বাধ্য হন। বাসায় পৌঁছেই অধ্যাপক চড়-থাপ্পড় অশ্লীল গালিগালাজ জোর করে পোশাক খুলে ফেলা যৌনাঙ্গ ও অণ্ডকোষে জোরে চাপ
শারীরিক নির্যাতন অস্বাভাবিক যৌনসঙ্গম এসব নির্যাতন চালান। ব্যথা সহ্য করতে না পেরে বাঁধন একপর্যায়ে জ্ঞান হারান।পরদিন সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে জ্ঞান ফিরে তিনি দেখেন অণ্ডকোষ ফুলে গেছে, হাঁটতেও পারছেন না।অধ্যাপক তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে পৌঁছে দিয়ে ঘটনাটি গোপন রাখতে ভয়ভীতি দেখান।একজন নয় অনেক ছাত্রএকইভাবে শিকার বাদ জানান,অধ্যাপক দীর্ঘদিন ধরে রসায়ন বিভাগের বিভিন্ন ছাত্রকে বিভিন্ন অজুহাতে বাসায় ডেকে যৌন নির্যাতন করে আসছেন। তালিকায় আছেন হামীম তাশরীফ আবীর,
মাহফুজ আফ্রিদি ফারহান তানভির শুভ সুকান্ত অদ্র রেদওয়ান হোসাইন মৃধা অংগন পুরোকায়েছ কাব্য শাহরিয়ার হোসাইন আলিফ আব্দুল্লাহ আল আমিন ফাহিম প্রতিটি ঘটনাতেই পাওয়া গেছে একই ধরনের আচরণপরীক্ষার ভয়, নম্বর পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি, ভয়ভীতি, ব্ল্যাকমেইল এবং রাতের বেলা বাসায় ডেকে নেয়া।
অডিও–ভিডিও–স্থিরচিত্র: পুলিশের হাতে রয়েছে শক্ত প্রমাণবাদী কৌশলে নির্যাতনের বিভিন্ন অডিও, ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে রেখেছিলেন যা তিনি থানা পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। পুলিশের দাবি প্রমাণ অত্যন্ত শক্তিশালী, তদন্ত দ্রুতগতিতে চলছে।মামলা তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) মোঃমেহেদী,হাসানমিলন,বিপি-৯৩১৯২২৩০১০।ধারা—৩৭৭/৩২৩/৫০৬ পেনাল কোড।ঢাবি ক্যাম্পাসে বিস্ফোরণধর্মী প্রতিক্রিয়া ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদের অভিযোগ একজন শিক্ষক তার ক্ষমতা ব্যবহার করে বছরের পর বছর ছাত্রদের যৌন নিপীড়ন করলেও প্রশাসন তা জানতে পারেনি, অথবা জানলেও চোখ বন্ধ করে রেখেছিল।অভিভাবক সমাজ বলছে,একজন শিক্ষকের হাতে এতগুলো ছেলে নির্যাতনের শিকার—এটি দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কলঙ্ক।ছাত্ররা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে দাবি তুলছেন অধ্যাপককে বরখাস্ত করে দ্রুত বিচার করতে হবে।বিশ্লেষণ: ক্ষমতার অপব্যবহারের ভয়ংকর রূপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন—অধ্যাপক-ছাত্র সম্পর্ক সমাজে পবিত্র ও বিশ্বাসের জায়গা। সেই অবস্থানকে ব্যবহার করে কোনো শিক্ষক যৌন নিপীড়নের পথ বেছে নিলে তা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয় এটি পুরো শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বিপজ্জনক সংকেত।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে,যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে এটি ঢাবির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচে
য়ে বড় যৌন নির্যাতন কেলেঙ্কারি হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে।অধ্যাপক এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুধু একটি মামলার বিষয় নয় এটি ক্ষমতা, প্রলোভন, ভয়ভীতি এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এক বিকৃত যৌন নির্যাতন চক্রের চিত্র।
দোষী প্রমাণ হলে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠোর নীতিমালা।
Leave a Reply