সোনিয়া আক্তার:
চাকরি স্থায়ীকরণসহ চার দফা দাবি আদায়ে রাজধানীর পুরানা পল্টনে মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিং করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল সার্ভিস ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে কাজ করা প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার উচ্চশিক্ষিত যুবকের চাকরি স্থায়ীকরণ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থায়ীকরণের বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের শূন্য পদে নতুন নিয়োগ স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের ইশরাত টাওয়ারের ‘স্বপ্ন কুটির’-এ এ মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং ন্যাশনাল সার্ভিসের সাবেক কর্মীরা অংশ নেন।
সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. এনামুল কবির সিকদার বলেন, আমাদের স্থায়ী করার বিষয়টির চূড়ান্ত সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন কোনো সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এবং আমরা যেসব সরকারি দপ্তরে কাজ করেছি, সেসব দপ্তরের শূন্য পদে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্থগিত রাখতে হবে।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীরা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।চার দফা দাবি,সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন সভায় চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—চলমান ৩৭টি রিট মামলার রুল ও পুল নীতিমালার আলোকে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীদের সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ, সরকারি রানিং পে-স্কেলের আওতায় নেওয়া অথবা ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা প্রদান এবং ঋণ-অনুদান সুবিধা নিশ্চিত করা।তিনি বলেন, চলমান ৩৭টি রিট মামলার রুল ও পুল নীতিমালার আলোকে আমাদের সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ দিতে হবে। বর্তমান উচ্চ বাজারমূল্যের কথা বিবেচনা করে আমাদের সরকারি রানিং পে-স্কেলের আওতায় আনা হোক অথবা ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হোক।এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের আওতায় বয়সসীমা বিবেচনা না করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল সার্ভিস ঐক্য পরিষদের তালিকা অনুযায়ী আগ্রহী উচ্চশিক্ষিত বেকারদের ঋণ ও অনুদান দেওয়ার দাবি জানানো হয়।বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করেও বেকার,সভায় বক্তারা দাবি করেন, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩০ হাজার সহকারী শিক্ষক, ২০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিপুলসংখ্যক উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতী কাজ করেছেন। দীর্ঘদিনের কর্মঅভিজ্ঞতা থাকার পরও কর্মসূচি শেষ হওয়ায় তাদের অনেকেই বর্তমানে বেকার।বক্তারা বলেন, উচ্চশিক্ষিত এই যুবকদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি বিভিন্ন শূন্য পদে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলোও দক্ষ জনবল পাবে।
৩৭টি রিটের কথা তুলে ধরলেন নেতারা
ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীদের অধিকার আদায়ে হাইকোর্টে ৩৭টি রিট মামলা করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এসব মামলায় আদালত রুল জারি করেছেন বলেও দাবি করেন সংগঠনের নেতারা।তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ন্যাশনাল সার্ভিসের সাবেক কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তাই দ্রুত একটি কার্যকর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বরিশাল ও গোপালগঞ্জের বিভাগীয় ও স্থানীয় নেতা নেছারউদ্দীন, রাইসুল ইসলাম মিনা, সামিউল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, শাহিন মীর, জসিমউদ্দীন, হাসান জামান ও আসাদুজ্জামান বাচ্চুসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী কর্মীরা।সভায় বক্তারা ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীদের চার দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।