এম সাইফুর রহমান, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে একাধিকবার ধ/র্ষ/ণ এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ধারণ করে হু/ম/কি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আল মামুন (২৮) নামে এক প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল মামুন উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম রায়গঞ্জ গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। গত ৬ সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরী থানায় মামলাটি করা হয়। থানার মামলা নম্বর-৮। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আরিফা খাতুন (২৫) ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভরতেরছড়া (মুভিঘর) এলাকার বাসিন্দা। আল মামুন বিদেশে থাকাকালে ওই নারীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে তার সংসার নষ্ট ও সন্তানকে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হলে স্বামীকে তালাক দেওয়ার জন্য ওই নারীকে চাপ দেন আল মামুন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রায় তিন মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর বিয়ের কথা বলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৩ আগস্ট রাতে আল মামুন ওই নারীকে রামখানা ইউনিয়নের আস্করনগর নিউ মার্কেট এলাকার আনিসুর রহমান (৫০) নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে তিন থেকে চার দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধ/র্ষ/ণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ১৮ আগস্ট ভোরে আল মামুন ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এরপর ওই নারী যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারী নাগেশ্বরী থানায় মামলা করেন। পরে আল মামুন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে তাকে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাগেশ্বরী থানার এসআই (নিঃ) এনামুল হক নিশ্চিত করেন আল মামুনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। বিষয়টি আরও নিশ্চিত করে তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।