• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন
Headline
যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে নতুন আরও ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ দৌড়ে বর্ণবাদের জবাব দিয়েছিলেন জেসি ওয়েন্স ভারতের সবেচয়ে ধনী অভিনেতা শাহরুখ, তাঁর সম্পদের পরিমাণ কত ফাইভআরে বিটোপিয়ার অ্যাকাউন্ট কারসাজিতে সংকটে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত দৈনন্দিন লেনদেনে ইসলামের ৬ নির্দেশনা মেনে চলুন ‘আব্বু, আমাদের জাহাজে মিসাইল অ্যাটাক হইছে’ কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬২৪ সুনেরাহ্ লিখেছেন, ‘তোমার জন্য সুন্দর একটা পাত্রী খুঁজে পেয়েছি’, বাসারের মন্তব্য, ‘বড় বাঁচান বাঁচাইলা গো’ যুক্তরাষ্ট্রে বোমারু বিমানসহ চীনের প্রেসিডেন্ট সিকে বিরল অভ্যর্থনা ট্রাম্পের ২৩ সপ্তাহ ধরে বিলবোর্ডের শীর্ষে, বিরল রেকর্ড গড়লেন মার্কিন গায়িকা

দৌড়ে বর্ণবাদের জবাব দিয়েছিলেন জেসি ওয়েন্স

Reporter Name / ০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

একটি দৌড় শেষ হতে সময় লাগে কয়েক সেকেন্ড। কিন্তু সেই কয়েক সেকেন্ডের দৌড় কখনো একজন মানুষের পুরো জীবনকে বদলে দিতে পারে। আবার কখনো সেই দৌড় ছাপিয়ে যায় মাঠের সীমানা, হয়ে ওঠে একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। জেসি ওয়েন্সের দৌড়ও তেমনই।তিনি দৌড়েছিলেন সময়ের বিরুদ্ধে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে, নিজের সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে। ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকে তাঁর দৌড়ের অর্থ ছিল আরও বড়। সেই সময় জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি শাসন বর্ণবাদী মতাদর্শকে সামনে রেখে নিজেদের তথাকথিত শ্রেষ্ঠত্বের প্রচার করছিল। সেই মঞ্চেই একজন কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান তরুণ একের পর এক সোনা জিতলেন। চারটি ইভেন্টে চারটি স্বর্ণপদক।তবে জেসি ওয়েন্সের গল্প শুধু চারটি স্বর্ণপদকের গল্প নয়। তাঁর গল্প শুরু হয়েছিল আরও অনেক আগে দারিদ্র্য, বৈষম্য আর সীমিত সুযোগের মধ্য দিয়ে। অলিম্পিক শেষ হওয়ার পরও সেই গল্প শেষ হয়নি। তাই জেসি ওয়েন্সকে শুধু একজন দ্রুততম দৌড়বিদ হিসেবে মনে রাখলে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হয়তো বাদ পড়ে যায়। তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তর ছিল নিজের খেলা।জেসি ওয়েন্সের শুরুর জীবনজেসি ওয়েন্সের জন্ম ১৯১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার ওকভিলে। পুরো নাম জেমস ক্লিভল্যান্ড ওয়েন্স। বাবা হেনরি ওয়েন্স ছিলেন কৃষক। পরিবারে ছিল অনেক সন্তান। ছোটবেলা থেকেই অর্থনৈতিক কষ্ট জীবনের অংশ ছিল। পরে পরিবার চলে যায় ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে। সেখানেই তাঁর দৌড়ের প্রতিভা ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে। স্কুলের মাঠে তিনি এমন কিছু রেকর্ড করতে থাকেন, যা অন্যদের নজর কাড়ে। খুব অল্প বয়সেই বোঝা যায়, এই ছেলেটির পায়ের গতি সাধারণ নয়। কিন্তু প্রতিভা থাকা আর সুযোগ পাওয়া দুটি বিষয় তখন এক ছিল না।যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ মানুষেরা তখনো নানা ধরনের বৈষম্যের মধ্যে বসবাস করতেন। ‘জিম ক্রো’ ব্যবস্থার কারণে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনের নানা ক্ষেত্রেই বৈষম্য ছিল। খেলাধুলার ক্ষেত্রেও সুযোগ সীমিত ছিল। ওয়েন্স স্কুলে একের পর এক প্রতিযোগিতায় জিতছিলেন। উচ্চবিদ্যালয়ে তিনি পরপর তিন বছর ওহাইও স্টেট ট্র্যাক চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। ১৯৩৩ সালের ন্যাশনাল ইন্টারস্কলাস্টিক মিটে তিনি ১০০-ইয়ার্ড দৌড়ে বিশ্ব রেকর্ডের সমান সময় করেন এবং ২২০-ইয়ার্ড দৌড়ে নতুন হাইস্কুল বিশ্ব রেকর্ড গড়েন।এত সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই বড় বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর প্রতি আগ্রহী হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি ভর্তি হন ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। এখানেও পথ সহজ ছিল না। তাঁর জন্য কোনো ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড স্কলারশিপ ছিল না। পড়াশোনা আর খেলাধুলার পাশাপাশি তাঁকে কাজ করতে হতো। কখনো লিফট অপারেটর, কখনো ওয়েটার, কখনো গ্যাস স্টেশনে কর্মী; বিভিন্ন কাজ করে নিজের ও পরিবারের খরচ চালিয়েছেন। দৌড়ের মাঠে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে জীবনের অনেক দৌড় শেষ করতে হয়েছিল।সেই অবিশ্বাস্য ৪৫ মিনিটের গল্প১৯৩৫ সালের ২৫ মে। মিশিগানের অ্যান আরবারে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল বিগ টেন চ্যাম্পিয়নশিপ। সেদিন জেসি ওয়েন্সের শরীরও পুরোপুরি ভালো ছিল না। সিঁড়ি থেকে পড়ে পিঠে চোট পেয়েছিলেন। এতটাই অসুবিধা ছিল যে আদৌ প্রতিযোগিতায় নামতে পারবেন কি না, সন্দেহ ছিল। কিন্তু মাঠে নামলেন। তারপর যা ঘটল, তা আজও অ্যাথলেটিকসের ইতিহাসে অবিশ্বাস্য এক অধ্যায়।মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে ওয়েন্স তিনটি বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন এবং আরেকটি বিশ্ব রেকর্ডের সমান করলেন। ২২০-ইয়ার্ড দৌড়, ২২০-ইয়ার্ড লো হার্ডলস ও লং জাম্পে বিশ্ব রেকর্ড এবং ১০০-ইয়ার্ড দৌড়ে বিশ্ব রেকর্ডের সমতা; একটি প্রতিযোগিতায় এমন কীর্তি তাঁকে ক্রীড়া ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে দেয়। একজন মানুষ কত দ্রুত দৌড়াতে পারে, তার হিসাব হয় সেকেন্ডে। কিন্তু ওয়েন্সের ক্ষেত্রে সেই সেকেন্ডগুলো যেন তাঁর জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। তিনি তখনো জানতেন না, মাত্র এক বছর পর তাঁর সামনে আরও বড় একটি মঞ্চ অপেক্ষা করছে।বার্লিন অলিম্পিকে ওয়েন্সের জবাব১৯৩৫ সালের সেই অসাধারণ কীর্তির পর ওয়েন্সের সামনে অপেক্ষা করছিল আরও বড় পরীক্ষা—১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিক। হিটলারের নাৎসি সরকার এই আয়োজনকে নিজেদের প্রচারের একটি বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। বিদেশি দর্শকদের সামনে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জার্মানির ছবি তুলে ধরার পাশাপাশি নাৎসি শাসন নিজেদের বর্ণবাদী মতাদর্শের শ্রেষ্ঠত্বও দেখাতে চেয়েছিল। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীড়াবিদদের সামনেও ছিল কঠিন বাস্তবতা। তাঁরা এমন একটি দেশে যাচ্ছিলেন, যেখানে নাৎসি সরকার প্রকাশ্যেই বর্ণবাদী মতাদর্শ প্রচার করছিল। আবার যে দেশ থেকে তাঁরা যাচ্ছিলেন, সেই যুক্তরাষ্ট্রেও কৃষ্ণাঙ্গদের বৈষম্যের শিকার হতে হতো।শেষ পর্যন্ত জেসি ওয়েন্স বার্লিনে গেলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর গতি, লং জাম্পের দক্ষতা আর বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা আত্মবিশ্বাস। তবে বার্লিনের সেই মঞ্চে তিনি শুধু নিজের জন্য দৌড়াতে যাচ্ছিলেন না, তাঁর প্রতিটি দৌড় এমন একটি সময়ের সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছিল, যখন মানুষের গায়ের রংকেও যোগ্যতা মাপার একটি মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হতো।