• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
Headline
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু রামানুজনের একটি সূত্র থেকে মিলল অসীমসংখ্যক নতুন সূত্রের সন্ধান বাংলালিংকের অ্যাপের নতুন রূপ মুক্ত জাপান সফরের চুক্তি ও বিনিয়োগ নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে জানালেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিক-পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে ভয় দেখাতেন ‘সমন্বয়ক’, দাবি করেন ৫০ লাখ টাকা মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরপুরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ সন্তানের মানসিক বিকাশ ও সংকট দূরীকরণে অভিভাবকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম আলোতে হামলা: সাড়ে ১০ মাসেও তদন্ত এগোয়নি, গ্রেপ্তার সবাই জামিনে মুক্ত

মিরপুরে পোশাক শ্রমিক-পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন

সুমন খান / ১৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে রাজপথে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ পুলিশের; গতকাল ৩ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা ২২ মিনিট থেকে মিরপুর-১১ স্টেশনে ট্রেন থামা বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা।ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে আবারও রাজপথে নেমেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে আন্দোলন কারীদের পক্ষ থেকেও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে।সংঘর্ষের জেরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন মেট্রোরেলের মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে মেট্রোরেল ব্যবহারকারী যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষও পড়েছেন অনিশ্চয়তায়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। কিছু সময় পরপর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা,শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের সরাসরি প্রভাব পড়ে মেট্রোরেল চলাচলেও। সংঘর্ষের কারণে সকাল ১০টা ২২ মিনিট থেকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহসিন শেখ।তিনি জানান, সংঘর্ষের কারণে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে ট্রেন থামছে না। তবে মেট্রোরেলের বাকি স্টেশনগুলো চালু রয়েছে।এদিকে মেট্রোরেল প্যাসেঞ্জার কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যেও মেট্রোরেল চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিস্থিতির কারণে ট্রেন চলাচলে কিছুটা শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট স্টেশন কন্ট্রোলারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্রেনের সময়সূচি জেনে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে মেট্রোরেলের হেল্পলাইন ১৬১৪৫ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।শ্রমিকদের দাবি, সংকটের সমাধান কোথায়? পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখো শ্রমিকের জীবন-জীবিকা। অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাসাভাড়া, খাদ্যপণ্যের মূল্য এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচের সঙ্গে শ্রমিকদের আয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি নতুন করে সামনে আসায় শিল্পাঞ্চলের শ্রমপরিবেশ ও শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে দাবি আদায়ের আন্দোলন সংঘর্ষে রূপ নিলে একদিকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচল ও জননিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই ঝুঁকি তৈরি হয়।প্রশ্ন উঠেছে, শ্রমিকদের অসন্তোষের কারণগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হচ্ছে? মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি, শ্রম অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে এমন পরিস্থিতি বারবার তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ,মিরপুর রাজধানীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকা। এখানে পোশাক কারখানা, আবাসিক এলাকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা পাশাপাশি অবস্থিত। ফলে শ্রমিক আন্দোলন ও সংঘর্ষের প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট কারখানা বা শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়ে।বিশেষ করে মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণপরি বহনের একটি স্টেশনে ট্রেন থামা বন্ধ থাকায় যাত্রীদের বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুইয়েরই অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।সামনে যে প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ,মিরপুরে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে নির্দিষ্ট কোন কোন দাবি ও কারণ কাজ করছে, সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের আলোচনা হয়েছে কি না, সংঘর্ষে কেউ আহত হয়েছেন কি না এবং মেট্রোরেল স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম কখন ফিরবে ,এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া জরুরি।পাশাপাশি আন্দোলন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ কতটা প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক ছিল, সেটিও নিরপেক্ষ ভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি, শিল্পের স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোনোটিকেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই হতে পারে এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কার্যকর পথ।এখন দেখার বিষয়, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী উদ্যোগ নেয় এবং মিরপুরের স্বাভাবিক জনজীবন ও মেট্রোরেল চলাচল কত দ্রুত পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা