• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
মাশরুম চাষ কি বাড়ছে, এটিই কি ব্যাঙের ছাতা? খোঁজ দ্য দরিদ্র সত্যি অপরাধের গল্পে কোটি কোটি ভিউ হাতে ব্যালন ডি’অর, মাথায় ব্যবসার বুদ্ধি—যেভাবে দুই ভুবনের ‘রাজা’ কেইন পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর ট্রাইব্যুনালে লক্ষ লক্ষ আবেদন ছয় মাস পরও ঝুলে আছে কেন- একজন বিচারকের ব্যাখ্যা পদুচেরি উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ঘরে বসে কোরআনের অর্থ শিখবেন যেভাবে ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট কে? ইসরায়েলের নির্বাচনে হারছে নেতানিয়াহুর জোট

হাতে ব্যালন ডি’অর, মাথায় ব্যবসার বুদ্ধি—যেভাবে দুই ভুবনের ‘রাজা’ কেইন

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

মাঠে গোল করার জন্য হ্যারি কেইনের দুটো পা আছে। আর মাঠের বাইরে টাকা বানানোর জন্য আছে মাথা। সেই মাথা অবশ্য একার নয়। সঙ্গে আছেন বাবা, মা, ভাই। আছেন ব্যবসায়িক অংশীদারেরাও। ফুটবলে গোল আর ব্যবসায় মুনাফা। দুই জায়গাতেই সমান দক্ষ ইংল্যান্ড অধিনায়ক। একসময় তাঁকে নিয়ে একটা রসিকতা চালু ছিল। গোল করেন, গোল্ডেন বুট জেতেন, কিন্তু ট্রফি জেতেন না। টটেনহামে থাকতে এই অপবাদ কিছুতেই ঘোচাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত উত্তর লন্ডনের মায়া ছেড়ে চলে গেলেন জার্মানির মিউনিখে। তারপর? তারপর যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে গেলেন!কেইন ও পুতেয়াসের মুখে ব্যালন ডি’অর জয়ের হাসিবায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ট্রফি জিতছেন। গোলের পর গোল করছেন। ব্যক্তিগত পুরস্কারও আসছে। সর্বশেষ সংযোজন ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর। ২৫ বছর পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে জিতেছেন ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট উঠেছে ৩৩ বছর বয়সী কেইনের মাথায়। জিতেছেন বর্ষসেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কারও। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সব প্রতিযোগিতায় করেছেন ৭৩ গোল। বায়ার্নকে টানা দ্বিতীয় বুন্দেসলিগা শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি ঘরোয়া ট্রেবল জয়েরও নায়ক তিনি।হ্যারি কেইন ও তাঁর ভাই চার্লি।সেই কেইন আবার সমান সফল ব্যবসার মাঠেও। ইংল্যান্ডের হয়ে তিনবার প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জেতা কেইন ব্যবসার প্রথম বড় সাফল্য পেয়েছেন আবাসন খাতে। এডওয়ার্ড জেমস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড নামে একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তিনি। প্রতিষ্ঠানটি চালান বাবা, মা ও ভাই চার্লির সঙ্গে। চার্লি শুধু তাঁর ভাই নন, এজেন্টও। কেইনের দলবদল থেকে শুরু করে বড় অঙ্কের চুক্তি, সবকিছু সামলান। ভাইয়ের উপার্জিত অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করলে আরও বাড়বে, সেটাও দেখেন চার্লি। ফলটা কী? যুক্তরাজ্যে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের আবাসন সম্পত্তির মূল্য এখন দেড় কোটি পাউন্ড!তবে শুধু পরিবারের মধ্যেই ব্যবসা সীমাবদ্ধ রাখেননি কেইন। হাত মিলিয়েছেন একসময়ের মাঠের প্রতিপক্ষ চেলসির কিংবদন্তি জন টেরির সঙ্গেও। দুজনেই বিনিয়োগ করেছেন ‘সিট ইউনিক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ইভেন্টের টিকিট বিক্রি এবং ব্যবস্থাপনার কাজ করে। এর বাজারমূল্য ৫০ কোটি পাউন্ডের বেশি।ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কি তাহলে ‘স্যার’ হ্যারি কেইনতবে কেইনের ব্যবসার আসল কেন্দ্র অন্য জায়গায়। সেটির নাম এইচকে২৮ লিমিটেড। পরিচিতি ‘দ্য হ্যারি কেইন কোম্পানি’ নামে। নাম শুনে মনে হতে পারে, কোনো ফুটবল একাডেমি। আসলে তা নয়। এটি কেইনের ফুটবল, ব্যবসা, বিনোদন ও দাতব্য কার্যক্রম পরিচালনার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান।হ্যারি কেইন ও জন টেরি।প্রতিষ্ঠানটির লিংকডইন পেজের বর্ণনা অনুযায়ী, ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও বায়ার্ন স্ট্রাইকারের ফুটবল, ব্যবসা এবং দাতব্য স্বার্থের পুরো ব্যবস্থাপনা করে এইচকে২৮। খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও দাতব্য খাতের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, উদ্ভাবক এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। উদ্দেশ্য, কেইনের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে অন্যদের অনুপ্রাণিত করা, শিক্ষা দেওয়া এবং ক্ষমতায়ন করা।মেসি এবার ব্যালন ডি’অরে পঞ্চম, অন্যরা কে কত নম্বরেএখানে কেইনের ব্যবসায়িক বুদ্ধির একটা বিশেষ দিক আছে। অন্য অনেক তারকা যেখানে বাণিজ্যিক চুক্তির জন্য বাইরের এজেন্সির ওপর নির্ভর করেন, কেইন সেখানে নিজের প্রতিষ্ঠান দিয়ে সব সামলান। অর্থাৎ চুক্তি থেকে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে। এমন পরিকল্পনা অবশ্য রাতারাতি করেননি কেইন। ২০১৪ সালের অক্টোবরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২১। টটেনহামের মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরের ঘটনা।মিউনিখে দুর্দান্ত সময় কাটছে কেইনের।ভাবা যায়! যে বয়সে অনেক তরুণ ফুটবলার প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়েই দুশ্চিন্তায় থাকেন, সেই বয়সে কেইন নিজের ভবিষ্যৎ আর্থিক সাম্রাজ্যের ভিত গড়ে ফেলেছিলেন। সেই ভিতের ওপর এখন দাঁড়িয়ে বিশাল ব্যবসা।অ্যামাজন, ক্যাডবেরি, টপসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি আছে কেইনের। খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটস্পোর্টস ও বায়োঅ্যান্ডমির সঙ্গেও কাজ করছেন। বাভারিয়ার স্থানীয় বাজার ধরতে চুক্তি করেছেন জার্মান ওটস ব্র্যান্ড থ্রিবিয়ার্সের সঙ্গে। তবে এসব চুক্তির কোনোটিই তাঁর ফুটবল বুটের চুক্তির কাছে দাঁড়াতে পারে না।ইয়ামাল কি সত্যিই পুরস্কারটি জিততে চেয়েছেনবায়ার্নে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পরেই সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন কেইন। নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমার মতো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড ছেড়ে বেছে নেন স্কেচার্সকে। ফুটবল বিশ্বে তখন বিস্ময়ের শেষ নেই। এত বড় তারকা, অথচ বুটের জন্য স্কেচার্স!কিন্তু চুক্তির অঙ্কটা জানলে বিস্ময়ের কারণ বদলে যাবে। স্কেচার্সের সঙ্গে আজীবনের চুক্তি করেন কেইন। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই চুক্তি থেকে বছরে পান প্রায় ৮০ লাখ পাউন্ড! শুধু বুট পরেই এত টাকা! এর সঙ্গে যোগ করুন বায়ার্নের বেতন। সপ্তাহে প্রায় ৪ লাখ পাউন্ড পান কেইন। বছরে যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ পাউন্ড। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া খেলোয়াড়দের একজন তিনি।পরিবারের সঙ্গে কেইন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় যুক্ত আছেন এডওয়ার্ড জেমস ইনভেস্টমেন্টসের মাধ্যমে।এখানেই শেষ নয়। ডেইলি মেইল স্পোর্টের খবর অনুযায়ী, বায়ার্নের সঙ্গে নতুন চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন কেইন। বয়স ৩৩ হলেও জার্মান চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে চায় ইংল্যান্ড অধিনায়ককে। নতুন চুক্তি হলে তাঁর আয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা। ফুটবলারদের ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ নয়। বয়স বাড়লে গতি কমে, গোল কমে, একসময় থেমে যায় করতালিও। কিন্তু কেইন যেন সেই ভবিষ্যতের প্রস্তুতিটা নিয়েছেন ক্যারিয়ারের শুরুতেই।একদিকে বায়ার্নের জার্সিতে গোলের উৎসব। অন্যদিকে আবাসন ব্যবসা, টিকিট ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি আর নিজের কোম্পানি। মাঠে তাঁর কাজ বল জালে পাঠানো। মাঠের বাইরে অর্থকে আরও অর্থ বানানোর কাজে লাগানো।কে কোন পুরস্কার জিতলেন, দেখে নিন এক নজরে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা