রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা। সংবাদ সম্মেলনে ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিকানা দাবি করে এক ব্যক্তি তার দাবির পক্ষে বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে চলমান বিরোধের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, ফ্ল্যাটটির বৈধ মালিকানা থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে। অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে ফ্ল্যাটটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ফ্ল্যাটের মালিকানা দাবি করা ব্যক্তি বলেন, তার কাছে ফ্ল্যাটটির মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র রয়েছে। এসব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করলেই প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, বৈধ মালিকানার দলিল থাকার পরও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে তিনি সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি ফ্ল্যাটটির দখল নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।তিনি বলেন,আমার কাছে ফ্ল্যাটটির বৈধ মালিকানার প্রয়োজনীয় দলিলপত্র রয়েছে। তারপরও একটি মহল আমার মালিকানা নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং ফ্ল্যাটটি দখলের চেষ্টা করছে বলে আমি আশঙ্কা করছি। আমি কোনো পক্ষের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমার দাবি,বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।অপপ্রচার বন্ধ ও প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের দাবি,সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে।তাদের অভিযোগ, ফ্ল্যাটটির মালিকানা সংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই না করেই বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত মালিকানা নিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের প্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।বক্তারা আরও বলেন, মালিকানা নিয়ে কারও কোনো দাবি বা আপত্তি থাকলে তা দলিলপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার কিংবা কোনো পক্ষকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানান।বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ,সংবাদ সম্মেলনে ফ্ল্যাটের মালিকানা সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও তোলা হয়।বক্তাদের দাবি, এলাকার একটি ছোটখাটো সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে গিয়ে বিএনপির কিছু নেতা অযথা বিতর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে যে অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তারা।এ সময় মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আওলাদের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগ প্রচারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগ গুলোকে ,মিথ্যা ও বানোয়াট,বলে দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, আওলাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এক বক্তা বলেন,কাউকে রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা তথ্য প্রচার করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করা উচিত। আমরা চাই, প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।
আইনগত প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান,বক্তারা বলেন, ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে কোনো পক্ষের মধ্যে বিরোধ থাকলে তা আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। দলিলপত্র যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।তারা আরও বলেন, কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার করা উচিত নয়। এতে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে থেকে যেতে পারে এবং নিরপরাধ ব্যক্তিরা হয়রানির শিকার হতে পারেন।সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্টরা ফ্ল্যাটের মালিকানা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র উপস্থাপন করে সেগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানান। একই সঙ্গে অপপ্রচার বন্ধ, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত এবং মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের দ্রুত ও ন্যায়সংগত সমাধানের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন তারা।তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় আইনগত তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।