• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
Headline
বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ: স্ত্রীর অধিকার চাইতে গিয়ে লাঞ্ছিত সাথী আক্তার গৌরনদীতে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, দোকানপাট বন্ধ নিখোঁজ তরুনী সুরাইয়ার সন্ধান মেলেনি বানারীপাড়ায় গোপন তালাক কাণ্ড: প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষিকার ছেলে ধর্ষনমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ কবে…তাহমিদ জেরিন নুর খাল খননের নামে সারাদেশে লুটপাট চলছে : ব্যারিস্টার ফুয়াদ শেষ বিদায়ে জনতার ঢল, বাবা-মা ও স্ত্রীর কবরের পাশে সমাহিত তোফায়েল আহমেদ বরিশালে ছাদ থেকে নদীতে পড়ে কিশোর নিখোঁজ, লঞ্চের সময়সূচি স্থগিত বানারীপাড়ায় হামে সন্তান হারানো পরিবারে ঈদের আনন্দ রূপ নেয় বিষাদে সাবেক আওয়ামী লীগের মন্ত্রী না ফেরার দেশে চলে গেলেন,

বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ: স্ত্রীর অধিকার চাইতে গিয়ে লাঞ্ছিত সাথী আক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ২৯ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার গাভা এলাকার এক প্রধান শিক্ষিকার ছেলের বিরুদ্ধে বিয়ের নামে প্রতারণা, তথ্য গোপন, জালিয়াতি এবং গোপনে তালাক দিয়ে দীর্ঘদিন স্বামী পরিচয়ে সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী তরুণী সাথী আক্তারের দাবি, ভালোবেসে বিয়ে করার পর তিন বছর তাকে স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করলেও কখনো সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। পরে কোনো পূর্ব নোটিশ বা আলোচনার সুযোগ না দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে তালাকনামা পাঠিয়ে সম্পর্কের ইতি টানার চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগের তীর গাভা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া খানমের ছেলে তানভীর আহম্মেদ রানা ওরফে রাসেদের বিরুদ্ধে।অভিযোগের সূত্রপাত যেভাবে,ভুক্তভোগী সাথী আক্তার জানান, পূর্বের সংসারে বনিবনা না হওয়ায় তিনি ন্যায়বিচারের আশায় রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ নিয়ে যান। সেখানেই রাসেদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সহানুভূতি ও সহযোগিতার আশ্বাস দিতে দিতে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।পরবর্তীতে রাসেদ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সাথীর দাবি, কুয়াকাটার একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় এক কাজীর মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে রাসেদ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসারে তুলে নেবেন এবং সামাজিক স্বীকৃতি দেবেন।কাবিননামায় ‘অবিবাহিত’, বাস্তবে ছিল প্রথম স্ত্রী!সম্প্রতি আলোচনায় আসা ওই বিয়ের কাবিননামা ঘিরে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কাবিননামায় রাসেদ নিজেকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, তার পূর্ব থেকেই একটি বৈধ সংসার ও স্ত্রী রয়েছে।এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে,যদি পূর্বে স্ত্রী থেকে থাকে, তবে কাবিননামায় নিজেকে অবিবাহিত উল্লেখ করা হলো কেন? বিষয়টি প্রতারণা ও তথ্য গোপনের শামিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঢাকায় আলাদা বাসা, খরচ বহন করতেন স্ত্রীই,সাথীর অভিযোগ, বিয়ের পর তাকে বাড়িতে তুলতে রাজি হননি রাসেদের পরিবার। মায়ের আপত্তি এবং চাকরির অজুহাতে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে একটি বাসা ভাড়া নেওয়া হলেও অধিকাংশ খরচ তাকেই বহন করতে হয়েছে।তিনি জানান, রাসেদ মাঝেমধ্যে ঢাকায় গিয়ে তার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতেন। ছুটির দিনগুলোতে তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যেতেন এবং হোটেলে অবস্থান করতেন। এভাবে প্রায় তিন বছর সম্পর্ক চললেও কখনো তাকে পারিবারিক বা সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে তালাকনামা, হতবাক তরুণী,ঘটনার মোড় ঘুরে যায় সম্প্রতি। সাথীর মোবাইল ফোনে হঠাৎ একটি তালাকনামা পাঠানো হয়। সেটি দেখে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তালাকনামায় যে তারিখ উল্লেখ রয়েছে, সেই সময়ের পরও রাসেদ তার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন, বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। কিন্তু তাকে কখনো জানানো হয়নি যে ইতোমধ্যে তালাক কার্যকর করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।সাথীর ভাষ্য, আমি জানতামই না আমাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। সে আগের মতোই আমার সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। পরে হঠাৎ তালাকনামা পাঠিয়ে দেয়।কাজীর পরামর্শে তিন মাস গোপন’বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক,এ ঘটনায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রাসেদের মায়ের একটি বক্তব্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে যে, কাজীর পরামর্শ অনুযায়ী তিন মাস ছেলে ও মেয়েকে তালাকের বিষয়টি না জানানোর জন্য এমনটা করা হয়েছে।
যদিও অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে বক্তব্যটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, তালাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গোপন রেখে একজন নারীকে অন্ধকারে রাখা কতটা নৈতিক ও আইনসম্মত?স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে, পরে অজ্ঞান,তালাকনামা পাওয়ার পর নিজের অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতির দাবিতে সাথী আক্তার বানারীপাড়ায় রাসেদের বাড়িতে যান। সেখানে তাকে গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘ সময় ধরে কান্নাকাটি ও মানসিক চাপে একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অজ্ঞান হয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে সহায়তা করেন।বিচার চাইছেন ভুক্তভোগী,বর্তমানে সাথী আক্তার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলে জানিয়েছেন। তার দাবি, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।তিনি বলেন, আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই। যদি বিয়ে বৈধ হয়, তাহলে আমার অধিকার দিতে হবে। আর যদি প্রতারণা হয়ে থাকে, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি,স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়; বরং বিয়ের তথ্য গোপন, প্রতারণা, কাবিনে ভুল তথ্য প্রদান এবং তালাক-পরবর্তী আচরণসহ একাধিক গুরুতর আইনি প্রশ্নের জন্ম দেয়।তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা