• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
Headline
নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৫৫, নারায়ণগঞ্জ–মুন্সিগঞ্জবাসীর সুযোগ মিরপুর-১-এ আড়াই ঘণ্টায় ২ হাজার দোকান উচ্ছেদ, আধা ঘণ্টা পরই ফুটপাত দখলে! বরিশালে ডেলটা লাইফ ইনসিওরেন্সের একক বীমার বিশেষ উন্নয়ন সভা অনুণ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মিন্টু সেরনিয়াবাত গ্রেপ্তার ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙায় পাঠ্যবই মুদ্রণে বাঁচল ১৪ কোটি টাকা ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণবের' প্রভাবে অন্ধ্র ও ওড়িশায় জনজীবন বিপর্যস্ত ইসরায়েলে ৭০ শতাংশ ভোট গণনা শেষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই কারো বাংলাদেশের শিক্ষক থেকে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী, আমার অভিজ্ঞতা পত্রিকা: 'নতুন পে-স্কেলে বেতন দিতে ব্যাংক ঋণ নেয়া বাড়িয়েছে সরকার' প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসির গভর্নরের বৈঠক, ঢাকায় কার্যালয় খোলার প্রস্তাব

মিরপুর-১-এ আড়াই ঘণ্টায় ২ হাজার দোকান উচ্ছেদ, আধা ঘণ্টা পরই ফুটপাত দখলে!

Reporter Name / ১২ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

…… ‌………………. অভিযান শেষ হতে না হতেই হকারদের প্রত্যাবর্তন, উচ্ছেদের স্থায়িত্ব ও পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন

সুমন খান:

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টার অভিযানে আনুমানিক দুই হাজার দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকজন হকারকে আবারও ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসতে দেখা যায়। এতে উচ্ছেদ অভিযানের কার্যকারিতা, পরবর্তী নজরদারি এবং ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।একদিকে নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ, অন্যদিকে ফুটপাত নির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা দুই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে মিরপুর-১-এর উচ্ছেদ অভিযান। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কেবল উচ্ছেদ চালিয়েই কি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব, নাকি প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন পরিকল্পনা?বিস্তীর্ণ এলাকায় অভিযান, সরানো হলো হাজারো দোকান,গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী মাজার এলাকা থেকে শুরু করে শাহ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শপিং কমপ্লেক্স, ছিন্নমূল মার্কেট, ফেয়ার প্লাজা, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, বাগদাদা ও সনি হল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও ফুটপাত থেকে দোকান সরানো হয়েছে।অভিযানের সময় ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নগরবাসীর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন দখল উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।তবে অভিযান শেষে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। সরেজমিনে অভিযান শেষ হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আবারও ফুটপাতে বসতে দেখা যায়। এতে উচ্ছেদের পরপরই পুনরায় দখল ঠেকাতে নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।উচ্ছেদের পরও কেন ফিরছেন হকাররা?উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে হকারদের ফিরে আসার ঘটনা ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।অভিযানের সময় দোকান সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও পরবর্তী সময়ে একই স্থানে নতুন করে দোকান বসানো ঠেকানো না গেলে উচ্ছেদের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি, দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।তবে হকাররা কেন আবারও ফিরে আসছেন, তাঁদের পুনরায় বসার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে কি না এবং উচ্ছেদের পর এলাকায় নজরদারির দায়িত্ব কার এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য প্রয়োজন।জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা,উচ্ছেদ অভিযানে দোকান সরিয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ফুটপাতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এসব স্থানে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া দোকান সরিয়ে দেওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা।মো. মিলন নামে এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, আমি কাপড়ের ব্যবসা করি। কিন্তু এখন কী করব, জানি না। আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দিয়ে তারপর সরানো উচিত। আমরা কাজ করে খাই।সাগর নামে এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলেন, এত দিন ধরে ব্যবসা করছি। এখন ফুটপাত থেকে তুলে দিচ্ছে। আমরাও উঠে যেতে চাই। তবে তার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত।ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে স্পষ্ট, তাঁরা একদিকে জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন, অন্যদিকে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করছেন। তবে তাঁদের দাবির পাশাপাশি ফুটপাত দখলের কারণে সাধারণ পথচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।ডিএনসিসির ঘোষণা: দখলমুক্ত করা হবে সব ফুটপাত,অভিযান প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সাংবাদিকদের বলেন, আজ শুধু ফুটপাত উচ্ছেদের অভিযান নয়। আমি বারবার বলেছি, ঢাকা শহরের যেসব জায়গায় এ ধরনের জঞ্জাল রয়েছে এবং যেগুলো আমার প্রিয় নগরবাসীর হাঁটাচলায় বাধা সৃষ্টি করছে, প্রতিটি জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। প্রতিটি জায়গার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।তাঁর বক্তব্যে নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে মিরপুর-১-এর মতো ব্যস্ত এলাকায় অভিযান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নিয়মিত নজরদারি কীভাবে চলবে এবং পুনরায় দখল হলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।মালামাল বিক্রির সুযোগ চান হকাররা,অভিযান শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে কয়েকজন দোকানিকে আবারও ফুটপাতে বসতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, দোকানের মালামাল বিক্রি না হলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। অন্তত মালামাল বিক্রির সুযোগ দিতে হবে। এরপর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।ফল ব্যবসায়ীর বক্তব্যে পচনশীল পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়ার প্রশ্ন এবংজনসাধারণের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজন দুটির মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয়।মিরপুর-১০-এর ঘটনার পরও চ্যালেঞ্জ,এর আগে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকাতেও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মিরপুর-১০-এর ঘটনার পর মিরপুর-১-এ নতুন করে অভিযান পরিচালনা নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে সামনে এনেছে। তবে উচ্ছেদের পাশাপাশি দখল প্রতিরোধ, নিয়মিত তদারকি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আইনসম্মত বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে একই স্থানে পুনরায় দোকান বসানোর প্রবণতা ঠেকানো কঠিন হতে পারে।স্থায়ী সমাধান কোথায়?মিরপুর-১-এর উচ্ছেদ অভিযান নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু আড়াই ঘণ্টার অভিযান শেষে আধা ঘণ্টার মধ্যেই আবার দোকান বসতে দেখা যাওয়ার ঘটনা কার্য ক্রমটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য। তাই কোনোভাবেই তা স্থায়ীভাবে দখল হয়ে থাকা কাম্য নয়। একই সঙ্গে ফুটপাতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।এ অবস্থায় প্রয়োজন উচ্ছেদের পর নিয়মিত নজরদারি, পুনরায় দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং প্রযোজ্য আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ।মিরপুর-১-এর ফুটপাত শেষ পর্যন্ত কত দিন দখলমুক্ত থাকে, তা-ই বলে দেবে এই অভিযান নগরবাসীর চলাচলে স্থায়ী স্বস্তি আনতে পারছে, নাকি এটি কেবল সাময়িক উচ্ছেদ কার্যক্রম হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা