সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তুলতে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬ ) সকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে চালক, যাত্রী, পথচারীসহ সড়ক ব্যবহারকারী প্রত্যেকের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন মেনে চলা, ফুটপাত ব্যবহার, জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপার এবং ট্রাফিক সংকেত অনুসরণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সচেতনতা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ সামনে রেখে বিআরটিএর এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলে গুরুত্ব,অনুষ্ঠানে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. মসিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সড়কে শৃঙ্খলা মেনে নিরাপদে চলাচল করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের মানসিকতা তৈরি করতে হবে, যাতে তারা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অন্যদেরও সচেতন করতে পারে।বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ভিডিও প্রদর্শনী,কর্মশালায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১-এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. জিয়াউর রহমান ও আব্দুল্লাহ আল নোমান, মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক আশরাফুল আলম, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইনজামুল হক, নিরাপদ সড়ক চাই-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. কামরুজ্জামান এবং নিরাপদ সড়ককর্মী সফরা জাহান সেবা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পরিবহনব্যবস্থা বিশ্লেষক পার্থ সারথি দাস।কর্মশালায় প্রশিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপার, ফুটপাত ও জেব্রা ক্রসিংয়ের সঠিক ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, গণপরিবহনে যাত্রী হিসেবে করণীয় এবং পথচারীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা দেন।এ সময় বিআরটিএর পক্ষ থেকে সড়কে চলাচলের নিয়ম, নিরাপদে রাস্তা পারাপার এবং ট্রাফিক আইন অনুসরণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশা পাশি নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পক্ষ থেকে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে সড়ক নিরাপত্তার নিয়মগুলো সহজ ও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিরাপদ সড়কের নকশা ও ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন বা প্রয়োগের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; এর পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা, নিয়ম মেনে চলার মানসিকতা এবং অন্যের নিরাপত্তার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ।সচেতন শিক্ষার্থীই হতে পারে নিরাপদ সড়কের দূত,বক্তারা বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের চালক, যাত্রী ও পথচারী। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই তাদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। একজন শিক্ষার্থী নিজে সচেতন হলে তার পরিবার, সহপাঠী ও আশপাশের মানুষের মধ্যেও নিরাপদ সড়ক সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে।সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের পাশাপাশি পথচারীদেরও নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। তাঁদের মতে, অসতর্কভাবে রাস্তা পারাপার, ফুটপাত ব্যবহার না করা এবং ট্রাফিক সংকেত উপেক্ষা করার মতো আচরণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সড়কে প্রত্যেকের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস সামনে রেখে বিআরটিএর সচেতনতামূলক কর্মসূচি,জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন মেনে চলার মানসিকতা তৈরি এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বিআরটিএ।এরই অংশ হিসেবে বনানী, বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত কর্মশালায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং দীর্ঘমেয়াদে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।