বার্লিন অলিম্পিকের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে জেসি ওয়েন্স নামলেন চারটি ইভেন্টে। প্রথমে ১০০ মিটার। জিতলেন স্বর্ণ। তারপর ২০০ মিটার, আবারও স্বর্ণ। এরপর লং জাম্পেও সোনা। সবশেষে ৪x১০০ মিটার রিলেতে যুক্তরাষ্ট্রের দল জিতল স্বর্ণপদক, আর ওয়েন্স পেলেন তাঁর চতুর্থ সোনা। চারটি ইভেন্ট, চারটি স্বর্ণপদক। ১৯৩৬ সালের অলিম্পিকে একজন আমেরিকান ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলেট হিসেবে একই আসরে চারটি স্বর্ণ জেতার নজির প্রথম তৈরি করলেন।আজ চারটি স্বর্ণের সংখ্যাটি শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, তখন এর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। কারণ, তিনি যে মাঠে দৌড়াচ্ছিলেন, সেটি ছিল এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে, যেখানে নাৎসি সরকার তথাকথিত ‘আর্য শ্রেষ্ঠত্বের’ ধারণা প্রচার করছিল। ওয়েন্স কোনো বক্তৃতা দিয়ে সেই মতাদর্শের জবাব দেননি, কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তর্কও করেননি। তিনি মাঠে দাঁড়িয়েছিলেন, স্টার্টিং ব্লক থেকে ছুটেছিলেন এবং ফিনিশিং লাইনে গিয়ে বারবার প্রথম হয়েছেন।তাঁর চারটি স্বর্ণপদক তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের স্মৃতি হয়ে থাকেনি, সেগুলো নাৎসি বর্ণবাদী ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত একটি বাস্তব দৃশ্য তৈরি করেছিল। তবে জেসি ওয়েন্স একা ছিলেন না। ১৯৩৬ সালের অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের দলে ১৮ জন কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলেট অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা সম্মিলিতভাবে ১৪টি পদক জিতেছিলেন— ৮টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ। এর মধ্যে চারটি স্বর্ণই ছিল জেসি ওয়েন্সের। ফলে বার্লিনে কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলেটদের সাফল্য ছিল একটি বৃহত্তর ঘটনা। ওয়েন্স অবশ্যই সেই সাফল্যের সবচেয়ে আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর চারটি স্বর্ণপদক আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে যে দীর্ঘ সংগ্রাম ছিল, সেটিও মনে রাখা দরকার। যে মানুষটি কয়েক বছর আগেও নিজের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাতে বিভিন্ন কাজ করতেন, সেই মানুষটিই কয়েক বছরের মধ্যে অলিম্পিকের সবচেয়ে আলোচিত অ্যাথলেটদের একজন হয়ে উঠেছিলেন।ওয়েন্সের চারটি স্বর্ণের মধ্যে লং জাম্পের ঘটনাটিও আলাদা করে মনে রাখার মতো। যোগ্যতা পর্বে তিনি প্রথম দুটি চেষ্টায় ফাউল করেছিলেন। আর একটি ভুল হলে মূল প্রতিযোগিতা থেকেই বাদ পড়তে পারতেন। সেই সময় জার্মান লং জাম্পার লুজ লং তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এবং রানআপের দূরত্ব কিছুটা কমিয়ে নিরাপদভাবে লাফ দেওয়ার পরামর্শ দেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে। ওয়েন্স শেষ পর্যন্ত যোগ্যতা অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক জেতেন। লং পান রৌপ্য। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর দুই অ্যাথলেটের মধ্যে যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল, সেটিও ১৯৩৬ সালের অলিম্পিকের অন্যতম স্মরণীয় মানবিক গল্প হয়ে আছে।তবে বার্লিনে চারটি স্বর্ণপদক জেতার পরও জেসি ওয়েন্সের জীবনের বর্ণবাদের গল্প শেষ হয়ে যায়নি। এখানেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্যগুলোর একটি সামনে আসে। বার্লিনে তিনি বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলেট কী করতে পারেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে তাঁর নিজের দেশের বর্ণবাদী বাস্তবতা হঠাৎ বদলে যায়নি। ১৯৩৬ সালের কৃষ্ণাঙ্গ অলিম্পিক অ্যাথলেটদের অনেকেই দেশে ফিরে আবারও এমন একটি সমাজের মুখোমুখি হন, যেখানে বর্ণবৈষম্য তখনো বাস্তবতা। অলিম্পিকে সাফল্য পাওয়ার কারণে তাঁদের জীবনের সব দরজা খুলে যায়নি। জেসি ওয়েন্স নিজেও পরে তাঁর জীবনের এই বৈপরীত্যের কথা বলেছেন।চারটি পদক নিয়ে দেশে ফেরার পর তাঁকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ ছিল, অভিনন্দন ছিল, কিন্তু স্বাভাবিক জীবনে ফিরে চাকরি পাওয়ার মতো বিষয়গুলো এতটা সহজ ছিল না। যে মানুষটি বার্লিনের মাটিতে চারটি স্বর্ণ জিতে নিজের দেশের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন, তাঁকেও দেশে ফিরে জীবিকার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে।এরপর বয়স বাড়ার সঙ্গে ওয়েন্স নিজের পরিচয়কে শুধু অ্যাথলেট হিসেবে আটকে রাখেননি। ক্লিভল্যান্ডে তিনি খেলাধুলার মাঠ ও তরুণদের নিয়ে কাজ করেন। পরে সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য কাজ করেন শিকাগোতেও। তরুণদের উৎসাহ দেওয়া, তাদের সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে সাহায্য করা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের সামনে নতুন পথ তৈরি করা তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তিনি বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন, তরুণদের সঙ্গে কথা বলেছেন, স্কুল, সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। একসময় যে তরুণকে নিজের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালানোর জন্য বিভিন্ন কাজ করতে হয়েছিল, পরবর্তী জীবনে সেই মানুষটিই অন্য তরুণদের সামনে দাঁড়িয়ে বলার সুযোগ পেয়েছিলেন, সুযোগ পেলে একজন মানুষ কত দূর যেতে পারে।জেসি ওয়েন্স জীবনে অনেক সম্মান পেয়েছেন। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড তাঁকে প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম দেন, যা দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান। ১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার তাঁকে লিভিং লেজেন্ড অ্যাওয়ার্ড দেন। পরে ১৯৯০ সালে মৃত্যুর পর তাঁকে কনগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। কিন্তু এসব সম্মান তাঁর জীবনের আগের বৈষম্যকে মুছে দেয়নি। একজন মানুষকে সম্মানিত করা আর একটি সমাজের বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়ে যাওয়া, দুটি এক জিনিস নয়। জেসি ওয়েন্সের জীবন সেটিই মনে করিয়ে দেয়।শেষ দৌড়১৯৮০ সালের ৩১ মার্চ অ্যারিজোনার টাকসনে মারা যান জেসি ওয়েন্স। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। কিন্তু গল্প সেখানেই শেষ হয়নি। আজও যখন ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকের কথা বলা হয়, তখন তাঁর নাম সামনে আসে। চারটি স্বর্ণপদক তাঁর ক্রীড়া সাফল্যের সবচেয়ে দৃশ্যমান স্মৃতি। কিন্তু জীবনের অর্থ শুধু পদকের সংখ্যায় আটকে নেই। একদিকে ছিল আলাবামার দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এক কৃষ্ণাঙ্গ ছেলে; অন্যদিকে ছিল এমন এক বিশ্ব, যেখানে মানুষের গায়ের রং দিয়ে যোগ্যতা বিচার করা হতো।জেসি ওয়েন্সের গল্প শেষ পর্যন্ত শুধু একজন দ্রুতগতির অ্যাথলেটের গল্প নয়। এটি এমন এক মানুষের গল্প, যিনি নিজের জীবনের প্রতিটি বাধাকে পেরিয়ে এগিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের খেলাকেই বানিয়েছেন তাঁর সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা।বন্ধু, ভৈরব বন্ধুসভা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা