
সুমন খান:
রাজধানী মিরপুর শাহআলী থানার সংলগ্ন গভীর রাতে বাসা থেকে আটককৃত যুবদল নেতার মৃত্যু ঘটনায় শাহআলী থানা ঘেরাও করেন, এলাকাবাসি। প্রশাসনের অমানবিক নির্যাতনের কারণে আসিফ শিকদার (২৫) নামের যুবদল নেতা মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা । নিহতের শরীরে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন থাকার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক ও স্বজনেরা তারা বলেন বিভিন্ন অঙ্গ পতঙ্গের কালো কালো দাগ রয়েছে শুধু মাইরের এবং অত্যাচারের, দাগ। আসিফ শিকদার রাজধানী মিরপুর ১ নম্বর নিউ সি ব্লকের মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (আহবায়ক কমিটি) শাহআলী থানা ছাত্রদল এবং সাবেক সদস্য সচিব ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড শাহআলী থানা ছাত্রদল বর্তমানে তিনি ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন।
শাহআলী থানা ঘেরাওকালে মিরপুর জোনের এডিসি জাকারিয়া ও আফরোজা এবং এসি ইমদাদুল ইসলামের উপস্থিতে আনন্দোলন কারিদের বুঝিয়ে ফেরৎ ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন। সেখানে শাহ্আলী থানার ওসি শফিকুল ইসলাম ছিলেন না বলে জানান থানার পুলিশ কর্মকর্তারা । আনন্দোলন কারিদের দাবী ছিলো ওসিকে আমাদের সামনে আনেন।
তখন তারা জানান এই হত্যাকান্ডের সাথে পুলিশ জড়িত নয়। এটা সেনাবাহিনী করছে আপনারা তাদের সাথে কথা বলেন। তাহারা আরও জানান গতকাল গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ৩ আসামিকে আটক করে সেনাক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানে আসামিদের কাছ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। আজ সকালে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ৩ আসামিকে থানায় হস্তান্তর করতে চাইলে আমি আসামি গ্রহন না করে এসআই ইমরানকে জব্দ তালিকার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠাই। এ সময় এসআই ইমরানের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর সদস্য ও আসামিরা ছিলেন। এক পর্যায়ে জব্দ তালিকা শেষ করে এসআই ইমরান থানায় ফিরে জানান, আসামিরা অসুস্থবোধ করছেন। টিমসহ দ্রুত আসামিদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠাই। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জন মারা যান।
নিহতের চাচাতো ভাই সিয়াম বলেন, গতকাল ভোর রাতে যৌথবাহিনীর লোকজন বাসায় এসে আসিফকে বাসার মধ্যে একটি রুমের ভেতর আটকে রেখে আড়াই ঘন্টা ধরে নির্যাতন চালায়। তাকে ইলেকট্রিক শক দেয়া হয়। পরে রাস্তায় নিয়েও তাকে পিটানো হয়। এ ঘটনার ভিডিও আমাদের কাছে আছে। এক পর্যায়ে মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে নিয়ে যায় যৌথবাহিনীর লোকজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত গভীর রাতে যৌথবাহিনীর একটি টিম শাহআলী থানাধীন মিরপুর ১ নম্বর নিউ সি ব্লক এলাকার ২২ নম্বর রোডের একটি বাড়ি এবং এ ব্লকের ৭ নম্বর রোডের আরেকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে যুবদলের ৩ নেতাকর্মীকে আটক করে। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানান। পরে আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাইন্সল্যাব এলাকার সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে জিঞ্জাসাবাদ শেষে ৩ আসামিকে শাহআলী থানায় হস্তান্তর করেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা। এক পর্যায়ে দুপুর ১১ টার দিকে গ্রেফতারকৃত আসামি আসিফ শিকদারসহ অন্য ২ আসামি অসুস্থ হয়ে পড়লে শাহআলী থানার এসআই মোঃ আল ইমরান চিকিৎসার জন্য পুলিশের গাড়িতে করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ শিকদারকে মৃত ঘোষণা করেন।
Leave a Reply