প্রতিটি মানুষেরই জীবনে কোনো না কোনো স্বপ্ন থাকে—কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষক কিংবা কেউ বিসিএস ক্যাডার হতে চায়। কিন্তু প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বান্দরবানের থানচিতে অবস্থিত কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাশ্রতি ত্রিপুরার স্বপ্নটা একটু ভিন্ন। তার স্বপ্ন—একদিন বাংলাদেশ জাতীয় নারী কাবাডি দলের হয়ে মাঠে নামবে এবং বুকে লাল-সবুজের পতাকা জড়িয়ে দেশের জয়ের জন্য লড়বে।কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা, যার সঙ্গে মিশে আছে এ দেশের মাটির গন্ধ। আর এই ভালোবাসাই সাশ্রতির স্বপ্নকে ত্বরান্বিত করেছে। প্রতিবেশীর বাড়ির টিভিতে যখন সে দেখেছে বাংলাদেশের মেয়েরা ভারত ও ইরানের মতো পরাশক্তিদের হারাচ্ছে, তখন থেকেই তার হৃদয়ে এক নতুন শিহরণ সৃষ্টি হয়। সেই দিন থেকেই সে মনে মনে শপথ নেয়—একদিন সে-ও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের হারাবে।স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সাশ্রতি। স্কুলের সবুজ মাঠে শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় প্রতিদিন ‘কাবাডি, কাবাডি’ বলে তার ছুটোছুটি—যা তার স্বপ্নপূরণের প্রথম সিঁড়ি। ইতিমধ্যেই ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আন্তস্কুল টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সে।পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে মেয়েদের খেলাধুলা এখনো সহজভাবে গ্রহণ করা হয় না। তবে সামাজিক বাধা ডিঙাতে সাশ্রতির সবচেয়ে বড় শক্তি তার অদম্য ইচ্ছা এবং কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার শিক্ষকদের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন। ট্রফি হাতে তার গম্ভীর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মুখচ্ছবি বলে দেয়—তার চোখে লুকিয়ে আছে এক তীব্র জেদ। সাশ্রতির শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, একদিন হয়তো এই স্কুলের ইতিহাসেই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে—‘এখান থেকেই শুরু হয়েছিল জাতীয় কাবাডি খেলোয়াড় সাশ্রতি ত্রিপুরার পথচলা।’
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতির সুচারু বিশ্লেষণ এবং সঠিক তথ্য জানা সাধারণ মানুষের অধিকারের মধ্যে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।