নিজস্ব প্রতিনিধি :
কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর ভূমি অফিসকে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘জবাবদিহি’ পত্রিকার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভূমি অফিসে প্রভাব বিস্তার, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি নিয়মিতভাবে গৌরীপুর ভূমি অফিসে গিয়ে নায়েবের চেয়ারে বসেন এবং অফিসের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। এমনকি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার কথায় প্রভাবিত হন এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জমি-জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের ঘোরানো হয়। কারও কারও অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পরও সমস্যার সমাধান না করে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। জমির কাগজপত্র, দলিল ও মালিকানা সংক্রান্ত অনিয়মের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পেশাদার সাংবাদিকদেরও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘ক্রাইম এক্সপ্রেস’-এর পেশাদার সাংবাদিক সোহাগ তথ্য সংগ্রহের সময় ওই ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে একজন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি এ ধরনের অভিযোগ ওঠে এবং তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পেশাদার সাংবাদিকরাই যদি হেনস্তা বা ভয়ভীতির শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও অনিয়মের তথ্য কীভাবে সামনে আসবে?
সচেতন মহল বলছে, সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হলো সত্য অনুসন্ধান, জনগণের কথা তুলে ধরা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য দায়িত্বশীলভাবে প্রকাশ করা। তাই সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে কেউ যদি সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার, সাধারণ মানুষকে হয়রানি কিংবা পেশাদার সাংবাদিকদের বাধাগ্রস্ত করে থাকেন, তাহলে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
গৌরীপুর ভূমি অফিসে সাংবাদিক পরিচয়ে কারও প্রভাব বিস্তার বা অনিয়মের অভিযোগ সত্য কি না তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে তুলে ধরা জরুরি।