রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো:
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বরিশালের বানারীপাড়া থানায় ওসির কক্ষে উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের ইউপি সদস্য আবু তুর্কি টুলু,নাগরিক উদ্যোগের নারীনেত্রী পরিভানু, রাজমিস্ত্রি জালিছ মাহমুদ ও তার বাবা-মা এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ স্থাণীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে জালিছ মাহমুদের অসুস্থ শিশু সন্তান “হুমায়রা জান্নাতকে’ তার মা পপি খানমের জিম্মায় দেওয়া হয়। এর আগে অসুস্থ শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করানো হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় শিশুটিকে তার বাবা জালিছ মাহমুদ মাঝেমধ্যে নিজের কাছে নিযে রাখতে পারবেন। সন্তানের ওপর পিতা-মাতার অধিকার সমান। তবে জানা গেছে, মুসলিম পারিবারিক আইনঅনুযায়ী ছেলে সন্তান ৭ বছর এবং কন্যা সন্তান প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার মায়ের কাছে থাকবে । যেহেতু হুমায়রা জান্নাতের বয়স মাত্র দুই বছর ৮ মাস সেহেতু মায়ের কাছে সে থাকবে এটা স্বাভাবিক। বাবার সঙ্গেও তার থাকবে নিবিড় যোগাযোগ। দাম্পত্য কলহে শিশুটির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারনে কিছুটা অন্তরায় সৃষ্টি হয়। শিশুটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দোলাচলে পড়ে।
বিচ্ছেদের পরে শিশুটিকে তার বাবা- মা উভয়েই নিজের কাছে রাখতে চাওয়া নিয়ে তারা দ্বন্দ্বে জড়ান । হুমায়রা জান্নাত দীর্ঘদিন বাবার কাছে থাকায় তার মা পপি খানম মেয়েকে নিজের কাছে ফিরে পেতে ব্যাকুল হয়ে পড়েন। বার বার চেষ্টা করেও মেয়েকে ফিরে পেতে তিনি ব্যর্থ হন। শিকার হন হুমকি-ধামকির। চিকিৎসা না পেয়ে নাড়ীছেড়া ধন শিশু কন্যা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে জেনে
তিনি থানা পুলিশের দারস্থ হন। বিনা চিকিৎসায় একটি শিশু সন্তান মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এমন লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করানোসহ তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে মানবিকতার দৃষ্টিতে উদ্যোগী হয়। ফলে জালিছ মাহমুদকে থানায় ডেকে এনে এবং অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে
স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্ততায় শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেয়া হয়। মানবিক দৃষ্টিকোনে একটি অবুঝ অসুস্থ শিশুকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওসি মজিবুর রহমান ও এসআই জাহিদসহ পুলিশ সদস্যরা। মারধরসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মঙ্গলবার ওসি ও এসআইসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজমিস্ত্রি জালিছ মাহমুদ বরিশাল আদালতে মামলা ঠুকে দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক পিবিআই”র পুলিশ সুপারকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান বলেন,মামলায় আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। মানবিক কারনে দুই বছর আট মাস বয়সী শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাবার সঙ্গেও শিশুটির নির্বিঘ্ন যোগাযোগ থাকবে। যখনি চাইবেন বাবা তার মেয়েকে তার কাছে নিয়ে রাখতে পারবেন।। উপ-পরিদর্শক
(এসআই) মোঃ জাহিদের দাবী পপি খানমের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জালিছ মাহমুদকে থানায় ডেকে এনে ইউপিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তের আলোকে শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায দেওয়া হয়েছে। মামলার বাদী জালিছ মাহমুদকে কোন মারধর করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। নিছক হয়রাণি ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তার দাবি।